স্পোর্টস ডেস্ক :
এশিয়ান কাপে খেলার স্বপ্ন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর আগের ম্যাচেই নিশ্চিত করে ফেলেছিল মূল পর্বের টিকিট। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচটি তাই ছিল কেবলই নিয়মরক্ষার। এমন ম্যাচে প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত হতাশায় পুড়েছেন হামজা চৌধুরীরা।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সিঙ্গাপুরের মাঠে স্বাগতিকদের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন হারিশ স্টুয়ার্ট।
‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে বাছাই পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া সিঙ্গাপুর জয় নিয়ে শেষ করল বাছাই। ছয় ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে আপাতত তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। দলের চাওয়া ছিল, বাছাই পেরুনোর মূল চাওয়া পূরণ না হলেও শেষটা রাঙানোর, কিন্তু হলো না। এক জয়, দুই ড্র ও তিন হার নিয়ে বাছাই শেষ হলো।
দুটি পরিবর্তন এনে সিঙ্গাপুর ম্যাচের একাদশ সাজান কাবরেরা। ভিয়েতনামের বিপক্ষে সবশেষ প্রীতি ম্যাচে পোস্ট সামলানো মেহেদী হাসান শ্রাবণের জায়গায় ফিরেন নিয়মিত গোলকিপার মিতুল মারমা। আক্রমণভাগে মিরাজুল ইসলামের বদলে সুযোগ পান শেখ মোরসালিন। ভিয়েতনাম ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও সেরা একাদশে ঠাঁই মেলেনি জামাল ভূঁইয়ার; বাকি সময়েও খেলার সুযোগ মেলেনি তার।
শুরু থেকেই দুই দল প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে, কিন্তু গোলকিপারদের পরীক্ষা নিতে পারছিল না কেউ। সপ্তম মিনিটে মিনিটে ডান দিক থেকে ফাহামিদুলের বাড়ানো ক্রস ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের কাছে পৌঁছানোর আগেই ক্লিয়ার করেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট। পঞ্চদশ মিনিটে সাদউদ্দিনের ক্রসে শোমিত সোম হেড করলেও পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়।
২০তম মিনিটে ইখসান ফান্দির জোরাল শট বলের লাইনে থাকায় আটকান মিতুল। একটু পর রিহান স্টুয়ার্টের ক্রস ফিরিয়ে দলকে স্বস্তিতে রাখেন এই গোলকিপার। ২৪তম মিনিটে সোহেল রানার দূরপাল্লার শট উড়ে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে।
বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে ৩১তম মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে আসা ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গ্লেইন কিউইর শট মিতুল ঝাঁপিয়ে ফেরালেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বল ইখসান ফান্দির পা হয়ে চলে যায় হ্যারিসের কাছে, নিখুঁত কোনাকুণি শটে মিতুলকে পরাস্ত করেন তিনি।
৩৯তম মিনিটে সমতার সুবর্ণ সুযোগ পায় বাংলাদেশ। মোরসালিনের শট সাফওয়ান বাহার উদ্দিন ব্লক করার পর সুযোগ আসে ফাহিমের সামনে, কিন্তু তিনি শট নেওয়ার আগে উঠে দাঁড়ানো বাহার উদ্দিনের গায়ে লেগে পড়ে যান। বাংলাদেশ পেনাল্টির আবেদন করলেও সাড়া মেলেনি। একটু পর হামজার ফ্রি কিক হেডে ফেরান এক ডিফেন্ডার, সাদউদ্দিনের শটও যায় পোস্টের বাইরে।
দ্বিতীয়ার্ধেও খেলা এগুতে থাকে একই ধারায়। ৬০তম মিনিটে ফাহিমের বদলি নামেন শাহরিয়ার ইমন। দশ মিনিট পর বিশ্বনাথ ঘোষ ও মিরাজুল ইসলাম নামেন মোরসালিন ও ফাহামিদুলের বদলি। একটু পর ইলহান বাংলাদেশের জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে হয়নি গোল।
৭৪তম মিনিটে সতীর্থের থ্রু পাসের নাগাল ইলহান পাওয়ার আগেই পোস্ট ছেড়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় বেরিয়ে এসে আটকান মিতুল। এরপর পাল্টা আক্রমণে সাদউদ্দিনের পাস ধরে বিশ্বনাথের আড়াআড়ি ক্রসে হামজার শট দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।
বাংলাদেশের হতাশা বাড়ে ৭৯তম মিনিটে। হামজার ক্রসে মিরাজুলের প্লেসিং শট পোস্ট কাঁপিয়ে ফিরে। আক্রমণের গতি বাড়াতে জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানাকে তুলে কাজেম শাহ কিরমানি ও রহমত মিয়াকে নামান কাবরেরা। একটু পরই থ্রো ইনের পর বক্সের জটলার মধ্য থেকে ইমন, সাদ, শোমিত কেউ পারেননি দরকারি টোকা দিতে।
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ইমনের বাড়ানে বলে মিরাজুল পা ছোঁয়ালেও পারেননি গোলকিপারকে পরাস্ত করতে। এরপর রহমতের ক্রসে হামজার দুর্বল হেড দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকান এক ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত বাছাইয়ে তৃতীয় হারের তেতো স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দলকে।
স্পোর্টস ডেস্ক 























