হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
যাত্রী ওঠানোর বিষয়ে দুই চালকের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। হঠাৎ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে মৌলভীবাজারের শেরপুর পয়েন্ট এলাকায় যাত্রী ওঠানো নিয়ে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের স্টাফের সঙ্গে হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস পরিবহন বাসের স্টাফের বাগবিতণ্ডা হয়।
এসময় সিলেট-ঢাকা রুটের হানিফ পরিবহনের এক চালক ওই যাত্রী তুলতে বাধা দেন। তর্কের একপর্যায়ে হবিগঞ্জের বাসের চালক কল্যাণ বাবুকে মারধর করা হয়। আহতাবস্থায় তাকে সিলেটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত চালকের শাস্তির দাবিতে হবিগঞ্জ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ যৌথভাবে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে হবিগঞ্জ বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, শত শত যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। টার্মিনালের ভেতরে ও আশেপাশে ৯৫টি যাত্রীবাহী বাস এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও বাস না পাওয়ায় অনেক যাত্রী বিকল্প হিসেবে ছোট যানবাহনে বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য এই পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়েছে।
আজমিরীগঞ্জ থেকে আসা রুবেল মিয়া ও তকলিমা আক্তার দম্পতি জানান, ছোট বাচ্চা নিয়ে মাঝপথে আটকা পড়েছি। বাস বন্ধ থাকায় আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।
একই অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ, যিনি জরুরি কাজে লোক পাঠাতে পারছেন না।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, আমাদের চালককে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। এই প্রতিবাদে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সকাল থেকে কোনো বাস ছাড়েনি এবং কোনো বাস প্রবেশও করেনি। বিষয়টি সমাধানের জন্য বৈঠক চলছে।
মোটর মালিক গ্রুপের হিসাব অনুযায়ী, এই রুটে প্রতিদিন গড়ে ৯৫টি বাস চলাচল করে এবং কয়েকশ শ্রমিক এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। একদিন বাস চলাচল বন্ধ থাকলে পরিবহন খাতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 


















