Dhaka রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় অনুষ্ঠিত হয়।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় বাড়ছে সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব এটা।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, একনেক সভায় ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি প্রকল্পের অনুমোদন। ২টা একনেক হওয়ার কথা ছিল। সেটি না করে ১টা করায় প্রকল্প বেশি হয়েছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার খুব বেশি নতুন প্রকল্প নেয়নি বলে জানান ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সেইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধির পুরো অর্থই মিলবে প্রকল্প ঋণ থেকে। তাতে প্রকল্পের খরচা ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ টাকায়।

১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে পাবনার রূপপুরে। সেখানে দুটি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট করে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

এই নির্মাণ ব্যয়ের ১০ শতাংশের অর্থায়ন করার ছিল সরকারের, বাকি ৯০ শতাংশ রাশিয়া ঋণ হিসাবে দিচ্ছিল।

তবে একনেক সভায় সরকারের অর্থায়নের পরিমাণ ১৬৬ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। তাতে সরকারের অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়াবে ২১ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা; এতদিন যা ছিল ২২ হাজার ৫২ কোটি টাকা।

সরকার যে পরিমাণ অর্থায়ন কমাবে, তাও আসবে প্রকল্প ঋণ থেকে। এর ফলে প্রকল্পের ঋণ দাঁড়াল ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকায়; যা আগে ছিল ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ হবে ৬০ বছর। পরে তা আরও ২০ বছর বাড়ানো যাবে।

২০১৩ সালের অক্টোবরেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লি ও পানি শীতলকারী ডোমের কংক্রিট ঢালাই কাজ উদ্বোধন করেন।

২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও মহামারীর জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে ইউক্রেইন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আরো বিলম্বিত হয়। সংশোধিত অনুমোদনের ফলে এর শেষ হওয়ার সময় ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় অনুষ্ঠিত হয়।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় বাড়ছে সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব এটা।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, একনেক সভায় ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি প্রকল্পের অনুমোদন। ২টা একনেক হওয়ার কথা ছিল। সেটি না করে ১টা করায় প্রকল্প বেশি হয়েছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার খুব বেশি নতুন প্রকল্প নেয়নি বলে জানান ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সেইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধির পুরো অর্থই মিলবে প্রকল্প ঋণ থেকে। তাতে প্রকল্পের খরচা ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ টাকায়।

১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে পাবনার রূপপুরে। সেখানে দুটি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট করে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

এই নির্মাণ ব্যয়ের ১০ শতাংশের অর্থায়ন করার ছিল সরকারের, বাকি ৯০ শতাংশ রাশিয়া ঋণ হিসাবে দিচ্ছিল।

তবে একনেক সভায় সরকারের অর্থায়নের পরিমাণ ১৬৬ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। তাতে সরকারের অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়াবে ২১ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা; এতদিন যা ছিল ২২ হাজার ৫২ কোটি টাকা।

সরকার যে পরিমাণ অর্থায়ন কমাবে, তাও আসবে প্রকল্প ঋণ থেকে। এর ফলে প্রকল্পের ঋণ দাঁড়াল ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকায়; যা আগে ছিল ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ হবে ৬০ বছর। পরে তা আরও ২০ বছর বাড়ানো যাবে।

২০১৩ সালের অক্টোবরেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লি ও পানি শীতলকারী ডোমের কংক্রিট ঢালাই কাজ উদ্বোধন করেন।

২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও মহামারীর জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে ইউক্রেইন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আরো বিলম্বিত হয়। সংশোধিত অনুমোদনের ফলে এর শেষ হওয়ার সময় ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।