Dhaka বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোববার বা সোমবার মধ্যে জামায়াত জোটের আসন সংখ্যার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হতে পারে : নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রোববার বা সোমবার মধ্যে জামায়াত জোটের আসন সংখ্যার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনি প্রস্তুতিতে আমি বলব, বিএনপির জোট থেকে জামায়াত ও এনসিপির জোট অনেকখানি এগিয়ে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জানিয়েছি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে আমাদের এখন পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস নেই। একটি বিশেষ দলকে সুবিধাকে করে দিতে সিগন্যালিং করা হচ্ছে। ঋণ খেলাপি থাকা অনেকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নানাভাবে নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।

তিনি দাবি করেন, মিডিয়ার একদিকে ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতা আমরা দেখতে পাচ্ছি। এনসিপিকে নিয়ে মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে নানা ধরনের নেতিবাচক যে নিউজ বা ফলস নিউজ বিশেষত কয়েকটি মিডিয়াতে এটি টার্গেট ভাবে করা হচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) একটি বড় ও শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে। ইইউ চায় নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হোক এবং ফল ঘোষণার পর সবাই যেন তা গ্রহণ করে-এতে গণতান্ত্রিক রূপান্তরও নির্বিঘ্ন হবে।

তিনি বলেন, ইইউ প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা ও উদ্বেগ জানতে আগ্রহী। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছে। একই সঙ্গে এনসিপিকেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইইউ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে এমন আত্মবিশ্বাস বা ঐকমত্য সব রাজনৈতিক দলের নেই, এমনকি এনসিপিরও নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ প্রোটোকল দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পক্ষপাতের বার্তা যাচ্ছে, যা নির্বাচনী মাঠে অসমতা তৈরি করতে পারে।

মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছু মূলধারার গণমাধ্যম এনসিপিকে লক্ষ্য করে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছে। প্রশাসন ও মিডিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি এনসিপির।

তিনি বলেন, এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে বারবার জানানো হচ্ছে এবং ধারাবাহিকভাবে আপডেট দেয়া হবে। মাঠে গিয়ে কী ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, তাও কমিশনকে জানানো হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ঋণখেলাপিদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে অনেক ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার অভিযোগ এসেছে। এছাড়া পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়- এটাই এনসিপির প্রত্যাশা।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মাঠে একটি নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। তবুও এনসিপি মাঠে কাজ চালিয়ে যাবে এবং ২১ তারিখের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আরও জোরদার করবে।

আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপির অবস্থান শিগগিরই স্পষ্ট হবে। আগামী ১১ বা ১২ তারিখের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

তিনি দাবি করেন, জামায়াত ও এনসিপির জোট নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে এবং গণভোটের পক্ষে ইতিমধ্যে প্রচারণা শুরু হয়েছে। আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে আর বড় কোনও চ্যালেঞ্জ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নির্বাচনী মাঠে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হত্যাকারীরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতা রয়ে গেছে।

এ সময় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেল প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

টিএসসিতে দুই নারীকে লাঞ্ছনায় ঢাবির তিন শিক্ষার্থী বহিষ্কার

রোববার বা সোমবার মধ্যে জামায়াত জোটের আসন সংখ্যার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হতে পারে : নাহিদ ইসলাম

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রোববার বা সোমবার মধ্যে জামায়াত জোটের আসন সংখ্যার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনি প্রস্তুতিতে আমি বলব, বিএনপির জোট থেকে জামায়াত ও এনসিপির জোট অনেকখানি এগিয়ে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জানিয়েছি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে আমাদের এখন পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস নেই। একটি বিশেষ দলকে সুবিধাকে করে দিতে সিগন্যালিং করা হচ্ছে। ঋণ খেলাপি থাকা অনেকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নানাভাবে নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।

তিনি দাবি করেন, মিডিয়ার একদিকে ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতা আমরা দেখতে পাচ্ছি। এনসিপিকে নিয়ে মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে নানা ধরনের নেতিবাচক যে নিউজ বা ফলস নিউজ বিশেষত কয়েকটি মিডিয়াতে এটি টার্গেট ভাবে করা হচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) একটি বড় ও শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে। ইইউ চায় নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হোক এবং ফল ঘোষণার পর সবাই যেন তা গ্রহণ করে-এতে গণতান্ত্রিক রূপান্তরও নির্বিঘ্ন হবে।

তিনি বলেন, ইইউ প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা ও উদ্বেগ জানতে আগ্রহী। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছে। একই সঙ্গে এনসিপিকেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইইউ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে এমন আত্মবিশ্বাস বা ঐকমত্য সব রাজনৈতিক দলের নেই, এমনকি এনসিপিরও নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ প্রোটোকল দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পক্ষপাতের বার্তা যাচ্ছে, যা নির্বাচনী মাঠে অসমতা তৈরি করতে পারে।

মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছু মূলধারার গণমাধ্যম এনসিপিকে লক্ষ্য করে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছে। প্রশাসন ও মিডিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি এনসিপির।

তিনি বলেন, এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে বারবার জানানো হচ্ছে এবং ধারাবাহিকভাবে আপডেট দেয়া হবে। মাঠে গিয়ে কী ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, তাও কমিশনকে জানানো হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ঋণখেলাপিদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে অনেক ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার অভিযোগ এসেছে। এছাড়া পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়- এটাই এনসিপির প্রত্যাশা।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মাঠে একটি নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। তবুও এনসিপি মাঠে কাজ চালিয়ে যাবে এবং ২১ তারিখের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আরও জোরদার করবে।

আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপির অবস্থান শিগগিরই স্পষ্ট হবে। আগামী ১১ বা ১২ তারিখের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

তিনি দাবি করেন, জামায়াত ও এনসিপির জোট নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে এবং গণভোটের পক্ষে ইতিমধ্যে প্রচারণা শুরু হয়েছে। আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে আর বড় কোনও চ্যালেঞ্জ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নির্বাচনী মাঠে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হত্যাকারীরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতা রয়ে গেছে।

এ সময় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেল প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।