নিজস্ব প্রতিবেদক :
সংলাপ নয়, নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি বলে জানান নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম।
বুধবার (১ নভেম্বর) আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, সংবিধানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধ পরিকর। নির্বাচনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের করণীয় সম্পর্কে বৈঠকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোটের সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মকর্তাদের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সচিব, মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করা। এজন্য স্ব স্ব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের যা কিছু করণীয় রয়েছে তা অবহিত করা হয়। নতুন যে বিধি বিধান রয়েছে তার আলোকে কি করণীয় তা তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। আজকের সভায় জনপ্রশাসন ও জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের ২৯ জন কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্য রেখেছেন। নির্বাচনে যা যা করণীয় তারা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক বাস্তবায়ন করবেন বলে কমিশনকে আশ্বস্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনও তাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে করে নির্বাচন পিচফুলি সুন্দরভাবে আয়োজন হয়।
ইসি সচিব আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, তথ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, নৌ পরিবহন, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ, মাধ্যমিক শিক্ষা, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যার যেটুকু করণীয় সেই বিষয়টুকু স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে করে নির্বাচনের সময় কোথাও কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কমিশন তাদের বক্তব্যও ধৈর্য সহকারে শুনেছেন। নির্বাচন কমিশন যে সহায়তা প্রত্যাশা করেন, তারা তাদের সেই সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ইসি সচিব আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। আমরা কিছু গাইডলাইন দেখিয়েছিলাম সেই আলোকে আলোচনা হয়েছে, সবগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালটে ভোট হবে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, আইনের আলোকে শুধু এবার না সবসময় ভোট দেওয়া যায় এবারও যাবে।
ঋণ খেলাপি প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, আইন যে সংশোধন হয়েছে নমিনেশন জমা দেওয়ার সর্বশেষ যে তারিখ আছে ওই দিনের আগের দিন পর্যন্ত যারা ঋণ খেলাপি তারা টাকা পয়সা জমা দেবেন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় তারা যাতে রিটার্নিং অফিসারের কাছে হালনাগাদ তথ্য জমা দিতে পারেন।
দুর্গম এলাকায় ব্যালট পেপার পাঠানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে জাহাংগীর আলম বলেন, আমি অনেক আগেই বলেছি, নির্বাচন কমিশনের বার্তা একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা। এর জন্য সংবিধান যাদের ওপরে যে দায়িত্ব দিয়েছে সেই দায়িত্ব তারা যাতে যথাযথভাবে পালন করবেন।
সংলাপের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের বিনীতভাবে জানাতে চাই, ইসি সংলাপের আয়োজন করেননি। তবে নিবন্ধিত যে রাজনৈতিক দলগুলো রয়েছে সেই পার্টি থেকে দুই জন করে মনোনীত ব্যক্তিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক অথবা তাদের মনোনীত দুজন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কমিশন যে সব আয়োজন করছে সেই বিষয়ে অবহিতকরণ করা হবে।
৪৪টা রাজনৈতিক দলের মধ্য বিএনপিও আছে। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক যে প্রেক্ষাপট কেউ পলাতক কেউ জেলে। বিএনপি যদি বলে তাদের কোনো প্রতিনিধিও নাই। তাহলে কি করা হবে। বিএনপি যদি সময় চায় তখন কি করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘নো কমেন্ট’।