নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পানিতে ডুবে নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুজন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে একজনকে।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম সোহাগ (২২)। আহত নারীর নাম রেবা (২০)।
কতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। তার নাম সোহাগ। রেবা নামে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এছাড়া আহত নারী মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সদরঘাট ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জহিরুল ইসলাম বলেন, একটি লঞ্চের পেছন দিকের সিঁড়ি থেকে এক নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তিনি কিছুটা সুস্থ হলে জানান, তিনি তার স্বামী ও শ্বশুরকে নিয়ে একটি ট্রলারে ছিলেন। ট্রলার থেকে লঞ্চে ওঠার সময় হঠাৎ দুই লঞ্চের চাপায় পড়ে যায় তাদের নৌকাটি। ওই সময় তিনি কোনোভাবে একটি লঞ্চের পেছন দিক থেকে উঠে যেতে সক্ষম হলেও তার স্বামী ও শ্বশুরকে আর খুঁজে পাচ্ছেন না।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জাকির সম্রাট (৩) ও আসা-যাওয়া (৫) নামের দুটি লঞ্চের মাঝে নৌকাটি চাপা পড়ে। এছাড়া একটি ভিডিও ফুটেজে একজনকে পানিতে পড়ে যেতে দেখা গেছে । নিখোঁজের আশঙ্কায় আগামীকাল সকাল থেকে পুনরায় তল্লাশি অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে রাতের অন্ধকারে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয় না বলেও তারা জানিয়েছে।
পানিতে পড়ে যাওয়া নারীর নাম বোরা আক্তার (২০)। পুলিশ জানায়, বোরা আক্তার বরিশালের কাশিপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠেছিলেন। এ সময় পাশাপাশি থাকা দুটি লঞ্চের ঘষাঘষির মধ্যে হঠাৎ তিনি নদীতে পড়ে যান। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, আসা যাওয়া- ৫’ লঞ্চের সঙ্গে ট্রলারের সংঘর্ষে সম্ভবত একজন যাত্রী নিহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আরেকজন আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। সদরঘাট ১৪ নং পণ্টুনের কাছেই এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা আপাতত এটুকুই জানতে পেরেছি। বিস্তারিত আমরা জানলে আপনাদের জানাতে পারবো।
নৌপুলিশ সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন স্পটে যাই। সেখানে গিয়ে শুধু লঞ্চের গায়ে রক্ত লেগে থাকতে দেখেছি। আরেকজনকে নদী থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসি। তবে তিনি জীবিত নাকি মৃত সেটা বলকে পারবো না। তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























