Dhaka শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও নতুন মন্ত্রিসভা প্রায় চূড়ান্ত, আলোচনায় আছেন যারা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১১:৩৭:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৬৪ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর মন্ত্রিসভা গঠন শুরু হবে এবং এর আকার নির্ধারণ করবে বিজয়ী দল।

জানা গেছে, মন্ত্রিসভা গঠনে নতুন বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তাতে অভিজ্ঞ ও তরুণ নির্বাচিতদের পাশাপাশি টেকনোক্রেট কোটায়ও যুক্ত হচ্ছেন কেউ কেউ।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ২০০১-২০০৬ মেয়াদের কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতির জন্য ও ড. আব্দুল মঈন খানকে স্পিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয় পাওয়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ হলেও দলকেও এনে দিয়েছেন কাঙ্ক্ষিত বিজয়। তার দলের এককভাবে সরকার গঠন এখন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষা মাত্র। তিনিই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তার হাতেই উঠছে দেশের ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণের দায়িত্ব।

দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ছিলেন বিএনপির এমন একাধিক নেতা বলেন, অতীতে মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভারসাম্য, অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব ও জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ বিষয়গুলো সব সময়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন বাস্তবতায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী করার ক্ষেত্রে দক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে; বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র, আইন, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে কঠোর কিন্তু গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দেখা যেতে পারে।

বিএনপি’র দলীয় উচ্চ পর্যায়ের সূত্র বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে ডাক পেতে যাচ্ছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন পরে তাকে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) করা হয়। দলটির বৈশ্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী পদে নাম আছে ড. রেজা কিবরিয়ার। তিনি একজন বিশ্বমানের অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারক। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এ একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০০১-২০০৪ মেয়াদে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য হলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আছে। তিনি বিএনপির ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব এবং নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকা ছিল। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ে ডাক পেতে যাচ্ছেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল। আইনি ব্যাখ্যা ও সংবিধান বিশ্লেষণে তার অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

এদের মধ্যে কেবল হুমায়ুন কবির টেকনোক্র্যাট কোটায়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মির্জা আব্বাস ও টেকনোক্র্যাট কোটায় ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিম আলোচনায় আছেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ তথ্য মন্ত্রণালয় পেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এ পর্যন্ত বিএনপির হাইকমান্ড থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মন্ত্রীত্বের জন্য আরো ডাক পেতে যাচ্ছেন নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান (টেকনোক্রেট) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আন্দালিব রহমান পার্থ, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, শামা ওবায়েদ, জহির উদ্দিন স্বপন, হাবিবুন নবী খান সোহেল (টেকনোক্র্যাট) , ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, নওশাদ জমির, মীর হেলাল, আসাদুল হাবিব দুলু , রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. শরীফুল আলম।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন তিনি। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হতে হবে এবং এরপর ‘তিন দিনের মধ্যে’ নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে। যেহেতু শুক্রবার রাতেই সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে সেহেতু ১৫ অথবা ১৬ ফেব্রুয়ারি শপথ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নতুন সংসদ ও নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতিও পরিবর্তন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এক নম্বরে রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেকরা। অপরদিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যদি রাষ্ট্রপতির পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে সালাহউদ্দিন আহমেদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পেতে পারেন।

এদিকে অন্য একটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে কিছু নাম পাওয়া গেছে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও দলীয় চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র জানায়, মন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্য তালিকায় যারা আছেন তারা হলেন- স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (তার নাম রাষ্ট্রপতির তালিকায়ও আছে) আইন বিষয়ক মন্ত্রণালয়: সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবী আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রণালয়: ড. রেজা কিবরিয়া।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়: আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়: আ ন ম এহছানুল হক মিলন (২০০১-২০০৬ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এখানে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের নামও আছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়: শামা ওবায়েদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, তথ্য মন্ত্রণালয়: অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী (টেকনোক্রেট), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়: বরকত উল্লাহ বুলু/ আলী আসগর লবি/ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়: মির্জা আব্বাস (২০০১-২০০৬ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিলেন) কৃষি মন্ত্রণালয়: আন্দালিব রহমান পার্থ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়: ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদির লুনা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: আমান উল্লাহ আমান (এই মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন), ধর্ম মন্ত্রণালয়: শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়: অ্যাড. ফজলুর রহমান, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: রাষ্ট্রপতি পদ না পেলে ড. আব্দুল মঈন খান এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। চীফ হুইফ: জয়নাল আবেদিন ফারুক (সাবেক বিরোধী দলের চিফ হুইপ) এবং হুইপ: আশরাফ উদ্দিন নিজান (সাবেক হুইপ) হুইপ পদে আরও কয়েকজন থাকবেন।

সবকিছু নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর। কারণ তিনিই হবেন এই মন্ত্রিপরিষদের প্রধানমন্ত্রী। আর প্রধানমন্ত্রী যে কাউকে যেকোনো মন্ত্রণালয় দিতে পারেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয়ী হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি দুই দশক পর ফের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব এখন তার ছেলে তারেক রহমানের কাঁধে। দলীয় প্রধান হিসেবে তিনিই হতে যাচ্ছেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী।

