নিজস্ব প্রতিবেদক :
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রসহ যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঘোষিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের সহায়তায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। সঠিক সময়েই দেশে নির্বাচন আয়োজিত হবে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সে ব্যাপারে কঠোর সরকার। এ জন্য গোয়েন্দা নজরদারির বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যে-কোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন।’
রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্নের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠপর্যায়ে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরো জোরদার করাসহ অধিক সক্রিয় ও তৎপর থাকা এবং সব বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্নের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণাকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থার গ্রহণের জন্য সভায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
তিনি আরো বলেন, আমি সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করছি- সবাই যেন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহযোগিতা করেন এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলেন।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করাসহ অধিক সক্রিয় ও তৎপর থাকা এবং সব বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, সহযোগী সেজে ফ্যাসিস্টের এজেন্ট বা নাশকতাকারীরা যেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপে নাশকতাকারীরা যেন সুযোগ না নিতে পারে বা পার পেয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ সময় গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন উপদেষ্টা।
গত ডিসেম্বর মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৫৮টি নিয়মিত মামলা দায়ের করে এবং এক হাজার ৬১৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এতে গ্রেফতার আসামির সংখ্যা ২ হাজার ৩৭৫ জন বলেও জানান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার উদ্দেশে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিহারের বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি এবং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে নিবিড় আলোচনা হয়েছে। এরইমধ্যে সীমান্ত ও পার্বত্য এলাকায় নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া র্যাব ও পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের তথ্য তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সভায় নেওয়া অন্যান্য সিদ্ধান্ত তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গবেষণা ও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















