Dhaka রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না ১৭ কোটি টাকার সেতু

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি : 

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝিনাই নদের ওপর ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে নবনির্মিত পিসি গার্ডার সেতুটি যানবাহন পারাপারে কাজে আসছে না। সেতুর উভয় পাড়ে সংযোগ সড়ক পাকা না করে কাজ ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সেতুর উভয় অংশে ১২০ মিটার নালা ও নদীভাঙন থেকে রক্ষায় ব্লক স্থাপন করা হয়নি। এতে সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন দুই উপজেলার বাসিন্দাদের যানবাহনে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার পোড়াবাড়ী থেকে গোপালপুর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ বাইপাস সড়ক তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পিংনা নামক স্থানে যুক্ত হয়েছে। সড়কটির ঝাওয়াইল বাজার এলাকায় ঝিনাই নদের ওপর একসময় বেইলি সেতু ছিল।

সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির মুখে সড়ক ও জনপথ (সওজ) পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ট্রাক-বাস ছাড়াও হাজারো যানবাহন যাতায়াত করত। কিন্তু ঝিনাই ব্রিজ নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় এবং এখনো সামান্য কাজ ফেলে রাখায় টানা দুই বছর দুই জেলায় পণ্য পরিবহন, সড়কপথে যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাই নদের ওপর আশির দশকের দিকে নির্মিত বেইলি সেতুটি ভেঙে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ গার্ডার সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তের পর ২০২৪ সালের শুরুতে কাজের উদ্বোধন করা হয়। কাজ পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন।

ঝাওয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, ব্রিজের পূর্ব পাড়ে টাঙ্গাইলের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ২০১ গম্বুজ মসজিদ অবস্থিত। প্রতিদিন বিশেষ করে শুক্রবারসহ ছুটির দিনে হাজারো পর্যটক এটি পরিদর্শন এবং নামাজ আদায় করতে আসেন। টানা দুই বছর ব্রিজ নির্মাণ চলমান থাকায় কোনো যানবাহন নদের পশ্চিম পাড়ে যেতে পারেন না।

নজরুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে আর শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। নদের পশ্চিম পাড়ে ব্যবসাকেন্দ্র, ঝাওয়াইল বাজার এবং এর আশপাশে একটি বয়েজ ও একটি গার্লস হাইস্কুল, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি মাদ্রাসা, দুটি ব্যাংক, একটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র, তহশিল অফিস, পোস্ট অফিস এবং তিনটি এনজিও অফিস অবস্থিত। নদের পূর্ব পাড়েও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাদ্রাসা রয়েছে। ঝাওয়াইল বাজারে বিপুলসংখ্যক হাটুরে ছাড়াও হাজারো শিক্ষার্থী, অফিস কর্মচারী এবং পর্যটককে নদ পারাপারে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের পর ঠিকাদার সংযোগ সড়কে বালু ফেলে পাকাকরণের কাজ বন্ধ রাখেন। ফলে ছোট যানবাহন ছাড়া বড় কোনো যানবাহন সেতুর ওপরে উঠতে পারছে না। এমনকি বালু ফেলে রাখায় ছোট যানবাহন ও যাত্রীদেরও চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হয়।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার কামাল হোসেন বলেন, কাজের শুরুতেই চাঁদাবাজদের পাল্লায় পড়তে হয়। চাঁদার দাবিতে শ্রমিকদের কয়েক দফা মারধর করায় কাজ কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকে। সেতুর কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সওজ তহবিল সংকটের অজুহাতে বকেয়া দিচ্ছে না। বিল আটকে থাকায় অর্থের অভাবে কাজ সম্পন্ন করতে হিমশিম খাচ্ছি। সেতুর উভয় অংশে ১২০ মিটার দীর্ঘ নালা, নদীভাঙন থেকে সেতু রক্ষায় ব্লক স্থাপন এবং সংযোগ সড়ক পাকা করা বাকি রয়েছে।

সওজ মধুপুরের উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, পিএমপি (মেজর সেতু-কালভার্ট) প্রকল্পের আওতায় ঝিনাই নদের ঝাওয়াইল ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। এখন সড়কের উভয় পাশে কিছু খাসজমি জবরদখলে রয়েছে। এসব জমি পুনরুদ্ধার করার জন্য গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জবরদখলি ভূমি পুনরুদ্ধার হলেই সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসছে। সেতুটি চালু না হলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও আনুষঙ্গিক কাজ বিঘ্নিত হবে। এ জন্য দ্রুত খাসজমি পুনরুদ্ধার করে সেতুর বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর সমর্থন গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ’ : প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না ১৭ কোটি টাকার সেতু

