Dhaka রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লজ্জার হারে বিশ্বকাপে সবার আগে বিদায় বাংলাদেশের

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৩
  • ১৯২ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর টানা পাঁচ হার বাংলাদেশের। দলের এমন বিপর্যয়ের মূল কারণ ব্যাটিং ব্যর্থতা। বিশেষভাবে বলতে গেলে টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতা। আরও এক টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতায় হতাশার হার সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। সেইসঙ্গে বিশ্বকাপে টানা ষষ্ঠ হারের তেঁতো স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। এবার ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের কাছে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে সাকিব আল হাসানের দল। এই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে বাংলাদেশের। স্বপ্নের চিঠির নতুন ঠিকানা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা পাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ এখন বেশ সংশয়েই পড়ে গেলো তাই।

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ব্যাটে বলে কখনোই আধিপত্য বিস্তার করা হয়নি বাংলাদেশের। ব্যাট হাতে যেমন ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তেমনি ছিল একেবারেই নিরীহদর্শন বোলিং। একপেশে ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে বাবর আজমের দল। এই জয়ের পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দৌড়ে এখনও টিকে রইলো পাকিস্তান।

২০৫ রানের স্বল্প লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছেন দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক এবং ফখর জামান। রানখরায় ভুগতে থাকা ফখর যেন নতুন জীবন পেলেন আজকের এই ম্যাচ থেকে। শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। আর ছন্দে থাকা শফিক নিয়মিত যন্ত্রণাই বাড়িয়েছেন বোলারদের। সাদামাটা বোলিংয়ে পার্থক্য গড়ার মত স্পেল ছিল না কারোরই। প্রথম দশ ওভারেই এসেছে ৫২ রান।

শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান কেউই পারেননি নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে। বাধ্য হয়ে বল ঘোরাতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তকেও। তবে কাজের কাজ হয়নি।

পাকিস্তানের প্রথম উইকেটের পতন ঘটে ২২তম ওভারে। এলবিডব্লিউতে আব্দুল্লাহ শফিককে ফেরান মেহেদি মিরাজ। তবে শফিক ততক্ষণে এবারের বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। মিরাজের বলে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৬৮ রানের ইনিংস। ১২৮ রানে প্রথম উইকেটের পতন।

বাবর আজম এসে খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। ১৬ বলে ৯ করেই ফিরে গিয়েছেন সাজঘরে। এবারও উইকেট মিরাজের। ক্যাচটা নিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। আর সেঞ্চুরির দিকে ছুটতে থাকা ফখর জামান থেমেছেন ৮১ রানে। তাকেও ফিরিয়েছেন মিরাজই। বাউন্ডারি লাইনে রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় এই ওপেনারকে।

এরপর ক্রিজে থাকা ইফতেখার আহমেদ আর মোহাম্মদ রিজওয়ান দেখেশুনেই ইনিংস শেষ করেছেন। এই ম্যাচের পর ৭ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের। আর ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখনও সেমির আশা বাঁচিয়ে রেখেছে পাকিস্তান।

বাংলাদেশের পক্ষে একাই তিন উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

এর আগে কলকাতায় টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ওয়ানডে বিশ্বকাপের এবারের আসরে টাইগারদের টপ অর্ডার মানেই পাওয়া প্লেতে সাজঘরে ফিরে যাওয়া। নিজেদের সপ্তম ম্যাচে এসেও বরাবরের মতো সেই ধারা আজ অব্যাহত রেখেছে টিম টাইগার্স।

পাওয়ার প্লেতে ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো হয়নি লাল-সবুজ দলের। প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার তানজিদ তামিম। এরপর ক্রিজে এসে দাঁড়াতেই পারেননি টপ অর্ডার ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র ৩ বলে খেলে ৪ রান করে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নের পথে। এই টপ অর্ডারই শাহিন শাহ আফ্রিদির শিকার হয়েছেন। দলীয় ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ক্রিজে নামেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। হারিস রউফের করা ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ানের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপাকে বাংলাদেশ।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে দলের হাল ধরেছেন ওপেনার লিটন দাস ও অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এই দুই ডানহাতি ব্যাটার মিলে ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দিয়েছেন। পাকিস্তান বোলারদের দেখেশুনে খেলেছেন তারা।

মিডেল ওভারে (১১-২০) কোন উইকেট না হারিয়ে তুলেছেন ৫৯ রান। দুই ব্যাটারের জুটিতে ২১তম ওভারেই দলের শতরান পূরণ হয়েছে। তবে হঠাৎ ইফতিখার আহমেদের বলে বাজে এক শট খেলে ৬৪ বলে ৪৫ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন লিটন।

লিটন ফিরে গেলেও নিজের অর্ধশতক তুলে নেন অভিজ্ঞ রিয়াদ। তবে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলার পর ৫৬ রান করে আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন সাইলেন্ট কিলার। রিয়াদের পর ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ৭ রান করে ফিরেছেন ওসামা মীরের ঘূর্ণিতে।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে জুটি গড়েন সাকিব। তাদের ৪৫ রানের জুটি ভাঙেন পেসার হারিস রউফ। ৬৪ বলে ৪৩ রান করে সাজঘরে ফিরেন টাইগার অধিনায়ক। শেষ দিকে মিরাজের ২৪ রানের ইনিংসে স্কোরবোর্ডে ২০০ রান তুলে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি পেসারদের বোলিং তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই ২০৪ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা।

পাকিস্তানের হয়ে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র। দু’টি উইকেট নেন হারিস রউফ। একটি করে উইকেট শিকার করেন উসামা মীর ও ইফতিখার আহমেদ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার : ইসি সচিব

