Dhaka শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার ভেতরে সেতু ধ্বংস করল ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে অভিযান চালানোর মধ্যে সেম নদীর ওপর কৌশলগত দিকে থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু ধ্বংস করার দাবি করেছে ইউক্রেন। ক্রেমলিন ওই সেতু ব্যবহার করে সেনা সরবরাহ করে আসছিল, এটি ধ্বংস হওয়ায় সেই কাজ ব্যাহত হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্লুশকোভো শহরের কাছে অভিযানের ফলে স্থানীয় জেলার কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্রেমলিন ওই সেতু ব্যবহার করে সেনা সরবরাহ করে আসছিল, এটি ধ্বংস হওয়ায় সেই কাজ ব্যাহত হতে পারে। ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তাদের সেনারা কুর্স্কে অবস্থান শক্তিশালী করছে।

দখল করা অঞ্চলগুলোকে ‘বিনিময় তহবিল’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এসবের সঙ্গে ইউক্রেইনে মস্কোর দখল করা অঞ্চল বিনিময় করা যেতে পারে।

বিবিসি লিখেছে, দুই বছরেরও বেশি সময় আগে মস্কোর আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর ইউক্রেইনের চলমান অভিযানই রাশিয়াই সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশের ঘটনা, যা দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দিয়েছে।

ইউক্রেইনের আকস্মিক এই অভিযানে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে গেছে।

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিলেও কিইভ বলছে সেই সব অঞ্চল তারা দখল করতে চায় না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এক জ্যেষ্ঠ সহযোগী শুক্রবার বলেছেন, “ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ড দখলে আগ্রহী নয়।

রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুর্স্ক অঞ্চলে ইউক্রেইনের সেনারা গত ৬ অগাস্ট হঠাৎ করেই ঢুকে পড়ে। এরপর সাত দিনেই রাশিয়ার ভূখণ্ডের ১ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা দখলে নেওয়ার দাবি করে ইউক্রেইন।

দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার বৃহস্পতিবার বলেছেন, কুর্স্কে তারা একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার স্থাপন করেছেন। তিনি জানান, তাদের সেনারা এখনও অগ্রসর হয়ে চলেছে।

ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেছেন, রাশিয়াকে যুদ্ধ অবসানে ষুষ্ঠু একটি শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করাই এই আক্রমণের অন্যতম উদ্দেশ্য।

স্যোশাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে পোদোলিয়াক বলেন, ইউক্রেইন রাশিয়ার ভূখণ্ড দখল করতে আগ্রহী নয়। তবে আমরা যদি আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলিৃ আমি সম্ভাবনার ওপরই জোর দিচ্ছিৃসেক্ষেত্রে আমাদেরকে টেবিলের অপরপ্রান্তে রাশিয়াকে রাখতে হবে। ইউক্রেইন দেখিয়ে দিচ্ছে যে, তারা রাশিয়ার ভূখণ্ড দখল করতে সক্ষম। আর এটাই হবে রাশিয়াকে আলোচনায় বসতে চাপে ফেলার একটি প্রমাণিত এবং কার্যকর উপায়।

তবে এই আক্রমণ বিশ্বকে সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন রাশিয়ার পার্লামেন্টের এমপি মিখাইল শেরেমেত।

রাশিয়ার আরআইএ বার্তা সংস্থা শেরেমেতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর পশ্চিমা সামরিক সাজসরঞ্জাম, পশ্চিমা গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হওয়া এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলায় বিদেশিদের অংশগ্রহণের অকাট্য প্রমাণ দেখে কেউ এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছতে পারে যে, বিশ্ব তৃতীয় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

পরিবেশের টেকসই উন্নয়নে অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

রাশিয়ার ভেতরে সেতু ধ্বংস করল ইউক্রেন

প্রকাশের সময় : ১০:১০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে অভিযান চালানোর মধ্যে সেম নদীর ওপর কৌশলগত দিকে থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু ধ্বংস করার দাবি করেছে ইউক্রেন। ক্রেমলিন ওই সেতু ব্যবহার করে সেনা সরবরাহ করে আসছিল, এটি ধ্বংস হওয়ায় সেই কাজ ব্যাহত হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্লুশকোভো শহরের কাছে অভিযানের ফলে স্থানীয় জেলার কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্রেমলিন ওই সেতু ব্যবহার করে সেনা সরবরাহ করে আসছিল, এটি ধ্বংস হওয়ায় সেই কাজ ব্যাহত হতে পারে। ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তাদের সেনারা কুর্স্কে অবস্থান শক্তিশালী করছে।

দখল করা অঞ্চলগুলোকে ‘বিনিময় তহবিল’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এসবের সঙ্গে ইউক্রেইনে মস্কোর দখল করা অঞ্চল বিনিময় করা যেতে পারে।

বিবিসি লিখেছে, দুই বছরেরও বেশি সময় আগে মস্কোর আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর ইউক্রেইনের চলমান অভিযানই রাশিয়াই সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশের ঘটনা, যা দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দিয়েছে।

ইউক্রেইনের আকস্মিক এই অভিযানে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে গেছে।

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিলেও কিইভ বলছে সেই সব অঞ্চল তারা দখল করতে চায় না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এক জ্যেষ্ঠ সহযোগী শুক্রবার বলেছেন, “ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ড দখলে আগ্রহী নয়।

রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুর্স্ক অঞ্চলে ইউক্রেইনের সেনারা গত ৬ অগাস্ট হঠাৎ করেই ঢুকে পড়ে। এরপর সাত দিনেই রাশিয়ার ভূখণ্ডের ১ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা দখলে নেওয়ার দাবি করে ইউক্রেইন।

দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার বৃহস্পতিবার বলেছেন, কুর্স্কে তারা একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার স্থাপন করেছেন। তিনি জানান, তাদের সেনারা এখনও অগ্রসর হয়ে চলেছে।

ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেছেন, রাশিয়াকে যুদ্ধ অবসানে ষুষ্ঠু একটি শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করাই এই আক্রমণের অন্যতম উদ্দেশ্য।

স্যোশাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে পোদোলিয়াক বলেন, ইউক্রেইন রাশিয়ার ভূখণ্ড দখল করতে আগ্রহী নয়। তবে আমরা যদি আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলিৃ আমি সম্ভাবনার ওপরই জোর দিচ্ছিৃসেক্ষেত্রে আমাদেরকে টেবিলের অপরপ্রান্তে রাশিয়াকে রাখতে হবে। ইউক্রেইন দেখিয়ে দিচ্ছে যে, তারা রাশিয়ার ভূখণ্ড দখল করতে সক্ষম। আর এটাই হবে রাশিয়াকে আলোচনায় বসতে চাপে ফেলার একটি প্রমাণিত এবং কার্যকর উপায়।

তবে এই আক্রমণ বিশ্বকে সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন রাশিয়ার পার্লামেন্টের এমপি মিখাইল শেরেমেত।

রাশিয়ার আরআইএ বার্তা সংস্থা শেরেমেতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর পশ্চিমা সামরিক সাজসরঞ্জাম, পশ্চিমা গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হওয়া এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলায় বিদেশিদের অংশগ্রহণের অকাট্য প্রমাণ দেখে কেউ এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছতে পারে যে, বিশ্ব তৃতীয় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।