প্রকাশের সময় : ০২:৩৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি : 

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝিনাই নদের ওপর ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে নবনির্মিত পিসি গার্ডার সেতুটি যানবাহন পারাপারে কাজে আসছে না। সেতুর উভয় পাড়ে সংযোগ সড়ক পাকা না করে কাজ ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সেতুর উভয় অংশে ১২০ মিটার নালা ও নদীভাঙন থেকে রক্ষায় ব্লক স্থাপন করা হয়নি। এতে সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন দুই উপজেলার বাসিন্দাদের যানবাহনে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার পোড়াবাড়ী থেকে গোপালপুর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ বাইপাস সড়ক তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পিংনা নামক স্থানে যুক্ত হয়েছে। সড়কটির ঝাওয়াইল বাজার এলাকায় ঝিনাই নদের ওপর একসময় বেইলি সেতু ছিল।

সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির মুখে সড়ক ও জনপথ (সওজ) পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ট্রাক-বাস ছাড়াও হাজারো যানবাহন যাতায়াত করত। কিন্তু ঝিনাই ব্রিজ নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় এবং এখনো সামান্য কাজ ফেলে রাখায় টানা দুই বছর দুই জেলায় পণ্য পরিবহন, সড়কপথে যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাই নদের ওপর আশির দশকের দিকে নির্মিত বেইলি সেতুটি ভেঙে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ গার্ডার সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তের পর ২০২৪ সালের শুরুতে কাজের উদ্বোধন করা হয়। কাজ পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন।

ঝাওয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, ব্রিজের পূর্ব পাড়ে টাঙ্গাইলের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ২০১ গম্বুজ মসজিদ অবস্থিত। প্রতিদিন বিশেষ করে শুক্রবারসহ ছুটির দিনে হাজারো পর্যটক এটি পরিদর্শন এবং নামাজ আদায় করতে আসেন। টানা দুই বছর ব্রিজ নির্মাণ চলমান থাকায় কোনো যানবাহন নদের পশ্চিম পাড়ে যেতে পারেন না।

নজরুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে আর শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। নদের পশ্চিম পাড়ে ব্যবসাকেন্দ্র, ঝাওয়াইল বাজার এবং এর আশপাশে একটি বয়েজ ও একটি গার্লস হাইস্কুল, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি মাদ্রাসা, দুটি ব্যাংক, একটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র, তহশিল অফিস, পোস্ট অফিস এবং তিনটি এনজিও অফিস অবস্থিত। নদের পূর্ব পাড়েও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাদ্রাসা রয়েছে। ঝাওয়াইল বাজারে বিপুলসংখ্যক হাটুরে ছাড়াও হাজারো শিক্ষার্থী, অফিস কর্মচারী এবং পর্যটককে নদ পারাপারে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের পর ঠিকাদার সংযোগ সড়কে বালু ফেলে পাকাকরণের কাজ বন্ধ রাখেন। ফলে ছোট যানবাহন ছাড়া বড় কোনো যানবাহন সেতুর ওপরে উঠতে পারছে না। এমনকি বালু ফেলে রাখায় ছোট যানবাহন ও যাত্রীদেরও চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হয়।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার কামাল হোসেন বলেন, কাজের শুরুতেই চাঁদাবাজদের পাল্লায় পড়তে হয়। চাঁদার দাবিতে শ্রমিকদের কয়েক দফা মারধর করায় কাজ কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকে। সেতুর কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সওজ তহবিল সংকটের অজুহাতে বকেয়া দিচ্ছে না। বিল আটকে থাকায় অর্থের অভাবে কাজ সম্পন্ন করতে হিমশিম খাচ্ছি। সেতুর উভয় অংশে ১২০ মিটার দীর্ঘ নালা, নদীভাঙন থেকে সেতু রক্ষায় ব্লক স্থাপন এবং সংযোগ সড়ক পাকা করা বাকি রয়েছে।

সওজ মধুপুরের উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, পিএমপি (মেজর সেতু-কালভার্ট) প্রকল্পের আওতায় ঝিনাই নদের ঝাওয়াইল ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। এখন সড়কের উভয় পাশে কিছু খাসজমি জবরদখলে রয়েছে। এসব জমি পুনরুদ্ধার করার জন্য গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জবরদখলি ভূমি পুনরুদ্ধার হলেই সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসছে। সেতুটি চালু না হলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও আনুষঙ্গিক কাজ বিঘ্নিত হবে। এ জন্য দ্রুত খাসজমি পুনরুদ্ধার করে সেতুর বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।