আবহাওয়া

ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টানা ২য় শিরোপা বাংলাদেশর

রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও নতুন মন্ত্রিসভা প্রায় চূড়ান্ত, আলোচনায় আছেন যারা

প্রকাশের সময় : ১১:৩৭:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর মন্ত্রিসভা গঠন শুরু হবে এবং এর আকার নির্ধারণ করবে বিজয়ী দল।

জানা গেছে, মন্ত্রিসভা গঠনে নতুন বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তাতে অভিজ্ঞ ও তরুণ নির্বাচিতদের পাশাপাশি টেকনোক্রেট কোটায়ও যুক্ত হচ্ছেন কেউ কেউ।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ২০০১-২০০৬ মেয়াদের কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতির জন্য ও ড. আব্দুল মঈন খানকে স্পিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয় পাওয়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ হলেও দলকেও এনে দিয়েছেন কাঙ্ক্ষিত বিজয়। তার দলের এককভাবে সরকার গঠন এখন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষা মাত্র। তিনিই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তার হাতেই উঠছে দেশের ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণের দায়িত্ব।

দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ছিলেন বিএনপির এমন একাধিক নেতা বলেন, অতীতে মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভারসাম্য, অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব ও জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ বিষয়গুলো সব সময়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন বাস্তবতায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী করার ক্ষেত্রে দক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে; বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র, আইন, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে কঠোর কিন্তু গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দেখা যেতে পারে।

বিএনপি’র দলীয় উচ্চ পর্যায়ের সূত্র বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে ডাক পেতে যাচ্ছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন পরে তাকে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) করা হয়। দলটির বৈশ্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী পদে নাম আছে ড. রেজা কিবরিয়ার। তিনি একজন বিশ্বমানের অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারক। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এ একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০০১-২০০৪ মেয়াদে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য হলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আছে। তিনি বিএনপির ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব এবং নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকা ছিল। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ে ডাক পেতে যাচ্ছেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল। আইনি ব্যাখ্যা ও সংবিধান বিশ্লেষণে তার অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

এদের মধ্যে কেবল হুমায়ুন কবির টেকনোক্র্যাট কোটায়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মির্জা আব্বাস ও টেকনোক্র্যাট কোটায় ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিম আলোচনায় আছেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ তথ্য মন্ত্রণালয় পেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এ পর্যন্ত বিএনপির হাইকমান্ড থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মন্ত্রীত্বের জন্য আরো ডাক পেতে যাচ্ছেন নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান (টেকনোক্রেট) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আন্দালিব রহমান পার্থ, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, শামা ওবায়েদ, জহির উদ্দিন স্বপন, হাবিবুন নবী খান সোহেল (টেকনোক্র্যাট) , ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, নওশাদ জমির, মীর হেলাল, আসাদুল হাবিব দুলু , রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. শরীফুল আলম।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন তিনি। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হতে হবে এবং এরপর ‘তিন দিনের মধ্যে’ নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে। যেহেতু শুক্রবার রাতেই সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে সেহেতু ১৫ অথবা ১৬ ফেব্রুয়ারি শপথ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নতুন সংসদ ও নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতিও পরিবর্তন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এক নম্বরে রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেকরা। অপরদিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যদি রাষ্ট্রপতির পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে সালাহউদ্দিন আহমেদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পেতে পারেন।

এদিকে অন্য একটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে কিছু নাম পাওয়া গেছে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও দলীয় চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র জানায়, মন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্য তালিকায় যারা আছেন তারা হলেন- স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (তার নাম রাষ্ট্রপতির তালিকায়ও আছে) আইন বিষয়ক মন্ত্রণালয়: সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবী আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রণালয়: ড. রেজা কিবরিয়া।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়: আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়: আ ন ম এহছানুল হক মিলন (২০০১-২০০৬ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এখানে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের নামও আছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়: শামা ওবায়েদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, তথ্য মন্ত্রণালয়: অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী (টেকনোক্রেট), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়: বরকত উল্লাহ বুলু/ আলী আসগর লবি/ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়: মির্জা আব্বাস (২০০১-২০০৬ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিলেন) কৃষি মন্ত্রণালয়: আন্দালিব রহমান পার্থ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়: ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদির লুনা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: আমান উল্লাহ আমান (এই মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন), ধর্ম মন্ত্রণালয়: শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়: অ্যাড. ফজলুর রহমান, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: রাষ্ট্রপতি পদ না পেলে ড. আব্দুল মঈন খান এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। চীফ হুইফ: জয়নাল আবেদিন ফারুক (সাবেক বিরোধী দলের চিফ হুইপ) এবং হুইপ: আশরাফ উদ্দিন নিজান (সাবেক হুইপ) হুইপ পদে আরও কয়েকজন থাকবেন।

সবকিছু নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর। কারণ তিনিই হবেন এই মন্ত্রিপরিষদের প্রধানমন্ত্রী। আর প্রধানমন্ত্রী যে কাউকে যেকোনো মন্ত্রণালয় দিতে পারেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয়ী হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি দুই দশক পর ফের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব এখন তার ছেলে তারেক রহমানের কাঁধে। দলীয় প্রধান হিসেবে তিনিই হতে যাচ্ছেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী।