Dhaka বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ষড়যন্ত্রকারী একটা পালাইছে, আরেকটা ষড়যন্ত্র করছে : তারেক রহমান

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপি চেয়ারম্যান ত্যারেক রহমান বলেন, ভোট চুরি করা একটি পক্ষ ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু আবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে আরও একটি পক্ষ। এই দুই পক্ষ তলে তলে একসঙ্গে ছিল গত ১৫ বছর।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, এই ১৫ বছরে তারা কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল না, ভেতরে ভেতরে এরা দুই পক্ষই একসঙ্গে ছিল। তারা নির্বাচনে চক্রান্তের সুযোগ খুঁজছে এখন। একটাতো পালাইছে, আরেকটা ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, একটি দলের ষড়যন্ত্র, ওই ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। একটা পক্ষ তো পালিয়ে গিয়েছে দেশ থেকে। কিন্তু আরেকটা পক্ষ আছে যারা এই দুই পক্ষ আবার আগে থেকে একসাথেই ছিল। এই দুই পক্ষ কিন্তু বিভিন্ন সময় একসাথেই ছিল, তলে তলে একসাথেই ছিল। গত ১৬ বছরেও আপনারা মাঠে ঘাটে কোথাও ওদেরকে পেয়েছেন, আন্দোলন সংগ্রামে তাদেরকে পেয়েছেন ? কোথাও ছিল না। ওই ভেতরে ভেতরে কিন্তু তাদের সাথেই ছিল এরা। এখন এরা আবার ষড়যন্ত্র শুরু করছেবিভিন্ন রকম। এখন আপনাদেরকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে—যাতে ষড়যন্ত্র করে আপনাদের ভোট এদিক-ওদিক না করে।

ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের মতো ষড়যন্ত্র চলছে। ভোটকেন্দ্রে লাইন আছে, কিন্তু লাইন আর নড়ে চড়ে না। কিন্তু দেখা গেছে ভেতরে সিল মারা শুরু হয়ে গেছে। এটা করতে দেয়া যাবে না। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভোর থেকে কেন্দ্রে থাকতে হবে। ভোটশেষে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, কেউ যেনো বাক্স ভরাট করতে না পারে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৬ বছর আপনাদের এলাকার কোনো উন্নতি হয় নাই। গত ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় নাই। গত ১৬ বছর বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন হয় নাই। হ্যাঁ, ঢাকা শহরসহ কয়েকটি শহরে কিছু কিছু বড় বড় ফ্লাইওভার হয়েছে, কিছু কিছু বড় বড় দালান হয়েছেৃ। মেগা প্রজেক্ট হয়েছে, কিন্তু মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি হয়েছে। আমরা চাই গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে; আমরা চাই জেলা শহরের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে; আমরা চাই উপজেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে; আমরা চাই আমাদের ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়া সুনিশ্চিত করতে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থীরা যখন বিভিন্ন দাবি দাওয়া দিচ্ছিল, তার মধ্যে আরেকটি দাবি দাওয়া ছিল যে এখানকার মানুষের চিকিৎসার খুব সমস্যা হয়। এই সমস্যা আমি দেখলাম শুধু নওগাঁ জেলায় নয়, আমিতো ভাই প্রায় ১৭ বছর দেশে ছিলাম না। এখন যখন আসলাম, দেখলাম চারিদিকে—শুধু সমস্যা আর সমস্যা। সেজন্যই আপনাদের কাছে জিজ্ঞেস করলাম— ভাই ১৭ বছর কি কোনো কামকাজ হয় নাই? তাইতো দেখলাম, এখন কিছুই হয় নাই। যেখানে যাই, শুধু এইটা করতে হবে, ওইটা করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই আমাদের নারীদেরকে স্বাবলম্বী করতে, মা বোনদেরকে স্বাবলম্বী করতে। আমরা চাই আমাদের বেকার যুবক ভাই যারা আছে, তরুণ ভাই যারা আছে, বোনেরা যারা আছে—তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। আমরা চাই, দেশের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করতে—যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করবে, নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে, রাতে নিরাপদে ঘরে যাতে ঘুমাতে পারে। আমরা সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন প্রথমবার সরকার গঠন করলেন, তখন উনি ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন সব উনি মওকুফ করে দিয়েছিলেনৃআজকে সকালেই আমি রাজশাহীতে ঘোষণা দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে এখন এই মুহূর্তে যে সকল কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে, আমরা সেই ঋণ সুদসহ পুরাটা মওকুফ করব ইনশাআল্লাহ।

