Dhaka বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক কারও পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কতৃক সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক কারও পক্ষে ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়ায় কাউকে বা কোনো আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ নেই। প্রসিকিউশন এমন কোনো চিঠিও শেখ হাসিনা বা তার নিয়োজিত কোনো সংস্থার কাছ থেকে পায়নি। এই চিঠি আদালত অবমাননার শামিল- বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) শেখ হাসিনার পক্ষে একটি ল’ফার্মের চিঠি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আপনাদের মাধ্যমেই আমরা জানতে পেরেছি। আপনাদের মাধ্যমে যে চিঠিটি পেয়েছি। এছাড়াও এটি লন্ডন ভিত্তিক কোনো ফার্ম যদি হয় তাহলে এ জাতীয় ভাষা ব্যবহার করার কথা নয়। এটার কোনো ওয়েবসাইটের অস্তিত্বও আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। ট্রাইব্যুনালে যখন অনেক শক্তিশালী মানুষের বিচার চলছে, তখন নানা নামে আমাদের সংবাদমাধ্যমকে ও জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এগুলো ভিত্তিহীন বিষয়।

তিনি বলেন, পলাতক আসামির পক্ষে পৃথিবীর কোনো ল’ ফার্ম এমন চিঠি দিতে পারে না। দৃশ্যত এটা আদালত অবমাননার শামিল। অফসিয়ালি এই চিঠি পেলে এবং এই চিঠির ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে লন্ডন থেকে ল ফার্ম দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠানোর আইনে কোনো সুযোগ নেই। চিঠিটি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাঠানো হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে আসামিকে সশরীরে হাজির হয়ে আপিল করতে হবে। আসামি অনুপস্থিত থেকে কোনো ল ফার্মের মাধ্যমে চিঠি পাঠানোর সুযোগ নেই।

চিঠিদাতা প্রতিষ্ঠানের কোনো ওয়েবসাইটের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি দাবি করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে যখন বিচার চলছে, অনেক শক্তিশালী মানুষের যখন বিচার চলছে, তখন এই জাতীয় কিংসলে, পিংসলে নানান, মানে প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে আমাদের সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার জন্যে, একটু জনগণকে এটার দৃষ্টিপাত করানোর জন্যে এইরকম কার্যক্রম এটা থাকতেই পারে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারো এমন চিঠি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল বলেন, কিচ্ছু সুযোগ নাই। কিচ্ছুই সুযোগ নাই। উনি কী করে উনাকে, এই ফার্মকে উনি এঙ্গেজ করবেন? তারপরে যদি থাকে, তাহলে সেই ফার্ম, তাদের আইনগত…লিগাল অ্যান্টিটিটা কোথায় এই জাতীয় চিঠি লেখার? বরঞ্চ এই জাতীয় যারা করেন, এটা এইগুলি কনটেমচুয়াস। এইগুলি কনটেমচুয়াস এবং দেখেন ওখানে উনি প্রথম প্যারায় লিখছে, ‘উই অ্যাক্ট অন বিহাফ অফ শেখ হাসিনা’। তার মানে কি শেখ হাসিনার লবিস্ট কি না? তো সেটা যদি উনি লবিস্ট হন, তাহলে তো বোঝাই যায় যে এইগুলি খুব উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, এইগুলি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত বা ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে একটা আলোচনার মধ্যে রাখার জন্য তারা হয়তো এরকম করছে। তো আমরা এইগুলি খুব আমলে নিচ্ছি না। এইগুলি নিয়ে আমরা মোটেও কনসার্ন না।

ট্রাইব্যুনাল তার স্বাভাবিক গতিতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যারা প্রসিকিউশনে কাজ করছি, আমরা এইগুলি নিয়ে আমাদের কথা বলা বা চিন্তা করার সুযোগ নাই, সময় নাই।

শেখ হাসিনার মামলার ইস্যুতে লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলে ন্যাপলির কোনো চিঠি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এবং চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জমা পড়েনি। তবে তারা গণমাধ্যম থেকে চিঠি পাঠানোর সংবাদ জেনেছেন।

জান যায়, ৩০ মার্চ ই-মেইলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠান তার পক্ষে যুক্তরাজ্যের আইনজীবী কিংসলি ন্যাপলি।

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলার সময় তিনি অনুপস্থিত থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিযুক্ত করেন ট্রাইব্যুনাল। আইন অনুযায়ী, এই রায় পরিবর্তন বা বহাল রাখার ক্ষমতা রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ল ফার্ম কিংসলি ন্যাপলির পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে যেভাবে বিচার করা হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ড লঙ্ঘন হয়েছে। শেখ হাসিনার বিচারপ্রক্রিয়াকে অন্যায্য ও অবৈধ বলা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা জানিয়ে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন কিংসলি নেপলি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়লো বিরল ‘ব্রাউন সার্জনফিশ’

সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক কারও পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কতৃক সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক কারও পক্ষে ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়ায় কাউকে বা কোনো আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ নেই। প্রসিকিউশন এমন কোনো চিঠিও শেখ হাসিনা বা তার নিয়োজিত কোনো সংস্থার কাছ থেকে পায়নি। এই চিঠি আদালত অবমাননার শামিল- বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) শেখ হাসিনার পক্ষে একটি ল’ফার্মের চিঠি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আপনাদের মাধ্যমেই আমরা জানতে পেরেছি। আপনাদের মাধ্যমে যে চিঠিটি পেয়েছি। এছাড়াও এটি লন্ডন ভিত্তিক কোনো ফার্ম যদি হয় তাহলে এ জাতীয় ভাষা ব্যবহার করার কথা নয়। এটার কোনো ওয়েবসাইটের অস্তিত্বও আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। ট্রাইব্যুনালে যখন অনেক শক্তিশালী মানুষের বিচার চলছে, তখন নানা নামে আমাদের সংবাদমাধ্যমকে ও জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এগুলো ভিত্তিহীন বিষয়।

তিনি বলেন, পলাতক আসামির পক্ষে পৃথিবীর কোনো ল’ ফার্ম এমন চিঠি দিতে পারে না। দৃশ্যত এটা আদালত অবমাননার শামিল। অফসিয়ালি এই চিঠি পেলে এবং এই চিঠির ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে লন্ডন থেকে ল ফার্ম দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠানোর আইনে কোনো সুযোগ নেই। চিঠিটি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাঠানো হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে আসামিকে সশরীরে হাজির হয়ে আপিল করতে হবে। আসামি অনুপস্থিত থেকে কোনো ল ফার্মের মাধ্যমে চিঠি পাঠানোর সুযোগ নেই।

চিঠিদাতা প্রতিষ্ঠানের কোনো ওয়েবসাইটের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি দাবি করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে যখন বিচার চলছে, অনেক শক্তিশালী মানুষের যখন বিচার চলছে, তখন এই জাতীয় কিংসলে, পিংসলে নানান, মানে প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে আমাদের সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার জন্যে, একটু জনগণকে এটার দৃষ্টিপাত করানোর জন্যে এইরকম কার্যক্রম এটা থাকতেই পারে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারো এমন চিঠি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল বলেন, কিচ্ছু সুযোগ নাই। কিচ্ছুই সুযোগ নাই। উনি কী করে উনাকে, এই ফার্মকে উনি এঙ্গেজ করবেন? তারপরে যদি থাকে, তাহলে সেই ফার্ম, তাদের আইনগত…লিগাল অ্যান্টিটিটা কোথায় এই জাতীয় চিঠি লেখার? বরঞ্চ এই জাতীয় যারা করেন, এটা এইগুলি কনটেমচুয়াস। এইগুলি কনটেমচুয়াস এবং দেখেন ওখানে উনি প্রথম প্যারায় লিখছে, ‘উই অ্যাক্ট অন বিহাফ অফ শেখ হাসিনা’। তার মানে কি শেখ হাসিনার লবিস্ট কি না? তো সেটা যদি উনি লবিস্ট হন, তাহলে তো বোঝাই যায় যে এইগুলি খুব উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, এইগুলি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত বা ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে একটা আলোচনার মধ্যে রাখার জন্য তারা হয়তো এরকম করছে। তো আমরা এইগুলি খুব আমলে নিচ্ছি না। এইগুলি নিয়ে আমরা মোটেও কনসার্ন না।

ট্রাইব্যুনাল তার স্বাভাবিক গতিতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যারা প্রসিকিউশনে কাজ করছি, আমরা এইগুলি নিয়ে আমাদের কথা বলা বা চিন্তা করার সুযোগ নাই, সময় নাই।

শেখ হাসিনার মামলার ইস্যুতে লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলে ন্যাপলির কোনো চিঠি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এবং চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জমা পড়েনি। তবে তারা গণমাধ্যম থেকে চিঠি পাঠানোর সংবাদ জেনেছেন।

জান যায়, ৩০ মার্চ ই-মেইলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠান তার পক্ষে যুক্তরাজ্যের আইনজীবী কিংসলি ন্যাপলি।

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলার সময় তিনি অনুপস্থিত থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিযুক্ত করেন ট্রাইব্যুনাল। আইন অনুযায়ী, এই রায় পরিবর্তন বা বহাল রাখার ক্ষমতা রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ল ফার্ম কিংসলি ন্যাপলির পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে যেভাবে বিচার করা হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ড লঙ্ঘন হয়েছে। শেখ হাসিনার বিচারপ্রক্রিয়াকে অন্যায্য ও অবৈধ বলা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা জানিয়ে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন কিংসলি নেপলি।