লজ্জার হারে বিশ্বকাপে সবার আগে বিদায় বাংলাদেশের

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৩

স্পোর্টস ডেস্ক : 

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর টানা পাঁচ হার বাংলাদেশের। দলের এমন বিপর্যয়ের মূল কারণ ব্যাটিং ব্যর্থতা। বিশেষভাবে বলতে গেলে টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতা। আরও এক টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতায় হতাশার হার সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। সেইসঙ্গে বিশ্বকাপে টানা ষষ্ঠ হারের তেঁতো স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। এবার ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের কাছে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে সাকিব আল হাসানের দল। এই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে বাংলাদেশের। স্বপ্নের চিঠির নতুন ঠিকানা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা পাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ এখন বেশ সংশয়েই পড়ে গেলো তাই।

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ব্যাটে বলে কখনোই আধিপত্য বিস্তার করা হয়নি বাংলাদেশের। ব্যাট হাতে যেমন ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তেমনি ছিল একেবারেই নিরীহদর্শন বোলিং। একপেশে ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে বাবর আজমের দল। এই জয়ের পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দৌড়ে এখনও টিকে রইলো পাকিস্তান।

২০৫ রানের স্বল্প লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছেন দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক এবং ফখর জামান। রানখরায় ভুগতে থাকা ফখর যেন নতুন জীবন পেলেন আজকের এই ম্যাচ থেকে। শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। আর ছন্দে থাকা শফিক নিয়মিত যন্ত্রণাই বাড়িয়েছেন বোলারদের। সাদামাটা বোলিংয়ে পার্থক্য গড়ার মত স্পেল ছিল না কারোরই। প্রথম দশ ওভারেই এসেছে ৫২ রান।

শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান কেউই পারেননি নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে। বাধ্য হয়ে বল ঘোরাতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তকেও। তবে কাজের কাজ হয়নি।

পাকিস্তানের প্রথম উইকেটের পতন ঘটে ২২তম ওভারে। এলবিডব্লিউতে আব্দুল্লাহ শফিককে ফেরান মেহেদি মিরাজ। তবে শফিক ততক্ষণে এবারের বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। মিরাজের বলে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৬৮ রানের ইনিংস। ১২৮ রানে প্রথম উইকেটের পতন।

বাবর আজম এসে খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। ১৬ বলে ৯ করেই ফিরে গিয়েছেন সাজঘরে। এবারও উইকেট মিরাজের। ক্যাচটা নিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। আর সেঞ্চুরির দিকে ছুটতে থাকা ফখর জামান থেমেছেন ৮১ রানে। তাকেও ফিরিয়েছেন মিরাজই। বাউন্ডারি লাইনে রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় এই ওপেনারকে।

এরপর ক্রিজে থাকা ইফতেখার আহমেদ আর মোহাম্মদ রিজওয়ান দেখেশুনেই ইনিংস শেষ করেছেন। এই ম্যাচের পর ৭ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের। আর ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখনও সেমির আশা বাঁচিয়ে রেখেছে পাকিস্তান।

বাংলাদেশের পক্ষে একাই তিন উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

এর আগে কলকাতায় টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ওয়ানডে বিশ্বকাপের এবারের আসরে টাইগারদের টপ অর্ডার মানেই পাওয়া প্লেতে সাজঘরে ফিরে যাওয়া। নিজেদের সপ্তম ম্যাচে এসেও বরাবরের মতো সেই ধারা আজ অব্যাহত রেখেছে টিম টাইগার্স।

পাওয়ার প্লেতে ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো হয়নি লাল-সবুজ দলের। প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার তানজিদ তামিম। এরপর ক্রিজে এসে দাঁড়াতেই পারেননি টপ অর্ডার ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র ৩ বলে খেলে ৪ রান করে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নের পথে। এই টপ অর্ডারই শাহিন শাহ আফ্রিদির শিকার হয়েছেন। দলীয় ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ক্রিজে নামেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। হারিস রউফের করা ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ানের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপাকে বাংলাদেশ।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে দলের হাল ধরেছেন ওপেনার লিটন দাস ও অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এই দুই ডানহাতি ব্যাটার মিলে ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দিয়েছেন। পাকিস্তান বোলারদের দেখেশুনে খেলেছেন তারা।

মিডেল ওভারে (১১-২০) কোন উইকেট না হারিয়ে তুলেছেন ৫৯ রান। দুই ব্যাটারের জুটিতে ২১তম ওভারেই দলের শতরান পূরণ হয়েছে। তবে হঠাৎ ইফতিখার আহমেদের বলে বাজে এক শট খেলে ৬৪ বলে ৪৫ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন লিটন।

লিটন ফিরে গেলেও নিজের অর্ধশতক তুলে নেন অভিজ্ঞ রিয়াদ। তবে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলার পর ৫৬ রান করে আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন সাইলেন্ট কিলার। রিয়াদের পর ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ৭ রান করে ফিরেছেন ওসামা মীরের ঘূর্ণিতে।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে জুটি গড়েন সাকিব। তাদের ৪৫ রানের জুটি ভাঙেন পেসার হারিস রউফ। ৬৪ বলে ৪৩ রান করে সাজঘরে ফিরেন টাইগার অধিনায়ক। শেষ দিকে মিরাজের ২৪ রানের ইনিংসে স্কোরবোর্ডে ২০০ রান তুলে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি পেসারদের বোলিং তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই ২০৪ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা।

পাকিস্তানের হয়ে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র। দু’টি উইকেট নেন হারিস রউফ। একটি করে উইকেট শিকার করেন উসামা মীর ও ইফতিখার আহমেদ।