তারেক রহমান বলেন, সারা বাংলাদেশের সকল কৃষক ভাইদের কাছে আমরা একটি কার্ড দিব, ‘কৃষক কার্ড’ নাম। এ কার্ডটির নাম ‘কৃষক কার্ড’ শুনছেন এর মধ্যে? এটি আমরা ধীরে ধীরে, একবারে তো পারব না—ধীরে ধীরে আমাদেরকে যেতে হবে; কিন্তু সব রকম প্রান্তিক কৃষক বলেন, ক্ষুদ্র কৃষক বলেন, মাঝারি কৃষক বলেন, বৃহত্তর কৃষক বলেন—সব কৃষক ভাইদের হাতে আমরা আস্তে আস্তে এই কৃষি কার্ডটা পৌঁছে দিব।

তিনি বলেন, মায়েদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড নামে একটি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই এবং এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এটি দলমত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাই পাবে। একজন কৃষকের স্ত্রী পাবে, একজন ইমাম সাহেবের স্ত্রী পাবে, একজন ভ্যান চালকের স্ত্রী পাবে, একজন স্কুল মাস্টার- প্রাইমারি স্কুল মাস্টার হোক হেডমাস্টার সাহেব হোক—উনার স্ত্রীও পাবে অর্থাৎ সব ধরনের মানুষ পাবে। খেটে খাওয়া মানুষসহ সবাই এটা পাবে, কোনো দলমত থাকবে না এটা সবাই পাবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ যার পাশে থাকে কেউ তাকে আটকাতে পারে না। জনগণ পাশে ছিল বলেই বিএনপিকে কেউ আটকাতে পারেনি। বিএনপি আজ এই পর্যায়ে এসেছে মানুষের ভালোবাসায়। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। কাজেই আমার পরিকল্পনায় বলেছি, এখন আপনাদের পরিকল্পনা ১২ তারিখে বিএনপিকে জয়ী করা।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নওগাঁয় শীতের মধ্যে এসে কম্বল দিয়েছি। এই নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অনেক অবদান রেখেছে। এখানে এসে শুনছি শুধু দাবি আর দাবি। এত দাবি থাকলে গত ১৭ বছরে কী উন্নয়ন হলো? গত ১৭ বছরে কোনও উন্নয়ন হয়নি? আমরা যেহেতু এই দেশেই থাকবো, কাজেই আমাদের এই দেশের উন্নয়ন করতে হবে। প্লেনে চড়ে আমাদের তো আর হুট করে পালিয়ে যাওয়ার কোনও জায়গা নেই।

জয়পুরহাট জেলার দুটি আসন ও নওগাঁর ছয়টি আসনের আট জন প্রার্থীকে পরিচয় করে দিয়ে নির্বাচিত করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘তারা নির্বাচিত হয়ে এলাকায় কাজ করবে। কাজেই আপনাদের এলাকার দাবি ও সমস্যা যারা দেখবেন তাদের নির্বাচিত করবেন। এই জেলা ধানের ভান্ডার, এখানে বছরে তিনবার ধান উৎপাদন হয়। যেটা জিয়াউর রহমানের আমলে শুরু হয়েছিল বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার পর। আমাদের প্রধান পেশা কৃষি। সেই জন্য কৃষকদের ভালো রাখতে হবে এবং সুবিধা দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছিলেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করবো। এটা আমি রাজশাহীতে বলেছি, এখানেও বলছি। শুধু ঋণ মওকুফ করবো না, আমরা সব কৃষককে কার্ড দেবো। এই কৃষি কার্ড দিয়ে একটা ফসলের সব কিছু তুলে নিতে পারবেন কৃষক। যাতে ওই কৃষকের অর্থনৈতিক ভিত শক্ত হয় এবং প্রাকৃতিক ক্ষতি মোকাবিলা করতে পারেন। বর্তমানে এই জেলা আমের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু হিমাগার না থাকার অনেক ক্ষেত্রে আম পচে যায়। এ জন্য রেললাইন সংযোগের দিকে নজর দেবো। যাতে স্বল্প মূল্যে ও স্বল্প সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আম পাঠাতে পারেন কৃষক। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে মেয়েদের পড়াশোনা পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেবো। আর ছেলেদের খেলার জন্য আলাদাভাবে চিন্তা করছি। শুধু পড়াশোনা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে কেন? খেলোয়াড় হয়ে সুনাম অর্জন করা যায়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক আয় করা যায়। গ্রামের মা ও বাচ্চাদের জন্য হেলথ কেয়ার দেবো।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের দাবি আমি পূরণ করবো। কিন্তু আপনারা কী করবেন। আপনারা ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়ী করবেন।’

গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের বিপক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে অজস্র মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। হতাহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। তারা ভোটাধিকারের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দিতে হবে।

নওগাঁয় রেললাইন স্থাপন, কৃষি পণ্যের জন্য হিমাগার স্থাপনে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি পূরণে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান নওগাঁ ও জয়পুরহাটের ৮টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ধানের শীষ ভোট চান। তারা হলেন—মোস্তাফিজুর রহমান (নওগাঁ-১), সামসুজ্জোহা খান (নওগাঁ-২), ফজলে হুদা (নওগাঁ-৩), ইকরামুল বারী টিপু (নওগাঁ-৪), জাহিদুল ইসলাম ধলু (নওগাঁ-৫), শেখ মো. রেজাউল ইসলাম (নওগাঁ-৬); মাসুদ রানা প্রধান (জয়পুরহাট-১) ও আব্দুল বারী (জয়পুরহাট-২)।

নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা. ইকরামুর বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু ও নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম এবং জয়পুরহাট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল বারী। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও নওগাঁ পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজমুল হক সনি, রাজশাহী বিভাগের নেতা ওবায়দুল হক চন্দন বক্তব্য রাখেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা : সেরা নায়ক নিশো, সেরা নায়িকা পুতুল

ষড়যন্ত্রকারী একটা পালাইছে, আরেকটা ষড়যন্ত্র করছে : তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপি চেয়ারম্যান ত্যারেক রহমান বলেন, ভোট চুরি করা একটি পক্ষ ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু আবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে আরও একটি পক্ষ। এই দুই পক্ষ তলে তলে একসঙ্গে ছিল গত ১৫ বছর।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, এই ১৫ বছরে তারা কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল না, ভেতরে ভেতরে এরা দুই পক্ষই একসঙ্গে ছিল। তারা নির্বাচনে চক্রান্তের সুযোগ খুঁজছে এখন। একটাতো পালাইছে, আরেকটা ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, একটি দলের ষড়যন্ত্র, ওই ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। একটা পক্ষ তো পালিয়ে গিয়েছে দেশ থেকে। কিন্তু আরেকটা পক্ষ আছে যারা এই দুই পক্ষ আবার আগে থেকে একসাথেই ছিল। এই দুই পক্ষ কিন্তু বিভিন্ন সময় একসাথেই ছিল, তলে তলে একসাথেই ছিল। গত ১৬ বছরেও আপনারা মাঠে ঘাটে কোথাও ওদেরকে পেয়েছেন, আন্দোলন সংগ্রামে তাদেরকে পেয়েছেন ? কোথাও ছিল না। ওই ভেতরে ভেতরে কিন্তু তাদের সাথেই ছিল এরা। এখন এরা আবার ষড়যন্ত্র শুরু করছেবিভিন্ন রকম। এখন আপনাদেরকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে—যাতে ষড়যন্ত্র করে আপনাদের ভোট এদিক-ওদিক না করে।

ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের মতো ষড়যন্ত্র চলছে। ভোটকেন্দ্রে লাইন আছে, কিন্তু লাইন আর নড়ে চড়ে না। কিন্তু দেখা গেছে ভেতরে সিল মারা শুরু হয়ে গেছে। এটা করতে দেয়া যাবে না। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভোর থেকে কেন্দ্রে থাকতে হবে। ভোটশেষে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, কেউ যেনো বাক্স ভরাট করতে না পারে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৬ বছর আপনাদের এলাকার কোনো উন্নতি হয় নাই। গত ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় নাই। গত ১৬ বছর বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন হয় নাই। হ্যাঁ, ঢাকা শহরসহ কয়েকটি শহরে কিছু কিছু বড় বড় ফ্লাইওভার হয়েছে, কিছু কিছু বড় বড় দালান হয়েছেৃ। মেগা প্রজেক্ট হয়েছে, কিন্তু মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি হয়েছে। আমরা চাই গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে; আমরা চাই জেলা শহরের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে; আমরা চাই উপজেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে; আমরা চাই আমাদের ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়া সুনিশ্চিত করতে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থীরা যখন বিভিন্ন দাবি দাওয়া দিচ্ছিল, তার মধ্যে আরেকটি দাবি দাওয়া ছিল যে এখানকার মানুষের চিকিৎসার খুব সমস্যা হয়। এই সমস্যা আমি দেখলাম শুধু নওগাঁ জেলায় নয়, আমিতো ভাই প্রায় ১৭ বছর দেশে ছিলাম না। এখন যখন আসলাম, দেখলাম চারিদিকে—শুধু সমস্যা আর সমস্যা। সেজন্যই আপনাদের কাছে জিজ্ঞেস করলাম— ভাই ১৭ বছর কি কোনো কামকাজ হয় নাই? তাইতো দেখলাম, এখন কিছুই হয় নাই। যেখানে যাই, শুধু এইটা করতে হবে, ওইটা করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই আমাদের নারীদেরকে স্বাবলম্বী করতে, মা বোনদেরকে স্বাবলম্বী করতে। আমরা চাই আমাদের বেকার যুবক ভাই যারা আছে, তরুণ ভাই যারা আছে, বোনেরা যারা আছে—তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। আমরা চাই, দেশের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করতে—যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করবে, নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে, রাতে নিরাপদে ঘরে যাতে ঘুমাতে পারে। আমরা সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন প্রথমবার সরকার গঠন করলেন, তখন উনি ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন সব উনি মওকুফ করে দিয়েছিলেনৃআজকে সকালেই আমি রাজশাহীতে ঘোষণা দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে এখন এই মুহূর্তে যে সকল কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে, আমরা সেই ঋণ সুদসহ পুরাটা মওকুফ করব ইনশাআল্লাহ।

তারেক রহমান বলেন, সারা বাংলাদেশের সকল কৃষক ভাইদের কাছে আমরা একটি কার্ড দিব, ‘কৃষক কার্ড’ নাম। এ কার্ডটির নাম ‘কৃষক কার্ড’ শুনছেন এর মধ্যে? এটি আমরা ধীরে ধীরে, একবারে তো পারব না—ধীরে ধীরে আমাদেরকে যেতে হবে; কিন্তু সব রকম প্রান্তিক কৃষক বলেন, ক্ষুদ্র কৃষক বলেন, মাঝারি কৃষক বলেন, বৃহত্তর কৃষক বলেন—সব কৃষক ভাইদের হাতে আমরা আস্তে আস্তে এই কৃষি কার্ডটা পৌঁছে দিব।

তিনি বলেন, মায়েদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড নামে একটি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই এবং এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এটি দলমত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাই পাবে। একজন কৃষকের স্ত্রী পাবে, একজন ইমাম সাহেবের স্ত্রী পাবে, একজন ভ্যান চালকের স্ত্রী পাবে, একজন স্কুল মাস্টার- প্রাইমারি স্কুল মাস্টার হোক হেডমাস্টার সাহেব হোক—উনার স্ত্রীও পাবে অর্থাৎ সব ধরনের মানুষ পাবে। খেটে খাওয়া মানুষসহ সবাই এটা পাবে, কোনো দলমত থাকবে না এটা সবাই পাবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ যার পাশে থাকে কেউ তাকে আটকাতে পারে না। জনগণ পাশে ছিল বলেই বিএনপিকে কেউ আটকাতে পারেনি। বিএনপি আজ এই পর্যায়ে এসেছে মানুষের ভালোবাসায়। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। কাজেই আমার পরিকল্পনায় বলেছি, এখন আপনাদের পরিকল্পনা ১২ তারিখে বিএনপিকে জয়ী করা।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নওগাঁয় শীতের মধ্যে এসে কম্বল দিয়েছি। এই নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অনেক অবদান রেখেছে। এখানে এসে শুনছি শুধু দাবি আর দাবি। এত দাবি থাকলে গত ১৭ বছরে কী উন্নয়ন হলো? গত ১৭ বছরে কোনও উন্নয়ন হয়নি? আমরা যেহেতু এই দেশেই থাকবো, কাজেই আমাদের এই দেশের উন্নয়ন করতে হবে। প্লেনে চড়ে আমাদের তো আর হুট করে পালিয়ে যাওয়ার কোনও জায়গা নেই।

