Dhaka বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কিছু ব্যক্তি ও মহল ভুল তথ্য ছড়িয়ে গণ্ডগোলের পাঁয়তারা করছে : গভর্নর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০৪ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কিছু ব্যক্তি ও মহল ভুল তথ্য ছড়িয়ে গণ্ডগোলের পাঁয়তারা করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ব্যাংকিং সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গভর্নর বলেন, কিছু লোক টাকার বিনিময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উসকানিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে, গুজব ছড়াচ্ছে; এটি বেশিদিন চলবে না। ১ জানুয়ারি থেকেই ব্যাংকের সব লেনদেন খুলে দেওয়া হয়েছে, আমানতে সর্বোচ্চ ৯.৫ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। একবারে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাচ্ছে।

আমানতের বিপরীতে ঋণ নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুনাফাও উত্তোলন করা যাবে। যে রেজ্যুলেশনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত, তা রাতারাতি করা সম্ভব নয়। শরিয়াহ্ কাউন্সিলের পরামর্শ অনুযায়ী, বিগত দুই বছরে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে মুনাফা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে গ্রাহকের দুরঅবস্থা বিবেচনা করে ৪ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ৫টি ব্যাংকের লোকসানের পরও এই ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হচ্ছে সরকারের অনুদানের মাধ্যমে, যেখানে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বলেন, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ক্ষেত্রে শুধু জমা করা নগদ টাকা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ইসলামী আইন মুনাফার আকারে নয়, অনুদানের আকারে, যা সরকারের বাড়তি খরচ।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, পাঁচ ব্যাংকের এই অবস্থার জন্য দায়ভার সবারই আছে। শুধু সরকার কেন সব দায় নিবে? সরকার বরং প্রত্যাশার তুলনায় বেশি সহায়তা দিয়েছে।

গত ১৪ বছরে ব্যাংকখাতে যেসব অগ্রগতি হয়নি তা গত এক বছরে হয়েছে বলেও জানান গভর্নর। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বন্দকি সম্পত্তির নথি দিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে। এক সম্পদ দিয়ে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া যাবে না।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতের ওপর ১ জানুয়ারি থেকে বাজারভিত্তিক নতুন সুদের হার কার্যকর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এক বছর বা তার বেশি মেয়াদের আমানতে সর্বোচ্চ ৯.৫ শতাংশ এবং ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদে ৯ শতাংশ সুদ দেওয়া হবে। তাছাড়া ডিপোজিটের বিপরীতে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণের সুযোগ আছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গভর্নর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বড় অঙ্কের আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিপোজিটের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমানতকারীদের তারল্য সংকট দ্রুত সমাধান হয়। এ ব্যাংককে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হয়েছে। তবে এর পেছনে বড় কোনো গোষ্ঠীর সমর্থন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমানতকারীদের মূল আমানত পুরোপুরি সুরক্ষিত, তবে তা পর্যায়ক্রমে উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গভর্নর বলেন, ‘কিছু গ্যাপ বা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। সেগুলো পরিষ্কার করতেই আজকের এই সভা। আগে আমরা একটি রেজুলেশন প্ল্যান দিয়েছিলাম, কিন্তু বাস্তবায়নের সময় কিছু জটিলতা দেখা দেয়। সেগুলো আমরা প্রতিদিন পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধান করছি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গুজব ছড়ানোর চেষ্টা, তবে বড় কোনো সমর্থন নেই।

গভর্নর বলেন, কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছেন। তবে এর পেছনে বড় কোনো সমর্থন আছে বলে আমরা মনে করি না।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমানতকারীদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন। কেন একসঙ্গে টাকা তোলা যাচ্ছে না? হঠাৎ করে সব গেট খুলে দিলে ‘স্ট্যাম্পিড উইথড্রল’ হয়ে যেতে পারে। এটা সুইস গেটের মতো—আস্তে আস্তে খুলতে হয়। তাই নিয়ন্ত্রিতভাবে আমানত উত্তোলনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গভর্নর বলেন, শুরুতে ডিমান্ড ডিপোজিট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং স্বল্পমেয়াদি দুটি স্কিমের টাকা প্রথমে উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা তুলতে পারছেন। এর কম থাকলে পুরো টাকাই তুলতে পারছেন। এখন সব স্কিম থেকে টাকা তোলার সুযোগ। কম্পিউটার ও সুদ হিসাবসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে দেরি হলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফিক্সড ডিপোজিট, মানি স্কিমসহ সব ধরনের স্কিম থেকেই এখন টাকা তোলা যাচ্ছে। গতকাল থেকেই এই সুবিধা চালু হয়েছে। বর্তমানে যে কোনো স্কিম থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে। মেয়াদ পূর্তির ক্ষেত্রে আমানত রোলওভার হবে এবং সুদ পর্যায়ক্রমে তোলা যাবে।

গভর্নর বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে বাজারভিত্তিক সুদের হার কার্যকর করা হয়েছে। এক বছর বা তার বেশি মেয়াদের আমানতে সর্বোচ্চ ৯.৫ শতাংশ, ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদে ৯ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। বড় আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা বিষয়ে বলেন, যেসব আমানতকারীর বড় অঙ্কের টাকা রয়েছে কিন্তু পুরোটা তুলতে পারছেন না, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা জানান গভর্নর।

তিনি বলেন, ডিপোজিটের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কারও যদি ২০ কোটি টাকা জমা থাকে, তাহলে তিনি চাইলে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এতে লিকুইডিটির সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে।

গভর্নর বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেম একীভূত করা সময়সাপেক্ষ। সব ভেন্ডরের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। ধাপে ধাপে অনলাইন সেবা, আরটিজিএস ও এটিএম কার্যক্রম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগির সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হলেন ৪০ কর্মকর্তা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কিছু ব্যক্তি ও মহল ভুল তথ্য ছড়িয়ে গণ্ডগোলের পাঁয়তারা করছে : গভর্নর

