নিজস্ব প্রতিবেদক :
আপাতত মোবাইলের কলরেট পুনর্র্নিধারণের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বর্তমান কলরেট নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এসব কথা জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশের মোবাইল আপারেটরদের একই কলরেট করার লক্ষ্যে এরই মধ্যে বিটিআরসি ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট সব মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য কল রেট অনুমোদন করে, যা পরদিন ১৪ আগস্ট থেকে কার্যকর করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ট্যারিফ যেকোনো অপারেটরে মিনিটপ্রতি দুই টাকা এবং সর্বনিম্ন ট্যারিফ যেকোনো অপারেটরে মিনিটপ্রতি ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত কলরেট ২০১৮ সালে মার্কেট পর্যালোচনা, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আপাতত কলরেট পুনর্র্নিধারণের কোনো পরিকল্পনা নেই।
তিনি বলেন, মোবাইল অপারেটরগুলোকে একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজ, অফার বা বান্ডেলে অন-নেট ও অফ-নেটের ভয়েস কলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ট্যারিফ যেকোনো অপারেটরে মিনিটপ্রতি দুই টাকা এবং সর্বনিম্ন ট্যারিফ যেকোনো অপারেটরে মিনিটপ্রতি ৪৫ পয়সার মধ্যে প্যাকেজ ডিজাইন করতে হয়। সর্বোচ্চ কলরেট দুই টাকা হলেও অপরারেটরগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যশে এক টাকা মিনিটের কম রেটে বিভিন্ন প্যাকেজ ডিজাইন করে থাকে।
সংসদ সদস্য মো. শহিদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশের পাঁচটি মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের ৭ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। বর্তমানে দেশে চারটি (সিটিসেল বন্ধ) মোবাইল কোম্পানি পরিচালিত হচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো সরকারকে ৩ হাজার ১৭৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা রাজস্ব পরিশোধ করেছে। এছাড়া বিটিআরসির অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগে সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে- মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছে বকেয়ার পরিমাণ ৭ হাজার ৬৯২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়ার রয়েছে গ্রামীণফোনের কাছে ৬ হাজার ১০১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলালিংকের কাছে ৮৮০ কোটি ১৫ লাখ টাকা, রবি আজিয়াটার কাছে বকেয়ার পরিমাণ ৫৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং সিটিসেলের কাছে ১৭০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া টেলিটকের কাছে বকেয়া রয়েছে ১২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, টেলিটকের থ্রিজি স্পেকট্রাম অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবদ এক হাজার ৫৮৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ইক্যুইটিতে কনভার্সনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি এবং স্পেকট্রাম চার্জ বাবদ ৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা, রেভিনিউ শেয়ার বাবদ ৪৩ কোটি ৮১ লাখ ও এসওএফ (এসওএফ) বাবদ বকেয়া ৪৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকাসহ মোট ১২৭ কোটি ৩৬ কোটি টাকা আদায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নওগাঁ-২ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানান, দেশে ৪টি মোবাইল কোম্পানি পরিচালিত হচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কোম্পানিগুলো সরকারকে তিন হাজার ১৭৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা রাজস্ব পরিশোধ করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বর্তমান প্রচলিত মোবাইল কলরেট মার্কেট পর্যালোচনা, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট প্রভৃতি বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আপাতত কলরেট পুনর্র্নিধারণের কোনও পরিকল্পনা নেই।’
বর্তমানে সর্বোচ্চ কলরেট ২ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মোবাইল অপারেটরগুলোকে একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজ বা অফার বা বান্ডেলে অন-নেট এবং অফ-নেটের ভয়েস কলের ক্ষেত্রে ট্যারিফের মধ্যে প্যাকেজ ডিজাইন করতে হয়। সর্বোচ্চ কলরেট ২ টাকা হলেও অপারেটরগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১ টাকা মিনিটের কম রেটে বিভিন্ন প্যাকেজ ডিজাইন করে থাকে।