জয়পুরহাট জেলার দুটি আসন ও নওগাঁর ছয়টি আসনের আট জন প্রার্থীকে পরিচয় করে দিয়ে নির্বাচিত করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘তারা নির্বাচিত হয়ে এলাকায় কাজ করবে। কাজেই আপনাদের এলাকার দাবি ও সমস্যা যারা দেখবেন তাদের নির্বাচিত করবেন। এই জেলা ধানের ভান্ডার, এখানে বছরে তিনবার ধান উৎপাদন হয়। যেটা জিয়াউর রহমানের আমলে শুরু হয়েছিল বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার পর। আমাদের প্রধান পেশা কৃষি। সেই জন্য কৃষকদের ভালো রাখতে হবে এবং সুবিধা দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছিলেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করবো। এটা আমি রাজশাহীতে বলেছি, এখানেও বলছি। শুধু ঋণ মওকুফ করবো না, আমরা সব কৃষককে কার্ড দেবো। এই কৃষি কার্ড দিয়ে একটা ফসলের সব কিছু তুলে নিতে পারবেন কৃষক। যাতে ওই কৃষকের অর্থনৈতিক ভিত শক্ত হয় এবং প্রাকৃতিক ক্ষতি মোকাবিলা করতে পারেন। বর্তমানে এই জেলা আমের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু হিমাগার না থাকার অনেক ক্ষেত্রে আম পচে যায়। এ জন্য রেললাইন সংযোগের দিকে নজর দেবো। যাতে স্বল্প মূল্যে ও স্বল্প সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আম পাঠাতে পারেন কৃষক। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে মেয়েদের পড়াশোনা পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেবো। আর ছেলেদের খেলার জন্য আলাদাভাবে চিন্তা করছি। শুধু পড়াশোনা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে কেন? খেলোয়াড় হয়ে সুনাম অর্জন করা যায়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক আয় করা যায়। গ্রামের মা ও বাচ্চাদের জন্য হেলথ কেয়ার দেবো।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের দাবি আমি পূরণ করবো। কিন্তু আপনারা কী করবেন। আপনারা ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়ী করবেন।’

গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের বিপক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে অজস্র মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। হতাহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। তারা ভোটাধিকারের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দিতে হবে।

নওগাঁয় রেললাইন স্থাপন, কৃষি পণ্যের জন্য হিমাগার স্থাপনে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি পূরণে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান নওগাঁ ও জয়পুরহাটের ৮টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ধানের শীষ ভোট চান। তারা হলেন—মোস্তাফিজুর রহমান (নওগাঁ-১), সামসুজ্জোহা খান (নওগাঁ-২), ফজলে হুদা (নওগাঁ-৩), ইকরামুল বারী টিপু (নওগাঁ-৪), জাহিদুল ইসলাম ধলু (নওগাঁ-৫), শেখ মো. রেজাউল ইসলাম (নওগাঁ-৬); মাসুদ রানা প্রধান (জয়পুরহাট-১) ও আব্দুল বারী (জয়পুরহাট-২)।

নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা. ইকরামুর বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু ও নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম এবং জয়পুরহাট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল বারী। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও নওগাঁ পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজমুল হক সনি, রাজশাহী বিভাগের নেতা ওবায়দুল হক চন্দন বক্তব্য রাখেন।