নিজস্ব প্রতিবেদক :
জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকে তিস্তা, গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীর পানির ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।
রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘জাতিসংঘ পানি সম্মেলন-২০২৩’ নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, তিস্তা পানি চুক্তি প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই উত্থাপন করবেন। এছাড়া অন্যান্য বিষয়ও রয়েছে। আমাদের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদও সামনে শেষ হবে। সুতরাং সব বিষয়ে আলাদা করে যৌথ নদী কমিশন আলোচনা করছে। তবে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক স্তরে তিস্তা নিয়ে আমরা আলোচনা করে এসেছি বা রেখেছি।
তবে তিস্তায় ভারতের অংশে খাল খনন নিয়ে তথ্য জানতে চেয়ে দিল্লিতে পাঠানো চিঠির এখনও উত্তর ঢাকা পায়নি বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।
এদিকে পানির ব্যবহার বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমরা মনে করি আমাদের অনেক পানি আছে এবং দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আগামী ২০ বছর পরে যথেষ্ট দুশ্চিন্তার কারণ আছে। জনসচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। যে পানি আছে সেটিকে কীভাবে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে তিস্তা নদীর হিস্যা নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা করে এসেছি। আশা করছি এবারও প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি তুলবেন। এছাড়া আমাদের তো অন্যান্য ইস্যুও রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। ভারতের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি আছে, আলোচনায় সেটিও তোলা হবে। সব বিষয়ে আমাদের যৌথ নদী কমিশন এবং অন্যরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যতে পানি সমস্যা সমাধানে আগাম সচেতনতার বার্তা দেন পররাষ্ট্রসচিব। তিনি বলেন, আমাদের অনেক পানি আছে। এটা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিন্তু আগামী পাঁচ বছর বা দশ বছর পর হয়ত আমাদের পানি নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ আসতে পারে। সেজন্য বৈজ্ঞানিকভাবে আমাদের বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। আমাদের যে পানি আছে, সেটিকে কীভাবে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের যে আন্তর্জাতিক কমিটমেন্ট এবং এনগেজমেন্ট আছে, সেটি নিয়ে কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। রিসোর্স মবিলাইজেশনের ব্যাপার আছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সম্পর্কিত তহবিল আছে, সেটিকে কীভাবে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারি…অনেক কাজ আছে সামনে।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে আমন্ত্রিত হয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।