Dhaka বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের পর গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ দাবি জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের অন্যতম কাজ হওয়া উচিত রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া। সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলসহ সবাইকে এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য রয়েছে। জাতীয় ঐক্যের জায়গা থেকে এখানে কোনো বিভেদ থাকবে না।

তিনি বলেন, সেই সময় রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তাকে সরানো সম্ভব হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি জনগণের পক্ষ থেকে উঠে এসেছে। সে সময় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও সংবিধান রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রপতিকে পদে রাখা হয়েছিল। এখন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমরা সেই সময়ের অপেক্ষায় আছি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেনি৷ তিনি নীরব নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমরা কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনেও গিয়েছিলাম। তার নীরব ভূমিকার কারণে এ গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এ গণহত্যার দায়ে তিনিও অভিযুক্ত। এখন সময় এসেছে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন করে তাকে সরানো এবং মামলা করে দ্রুত গ্রেফতার করা।

এর আগে এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে শপথ ভঙ্গের অভিযোগ আনেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি’ পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালার সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং রাষ্ট্রের গোপন বিষয়ের মতো আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি তাঁর এই সাক্ষাৎকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

প্রয়োজনেই গভর্নর পদে পরিবর্তন, আরও অনেক জায়গায় হবে : অর্থমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের পর গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ দাবি জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের অন্যতম কাজ হওয়া উচিত রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া। সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলসহ সবাইকে এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য রয়েছে। জাতীয় ঐক্যের জায়গা থেকে এখানে কোনো বিভেদ থাকবে না।

তিনি বলেন, সেই সময় রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তাকে সরানো সম্ভব হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি জনগণের পক্ষ থেকে উঠে এসেছে। সে সময় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও সংবিধান রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রপতিকে পদে রাখা হয়েছিল। এখন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমরা সেই সময়ের অপেক্ষায় আছি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেনি৷ তিনি নীরব নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমরা কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনেও গিয়েছিলাম। তার নীরব ভূমিকার কারণে এ গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এ গণহত্যার দায়ে তিনিও অভিযুক্ত। এখন সময় এসেছে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন করে তাকে সরানো এবং মামলা করে দ্রুত গ্রেফতার করা।

এর আগে এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে শপথ ভঙ্গের অভিযোগ আনেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি’ পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালার সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং রাষ্ট্রের গোপন বিষয়ের মতো আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি তাঁর এই সাক্ষাৎকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।