Dhaka সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রিয়ালকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতলো বার্সেলোনা

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৭ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

রোমাঞ্চ, নাটক আর গোলের বন্যায় জমে উঠেছিল স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল। ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুই দল। বিশেষ করে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মাত্র কয়েক মিনিটে তিনটি গোল হয়ে পরিস্থিতি চূড়ায় পৌঁছে যায়। দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ, তবে তৃতীয় ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে শিরোপা ধরে রাখল বার্সেলোনা।

সৌদি আরবের জেদ্দায় রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৩-২ গোলে জয় পায় হান্সি ফ্লিকের দল। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপে রেকর্ড ১৬তম শিরোপা ঘরে তুলল কাতালানরা। গত মৌসুমের ফাইনালেও রিয়ালকে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল বার্সেলোনা।

গত মৌসুমে দুটি ফাইনালসহ রিয়ালের বিপক্ষে চারবারের দেখায় সবকটিতে জিতলেও, এই মৌসুমে প্রথম ক্লাসিকোয় অক্টোবরে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে লা লিগার ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে যায় বার্সেলোনা। এবার ভিন্ন প্রতিযোগিতা হলেও, সেই হারের ক্ষতেও প্রলেপ দিতে পারল তারা।

সেমি-ফাইনালের মতো ফাইনালেও জোড়া গোল করে বার্সেলোনার নায়ক রাফিনিয়া। তার গোলেই এগিয়ে যায় দল। ১৬ ম্যাচের গোল-খরা কাটিয়ে রেয়ালকে সমতায় ফেরান ভিনিসিউস জুনিয়র। পরক্ষণেই বার্সেলোনার দ্বিতীয় গোল করেন রবের্ত লেভানদোভস্কি। সেই গোল শোধ করে দেন গন্সালো গার্সিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে রাফিনিয়ার দ্বিতীয় গোল গড়ে দেয় ব্যবধান। ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামা বার্সেলোনা ৬৮ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৬টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। রেয়ালের ১২ শটের ১০টি লক্ষ্যে ছিল।

সেমি-ফাইনালে আথলেতিক বিলবাওকে ৫-০ গোলে হারানো ম্যাচ থেকে একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক। দুই গোলদাতা ফেররান তরেস ও রুনি বার্দগিকে বেঞ্চে রেখে লামিনে ইয়ামাল ও লেভানদোভস্কিকে ফেরান তিনি।

আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারানো ম্যাচ থেকে শুধু আন্টোনিও রুডিগারের জায়গায় ডিন হাউসেনকে একাদশে ফেরান রেয়াল কোচ শাবি আলোন্সো।

বার্সেলোনা শুরুতে একচেটিয়া বল দখলে রাখলেও প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় রেয়াল। চতুর্দশ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিউস। সামনে একমাত্র বাধা গোলরক্ষক। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকার শটে খুব বেশি জোর ছিল না, ঠেকিয়ে দেন হোয়ান গার্সিয়া। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচ জিতে মাঠে নামা বার্সেলোনা প্রথম লক্ষ্যে শট রাখতে পারে ২৮তম মিনিটে। যদিও থিবো কোর্তোয়া বরাবর শট করেন রাফিনিয়া।

৩৩তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পায় আগের পাঁচ ম্যাচ জয়ী রিয়াল। কিন্তু বক্সে ঢুকে ওয়ান-অন-ওয়ানে দুর্বল শটে শতাশ করেন গন্সালো গার্সিয়া। এক মিনিট পর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন রাফিনিয়া। ইয়ামালের দারুণ পাস বক্সে পেয়ে বাইরে মারেন তিনি। সেই হতাশা পরের মিনিটেই ঝেড়ে ফেলে দলকে এগিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

ফের্মিন লোপেসের পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সামনে ছিলেন অহেলিয়া চুয়ামেনি। রিয়াল মিডফিল্ডারকে কোনো সুযোগ না দিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন রাফিনিয়া।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে চমৎকার গোলে সমতা ফেরান ভিনিসিউস। গার্সিয়ার পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে যান তিনি। জুল কুন্দের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। সেখানে আরেক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে নিচু শটে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। গত ৪ অক্টোবরের পর এই প্রথম রিয়ালের হয়ে গোলের দেখা পেলেন ভিনিসিউস।

চতুর্থ মিনিটে লেভানদোভস্কির গোল আবার এগিয়ে দেয় বার্সেলোনাকে। দারুণ পাস দেন পেদ্রি। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে বক্সে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা কোর্তোয়ার ওপর দিয়ে লব শট নেন পোলিশ তারকা, বল পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ষষ্ঠ মিনিটে ফের সমতায় ফেরে রেয়াল। কর্নারে হাউসেনের হেড রাফিনিয়ার মাথা ছুঁয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। জটলার ভেতর নিচে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে শট করেন গার্সিয়া। বল ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে জালে জড়ায়। তিন মিনিট যোগ করা সময় শেষ হয় ৯ মিনিটে গিয়ে!

একবিংশ শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো ক্লাসিকোয় ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দেখা গেল তিন গোল। ৫২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিউসের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গার্সিয়া। ফিরতি বল উড়িয়ে মারেন ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার। দুই মিনিট পর বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় বার্সেলোনা। রাফিনিয়ার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

৫৭তম মিনিটে পেদ্রিকে রিয়াল ডিফেন্ডার রাউল আসেন্সিওর ফাউল করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় দুই দলের মধ্যে। হলুদ কার্ড দেখেন রিয়ালের ফেদেরিকো ভালভের্দে ও আসেন্সিও এবং বার্সেলোনার এরিক গার্সিয়া। ৬৬তম মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন বার্সেলোনা কোচ। লেভানদোভস্কি ও লোপেসের বদলি হিসেবে ফেররান তোরেস ও দানি ওলমোকে নামান তিনি। একটু পরই ভালভের্দেকে তুলে আর্দা গিলেরকে নামান রিয়াল কোচ।

৭১তম মিনিটে আবার এগিয়ে যেতে পারত বার্সেলোনা। ১০ গজ দূর থেকে স্লাইডে ইয়ামালের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। এক মিনিট পরই তৃতীয় গোলের দেখা পায় কাতালান দলটি। বক্সের ভেতর স্লিপ করে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে রাফিনিয়ার শট আসেন্সিওর পায়ে লেগে জালে জড়ায়। বার্সেলোনার হয়ে সবশেষ পাঁচ ম্যাচে রাফিনিয়ার সপ্তম গোল এটি।

একটু পরই গার্সিয়ার বদলি নামেন কিলিয়ান এমবাপে, ফাইনালে আগে যাকে উড়িয়ে নেওয়া হয় সৌদি আরবে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে এই ফরাসি তারকাকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং।

বাকি সময়ে সুযোগ পায় দুই দলই। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা বার্সেলোনার মার্কাস র‌্যাশফোর্ড বল মারেন বাইরে। ১২ গজ দূর থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন রেয়ালের আলভারো কারেরাস। শেষ মুহূর্তে আসেন্সিওর হেড ঠেকান গার্সিয়া।

ফ্লিকের কোচিংয়ে বার্সেলোনার চতুর্থ ট্রফি এটি। কোচিং ক্যারিয়ারে আট ফাইনালের সবকটিতে জিতলেন এই জার্মান কোচ।

পরাজয়ের পর রিয়াল কোচ আলোনসো মোভিস্টারকে বলেন, ‘যেভাবেই হারুন না কেন, সেটি কষ্টের। তবে ম্যাচটি ছিল খুব সমানে-সমান। আমরা সমতায় ফেরার খুব কাছে ছিলাম, শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি। আমি বার্সাকে অভিনন্দন জানাই।’

বার্সা স্ট্রাইকার লেভানডোভস্কি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা খুব খুশি। মাদ্রিদের সঙ্গে খেলা সবসময়ই বড় ম্যাচ। আমরা দারুণ খেলেছি এবং শিরোপা জিতেছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।’

এই জয়ে রিয়ালের টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের ধারা থামে। কোচ আলোনসোর অধীনে এখনও কোনো শিরোপা জিততে পারেনি মাদ্রিদ। অন্যদিকে বার্সেলোনা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ জিতেছে। তারা লা লিগার শীর্ষেও রয়েছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রিয়ালকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতলো বার্সেলোনা

প্রকাশের সময় : ১২:৪২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

রোমাঞ্চ, নাটক আর গোলের বন্যায় জমে উঠেছিল স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল। ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুই দল। বিশেষ করে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মাত্র কয়েক মিনিটে তিনটি গোল হয়ে পরিস্থিতি চূড়ায় পৌঁছে যায়। দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ, তবে তৃতীয় ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে শিরোপা ধরে রাখল বার্সেলোনা।

সৌদি আরবের জেদ্দায় রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৩-২ গোলে জয় পায় হান্সি ফ্লিকের দল। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপে রেকর্ড ১৬তম শিরোপা ঘরে তুলল কাতালানরা। গত মৌসুমের ফাইনালেও রিয়ালকে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল বার্সেলোনা।

গত মৌসুমে দুটি ফাইনালসহ রিয়ালের বিপক্ষে চারবারের দেখায় সবকটিতে জিতলেও, এই মৌসুমে প্রথম ক্লাসিকোয় অক্টোবরে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে লা লিগার ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে যায় বার্সেলোনা। এবার ভিন্ন প্রতিযোগিতা হলেও, সেই হারের ক্ষতেও প্রলেপ দিতে পারল তারা।

সেমি-ফাইনালের মতো ফাইনালেও জোড়া গোল করে বার্সেলোনার নায়ক রাফিনিয়া। তার গোলেই এগিয়ে যায় দল। ১৬ ম্যাচের গোল-খরা কাটিয়ে রেয়ালকে সমতায় ফেরান ভিনিসিউস জুনিয়র। পরক্ষণেই বার্সেলোনার দ্বিতীয় গোল করেন রবের্ত লেভানদোভস্কি। সেই গোল শোধ করে দেন গন্সালো গার্সিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে রাফিনিয়ার দ্বিতীয় গোল গড়ে দেয় ব্যবধান। ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামা বার্সেলোনা ৬৮ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৬টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। রেয়ালের ১২ শটের ১০টি লক্ষ্যে ছিল।

সেমি-ফাইনালে আথলেতিক বিলবাওকে ৫-০ গোলে হারানো ম্যাচ থেকে একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক। দুই গোলদাতা ফেররান তরেস ও রুনি বার্দগিকে বেঞ্চে রেখে লামিনে ইয়ামাল ও লেভানদোভস্কিকে ফেরান তিনি।

আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারানো ম্যাচ থেকে শুধু আন্টোনিও রুডিগারের জায়গায় ডিন হাউসেনকে একাদশে ফেরান রেয়াল কোচ শাবি আলোন্সো।

বার্সেলোনা শুরুতে একচেটিয়া বল দখলে রাখলেও প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় রেয়াল। চতুর্দশ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিউস। সামনে একমাত্র বাধা গোলরক্ষক। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকার শটে খুব বেশি জোর ছিল না, ঠেকিয়ে দেন হোয়ান গার্সিয়া। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচ জিতে মাঠে নামা বার্সেলোনা প্রথম লক্ষ্যে শট রাখতে পারে ২৮তম মিনিটে। যদিও থিবো কোর্তোয়া বরাবর শট করেন রাফিনিয়া।

৩৩তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পায় আগের পাঁচ ম্যাচ জয়ী রিয়াল। কিন্তু বক্সে ঢুকে ওয়ান-অন-ওয়ানে দুর্বল শটে শতাশ করেন গন্সালো গার্সিয়া। এক মিনিট পর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন রাফিনিয়া। ইয়ামালের দারুণ পাস বক্সে পেয়ে বাইরে মারেন তিনি। সেই হতাশা পরের মিনিটেই ঝেড়ে ফেলে দলকে এগিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

ফের্মিন লোপেসের পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সামনে ছিলেন অহেলিয়া চুয়ামেনি। রিয়াল মিডফিল্ডারকে কোনো সুযোগ না দিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন রাফিনিয়া।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে চমৎকার গোলে সমতা ফেরান ভিনিসিউস। গার্সিয়ার পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে যান তিনি। জুল কুন্দের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। সেখানে আরেক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে নিচু শটে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। গত ৪ অক্টোবরের পর এই প্রথম রিয়ালের হয়ে গোলের দেখা পেলেন ভিনিসিউস।

