নিজস্ব প্রতিবেদক :
যারা অনির্দিষ্টকালের জন্য জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়ে ধর্মঘট ডেকেছে তারা অ্যাসোসিয়েশনের কেউ না বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক।
রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পদ্মা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি লিমিটেডের হল রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ধর্মঘট আহ্বানকারীরা সংগঠনের বহিষ্কৃত কিছু নেতা। ভিন্ন উদ্দেশ্যে তারা ধর্মঘট পালন করছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালে কোনো ধর্মঘট হচ্ছে না। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে আংশিক পালিত হচ্ছে। তবে ডিপোগুলো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকার পেট্রোল পাম্পগুলোর ডিপো নারায়ণগঞ্জে। সেখানে প্রায় ৪০০ বেশি তেলের গাড়ি পে-অর্ডার নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ঢাকার পাম্পগুলোতে তেলের সংকট হয়েছে। যে দাবিতে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে সেই দাবি ঠিক আছে কিন্তু ধর্মঘট অবৈধ।
মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, আমরা সর্বপ্রথম ১২ দফা দাবি জানাই ২০১৬ সালে। তখন আমাদের তিনটি দাবি তাৎক্ষণিক মেনে নেওয়া হয়। বাকি দাবিগুলো ধীরে ধীরে মেনে নেওয়া হয়। অবশেষে পাঁচটি দাবি রয়ে যায়। ওই দাবিগুলো এখনো মেনে নেওয়া হয়নি। দাবিগুলোর বিষয়ে মতামত দিতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। সুতরাং এই বিষয়ে যদি আমাদের কোনো ধর্মঘট থাকে তাহলে সেটা আমরা ৩০ সেপ্টেম্বরের পরে করব। এর আগে তো ধর্মঘট করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, এখন যারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা এই সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত। তারা আমাদের সংগঠনের কেউ না। আপনারা দেখবেন দেশের আর কোথাও ধর্মঘট চলছে না। ঢাকার পাম্পগুলোর ডিপো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে। সেখানে বহিষ্কৃত সংগঠনের নেতারা আশেপাশের লোকজনকে টাকা দিয়ে তেল দেওয়া বন্ধ করে রেখেছে। ঢাকার পাম্পগুলোতে অলরেডি তেল শেষ। কারণ শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকে। আজও বন্ধ রয়েছে।
ধর্মঘট ডাকা সংগঠনের সদস্যদের অনুরোধ করে তিনি বলেন, আপনাদের দাবিগুলো যোক্তিক। তবে ধর্মঘট অযৌক্তিক। আপনারা দ্রুত সেখান থেকে সরে আসবেন বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির নেতা মো. মুরাদুজ্জামান মুরাদ বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর কমিশন বাড়ানোসহ তিন দফা দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। দাবিগুলো অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। দাবি পূরণে গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বেধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে সরকার দাবি পূরণ না করায় রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ ট্যাংকলরি মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব শেখ ফরহাদ হোসেন বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট প্রস্তুতি সভায় জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর কমিশন বাড়ানোসহ তিন দফা দাবি পূরণে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দিয়েছিলেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। দাবি পূরণ না হলে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- জ্বালানি তেল পরিবহনকারী ট্যাংকলরির অর্থনৈতিক জীবনকাল ৫০ বছর করা, জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা এবং জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট বিধায় প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সুস্পষ্ট গেজেট প্রকাশ করা।