Dhaka শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীকে হারিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করল চট্টগ্রাম

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮১ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

চলমান বিপিএলের শুরুতে সবচেয়ে দুর্বল দল ভাবা হচ্ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালসকে। কিন্তু বিসিবি দায়িত্ব নেওয়ার পর বদলে গেছে চিত্র। টুর্নামেন্টে রীতিমতো উড়ছে বিসিবির মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সপ্তম ম্যাচে সিলেটকে ২ উইকেটে হারিয়ে শীর্ষস্থান মজমুত করেছে চট্টগ্রাম।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আগে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামকে মাত্র ১২৯ রানের সহজ লক্ষ্য দিয়েছিল রাজশাহী। জবাব দিতে নেমে ২ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম।

এ নিয়ে ৭ ম্যাচে পঞ্চম জয় নিয়ে ১০ পয়েন্টে শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করল চট্টগ্রাম। ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী চার নম্বরে রয়েছে। যথাক্রমে দুই-তিনে থাকা রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্সের পয়েন্টও সমান ৮। তবে রংপুর ৫ এবং সিলেট ৮ ম্যাচ খেলেছে ইতোমধ্যে।

১২৯ রানের লক্ষ্যে নেমে চোখে রীতিমতো সর্ষেফুল দেখতে থাকে চট্টগ্রাম রয়্যালস। রাজশাহীর বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৪.২ ওভারে ৪ উইকেটে ২৮ রানে পরিণত হয় চট্টগ্রাম। বিপদে পড়া চট্টগ্রামের হাল ধরেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ও হাসান নাওয়াজ। পঞ্চম উইকেটে ৪০ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তাঁরা (মেহেদী-হাসান নাওয়াজ)। ১১তম ওভারের শেষ বলে মেহেদীকে (২৮) বোল্ড করে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সন্দীপ লামিচানে।

চার নম্বরে নামা হাসান নাওয়াজ একপ্রান্ত আগলে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন। ষষ্ঠ উইকেটে ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন আসিফ আলী ও হাসান নাওয়াজ। ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে আসিফকে (২৭) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন বিনুরা ফার্নান্দো। আসিফ আলী তুলে মারতে গেলে আকাশে ভেসে থাকা বল লং অফ থেকে দৌড়ে ডাইভ দিয়ে ধরেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

আসিফ ফেরার পর ১৬.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১০৩ রান থেকে মুহূর্তেই ১৮.৪ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৯ রানে পরিণত হয় চট্টগ্রাম রয়্যালস। এরপর শেষ বল পর্যন্ত খেলে চট্টগ্রামকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন হাসান নাওয়াজ। ৩৬ বলে ২ চারে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্দো ৪ ওভারে ১৮ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এক ওভার মেডেনও দিয়েছেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান নাওয়াজ। ৩৫ রানের ইনিংসের পাশাপাশি ২ ওভারে ১৩ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

এর আগে, টানা তিন জয়ে ভালো সময় পার করা রাজশাহী দাঁড়াতে পারেনি চট্টগ্রামের বোলারদের সামনে। পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করে ৯ উইকেটে তাদের সংগ্রহ মাত্র ১২৮ রান।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক শেখ মাহেদি হাসান। তার সিদ্ধান্ত যথার্থ প্রমাণ করেন দলের বোলাররা।

তানজিদ হাসান তামিম ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের ২১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তানভীর ইসলাম। ১৯ রান করা ওয়াসিম হন বোল্ড। তিনে নামা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৭ রান করে হাসান নওয়াজের বলে ক্যাচ দেন আমের জামালের হাতে। ৩৩ রানে ২ উইকেট হারায় রাজশাহী।

ওপেনার তানজিদ তামিম মাত্র ৫ রান করে আমের জামালের শিকার হলে ৪৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ওয়ারিয়র্স। সেই বিপদ আরও বাড়ে ১৫ রান করা মুশফিককেও আমের জামাল এবং ১১ রানে রায়ান বার্লকে চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মাহেদি হাসান বিদায় করলে ৭২ রানে তারা হারায় ৫ উইকেট।

রাইজিং এশিয়া কাপে এসএম মেহেরব দ্যুতি ছড়ালেও রাজশাহীর হাল ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাকে ফেরান তানভীর। ১৯ রান করেন তিনি। ৯১ রানে ৬ উইকেট হারানো শান্তর দলের তখন বড় স্কোর অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আমের জামাল আবারও তুলে নেন উইকেট। আকবর আলী ১৭ রানে ফিরলে ১০৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রানের সম্ভাবনাও ফিকে হয়ে যায়। দলের বোর্ডে ১ রান যোগ হতেই ফেরেন রিপন মন্ডলও। ১ রান করেন তিনি। তাকে ফিরিয়ে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন শরিফুল ইসলাম।

৫ রান করে সন্দিপ লামিচানে। ১২৩ রানে ৯ উইকেট হারানো রাজশাহী শেষ পর্যন্ত ১২৮ রান করতে সমর্থ হয় পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করে। ১৪ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন তানজিম হাসান সাকিব।

চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট আমের জামাল পেয়েছেন। সমান দুটি শরিফুল ও তানভীর। একটি করে পান মাহেদি ও নওয়াজ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত

রাজশাহীকে হারিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করল চট্টগ্রাম

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

চলমান বিপিএলের শুরুতে সবচেয়ে দুর্বল দল ভাবা হচ্ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালসকে। কিন্তু বিসিবি দায়িত্ব নেওয়ার পর বদলে গেছে চিত্র। টুর্নামেন্টে রীতিমতো উড়ছে বিসিবির মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সপ্তম ম্যাচে সিলেটকে ২ উইকেটে হারিয়ে শীর্ষস্থান মজমুত করেছে চট্টগ্রাম।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আগে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামকে মাত্র ১২৯ রানের সহজ লক্ষ্য দিয়েছিল রাজশাহী। জবাব দিতে নেমে ২ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম।

এ নিয়ে ৭ ম্যাচে পঞ্চম জয় নিয়ে ১০ পয়েন্টে শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করল চট্টগ্রাম। ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী চার নম্বরে রয়েছে। যথাক্রমে দুই-তিনে থাকা রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্সের পয়েন্টও সমান ৮। তবে রংপুর ৫ এবং সিলেট ৮ ম্যাচ খেলেছে ইতোমধ্যে।

১২৯ রানের লক্ষ্যে নেমে চোখে রীতিমতো সর্ষেফুল দেখতে থাকে চট্টগ্রাম রয়্যালস। রাজশাহীর বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৪.২ ওভারে ৪ উইকেটে ২৮ রানে পরিণত হয় চট্টগ্রাম। বিপদে পড়া চট্টগ্রামের হাল ধরেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ও হাসান নাওয়াজ। পঞ্চম উইকেটে ৪০ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তাঁরা (মেহেদী-হাসান নাওয়াজ)। ১১তম ওভারের শেষ বলে মেহেদীকে (২৮) বোল্ড করে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সন্দীপ লামিচানে।

চার নম্বরে নামা হাসান নাওয়াজ একপ্রান্ত আগলে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন। ষষ্ঠ উইকেটে ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন আসিফ আলী ও হাসান নাওয়াজ। ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে আসিফকে (২৭) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন বিনুরা ফার্নান্দো। আসিফ আলী তুলে মারতে গেলে আকাশে ভেসে থাকা বল লং অফ থেকে দৌড়ে ডাইভ দিয়ে ধরেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

আসিফ ফেরার পর ১৬.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১০৩ রান থেকে মুহূর্তেই ১৮.৪ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৯ রানে পরিণত হয় চট্টগ্রাম রয়্যালস। এরপর শেষ বল পর্যন্ত খেলে চট্টগ্রামকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন হাসান নাওয়াজ। ৩৬ বলে ২ চারে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্দো ৪ ওভারে ১৮ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এক ওভার মেডেনও দিয়েছেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান নাওয়াজ। ৩৫ রানের ইনিংসের পাশাপাশি ২ ওভারে ১৩ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

এর আগে, টানা তিন জয়ে ভালো সময় পার করা রাজশাহী দাঁড়াতে পারেনি চট্টগ্রামের বোলারদের সামনে। পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করে ৯ উইকেটে তাদের সংগ্রহ মাত্র ১২৮ রান।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক শেখ মাহেদি হাসান। তার সিদ্ধান্ত যথার্থ প্রমাণ করেন দলের বোলাররা।

তানজিদ হাসান তামিম ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের ২১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তানভীর ইসলাম। ১৯ রান করা ওয়াসিম হন বোল্ড। তিনে নামা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৭ রান করে হাসান নওয়াজের বলে ক্যাচ দেন আমের জামালের হাতে। ৩৩ রানে ২ উইকেট হারায় রাজশাহী।

ওপেনার তানজিদ তামিম মাত্র ৫ রান করে আমের জামালের শিকার হলে ৪৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ওয়ারিয়র্স। সেই বিপদ আরও বাড়ে ১৫ রান করা মুশফিককেও আমের জামাল এবং ১১ রানে রায়ান বার্লকে চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মাহেদি হাসান বিদায় করলে ৭২ রানে তারা হারায় ৫ উইকেট।

রাইজিং এশিয়া কাপে এসএম মেহেরব দ্যুতি ছড়ালেও রাজশাহীর হাল ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাকে ফেরান তানভীর। ১৯ রান করেন তিনি। ৯১ রানে ৬ উইকেট হারানো শান্তর দলের তখন বড় স্কোর অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আমের জামাল আবারও তুলে নেন উইকেট। আকবর আলী ১৭ রানে ফিরলে ১০৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রানের সম্ভাবনাও ফিকে হয়ে যায়। দলের বোর্ডে ১ রান যোগ হতেই ফেরেন রিপন মন্ডলও। ১ রান করেন তিনি। তাকে ফিরিয়ে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন শরিফুল ইসলাম।

৫ রান করে সন্দিপ লামিচানে। ১২৩ রানে ৯ উইকেট হারানো রাজশাহী শেষ পর্যন্ত ১২৮ রান করতে সমর্থ হয় পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করে। ১৪ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন তানজিম হাসান সাকিব।

চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট আমের জামাল পেয়েছেন। সমান দুটি শরিফুল ও তানভীর। একটি করে পান মাহেদি ও নওয়াজ।