প্রকাশের সময় : ০৪:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কিছু ব্যক্তি ও মহল ভুল তথ্য ছড়িয়ে গণ্ডগোলের পাঁয়তারা করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ব্যাংকিং সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গভর্নর বলেন, কিছু লোক টাকার বিনিময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উসকানিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে, গুজব ছড়াচ্ছে; এটি বেশিদিন চলবে না। ১ জানুয়ারি থেকেই ব্যাংকের সব লেনদেন খুলে দেওয়া হয়েছে, আমানতে সর্বোচ্চ ৯.৫ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। একবারে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাচ্ছে।

আমানতের বিপরীতে ঋণ নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুনাফাও উত্তোলন করা যাবে। যে রেজ্যুলেশনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত, তা রাতারাতি করা সম্ভব নয়। শরিয়াহ্ কাউন্সিলের পরামর্শ অনুযায়ী, বিগত দুই বছরে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে মুনাফা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে গ্রাহকের দুরঅবস্থা বিবেচনা করে ৪ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ৫টি ব্যাংকের লোকসানের পরও এই ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হচ্ছে সরকারের অনুদানের মাধ্যমে, যেখানে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বলেন, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ক্ষেত্রে শুধু জমা করা নগদ টাকা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ইসলামী আইন মুনাফার আকারে নয়, অনুদানের আকারে, যা সরকারের বাড়তি খরচ।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, পাঁচ ব্যাংকের এই অবস্থার জন্য দায়ভার সবারই আছে। শুধু সরকার কেন সব দায় নিবে? সরকার বরং প্রত্যাশার তুলনায় বেশি সহায়তা দিয়েছে।

গত ১৪ বছরে ব্যাংকখাতে যেসব অগ্রগতি হয়নি তা গত এক বছরে হয়েছে বলেও জানান গভর্নর। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বন্দকি সম্পত্তির নথি দিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে। এক সম্পদ দিয়ে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া যাবে না।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতের ওপর ১ জানুয়ারি থেকে বাজারভিত্তিক নতুন সুদের হার কার্যকর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এক বছর বা তার বেশি মেয়াদের আমানতে সর্বোচ্চ ৯.৫ শতাংশ এবং ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদে ৯ শতাংশ সুদ দেওয়া হবে। তাছাড়া ডিপোজিটের বিপরীতে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণের সুযোগ আছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গভর্নর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বড় অঙ্কের আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিপোজিটের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমানতকারীদের তারল্য সংকট দ্রুত সমাধান হয়। এ ব্যাংককে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হয়েছে। তবে এর পেছনে বড় কোনো গোষ্ঠীর সমর্থন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমানতকারীদের মূল আমানত পুরোপুরি সুরক্ষিত, তবে তা পর্যায়ক্রমে উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গভর্নর বলেন, ‘কিছু গ্যাপ বা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। সেগুলো পরিষ্কার করতেই আজকের এই সভা। আগে আমরা একটি রেজুলেশন প্ল্যান দিয়েছিলাম, কিন্তু বাস্তবায়নের সময় কিছু জটিলতা দেখা দেয়। সেগুলো আমরা প্রতিদিন পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধান করছি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গুজব ছড়ানোর চেষ্টা, তবে বড় কোনো সমর্থন নেই।

গভর্নর বলেন, কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছেন। তবে এর পেছনে বড় কোনো সমর্থন আছে বলে আমরা মনে করি না।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমানতকারীদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন। কেন একসঙ্গে টাকা তোলা যাচ্ছে না? হঠাৎ করে সব গেট খুলে দিলে ‘স্ট্যাম্পিড উইথড্রল’ হয়ে যেতে পারে। এটা সুইস গেটের মতো—আস্তে আস্তে খুলতে হয়। তাই নিয়ন্ত্রিতভাবে আমানত উত্তোলনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গভর্নর বলেন, শুরুতে ডিমান্ড ডিপোজিট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং স্বল্পমেয়াদি দুটি স্কিমের টাকা প্রথমে উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা তুলতে পারছেন। এর কম থাকলে পুরো টাকাই তুলতে পারছেন। এখন সব স্কিম থেকে টাকা তোলার সুযোগ। কম্পিউটার ও সুদ হিসাবসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে দেরি হলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফিক্সড ডিপোজিট, মানি স্কিমসহ সব ধরনের স্কিম থেকেই এখন টাকা তোলা যাচ্ছে। গতকাল থেকেই এই সুবিধা চালু হয়েছে। বর্তমানে যে কোনো স্কিম থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে। মেয়াদ পূর্তির ক্ষেত্রে আমানত রোলওভার হবে এবং সুদ পর্যায়ক্রমে তোলা যাবে।

গভর্নর বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে বাজারভিত্তিক সুদের হার কার্যকর করা হয়েছে। এক বছর বা তার বেশি মেয়াদের আমানতে সর্বোচ্চ ৯.৫ শতাংশ, ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদে ৯ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। বড় আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা বিষয়ে বলেন, যেসব আমানতকারীর বড় অঙ্কের টাকা রয়েছে কিন্তু পুরোটা তুলতে পারছেন না, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা জানান গভর্নর।

তিনি বলেন, ডিপোজিটের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কারও যদি ২০ কোটি টাকা জমা থাকে, তাহলে তিনি চাইলে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এতে লিকুইডিটির সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে।

গভর্নর বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেম একীভূত করা সময়সাপেক্ষ। সব ভেন্ডরের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। ধাপে ধাপে অনলাইন সেবা, আরটিজিএস ও এটিএম কার্যক্রম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগির সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।