চতুর্থ মিনিটে লেভানদোভস্কির গোল আবার এগিয়ে দেয় বার্সেলোনাকে। দারুণ পাস দেন পেদ্রি। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে বক্সে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা কোর্তোয়ার ওপর দিয়ে লব শট নেন পোলিশ তারকা, বল পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ষষ্ঠ মিনিটে ফের সমতায় ফেরে রেয়াল। কর্নারে হাউসেনের হেড রাফিনিয়ার মাথা ছুঁয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। জটলার ভেতর নিচে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে শট করেন গার্সিয়া। বল ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে জালে জড়ায়। তিন মিনিট যোগ করা সময় শেষ হয় ৯ মিনিটে গিয়ে!

একবিংশ শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো ক্লাসিকোয় ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দেখা গেল তিন গোল। ৫২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিউসের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গার্সিয়া। ফিরতি বল উড়িয়ে মারেন ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার। দুই মিনিট পর বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় বার্সেলোনা। রাফিনিয়ার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

৫৭তম মিনিটে পেদ্রিকে রিয়াল ডিফেন্ডার রাউল আসেন্সিওর ফাউল করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় দুই দলের মধ্যে। হলুদ কার্ড দেখেন রিয়ালের ফেদেরিকো ভালভের্দে ও আসেন্সিও এবং বার্সেলোনার এরিক গার্সিয়া। ৬৬তম মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন বার্সেলোনা কোচ। লেভানদোভস্কি ও লোপেসের বদলি হিসেবে ফেররান তোরেস ও দানি ওলমোকে নামান তিনি। একটু পরই ভালভের্দেকে তুলে আর্দা গিলেরকে নামান রিয়াল কোচ।

৭১তম মিনিটে আবার এগিয়ে যেতে পারত বার্সেলোনা। ১০ গজ দূর থেকে স্লাইডে ইয়ামালের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। এক মিনিট পরই তৃতীয় গোলের দেখা পায় কাতালান দলটি। বক্সের ভেতর স্লিপ করে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে রাফিনিয়ার শট আসেন্সিওর পায়ে লেগে জালে জড়ায়। বার্সেলোনার হয়ে সবশেষ পাঁচ ম্যাচে রাফিনিয়ার সপ্তম গোল এটি।

একটু পরই গার্সিয়ার বদলি নামেন কিলিয়ান এমবাপে, ফাইনালে আগে যাকে উড়িয়ে নেওয়া হয় সৌদি আরবে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে এই ফরাসি তারকাকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং।

বাকি সময়ে সুযোগ পায় দুই দলই। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা বার্সেলোনার মার্কাস র‌্যাশফোর্ড বল মারেন বাইরে। ১২ গজ দূর থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন রেয়ালের আলভারো কারেরাস। শেষ মুহূর্তে আসেন্সিওর হেড ঠেকান গার্সিয়া।

ফ্লিকের কোচিংয়ে বার্সেলোনার চতুর্থ ট্রফি এটি। কোচিং ক্যারিয়ারে আট ফাইনালের সবকটিতে জিতলেন এই জার্মান কোচ।

পরাজয়ের পর রিয়াল কোচ আলোনসো মোভিস্টারকে বলেন, ‘যেভাবেই হারুন না কেন, সেটি কষ্টের। তবে ম্যাচটি ছিল খুব সমানে-সমান। আমরা সমতায় ফেরার খুব কাছে ছিলাম, শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি। আমি বার্সাকে অভিনন্দন জানাই।’

বার্সা স্ট্রাইকার লেভানডোভস্কি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা খুব খুশি। মাদ্রিদের সঙ্গে খেলা সবসময়ই বড় ম্যাচ। আমরা দারুণ খেলেছি এবং শিরোপা জিতেছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।’

এই জয়ে রিয়ালের টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের ধারা থামে। কোচ আলোনসোর অধীনে এখনও কোনো শিরোপা জিততে পারেনি মাদ্রিদ। অন্যদিকে বার্সেলোনা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ জিতেছে। তারা লা লিগার শীর্ষেও রয়েছে।