স্পোর্টস ডেস্ক :
কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ন্যাশভিলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ইন্টার মিয়ামি। ম্যাচটিতে গোলের দেখা পেয়েছেন লিওনেল মেসি-লুইস সুয়ারেজরা। তবে দুই বড় তারকার গোলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি মিয়ামি।
শুক্রবার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকালে নাশভিলের মুখোমুখি হয়েছিল মিয়ামি। শুরুতেই একটি গোল হজম, বিরতির পর আরেকটি। এমন অবস্থায় পড়েও ঠিকই ঘিরে দাড়ায়। ড্র করে মাঠ ছাড়ে মিয়ামি।
এই ম্যাচের আগে ন্যাশভিল থেকে এক বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল, যাতে গিওদিস পার্ক স্টেডিয়ামের এক অংশে মায়ামির জার্সি পরে কেউ ঢুকতে না পারেন। তবু গিওদিস পার্কে ম্যাচটি ছিল নাটকীয়কতায় পূর্ণ। মাঠের লড়াইয়ে দাপট দেখিয়ে খেলে মায়ামি। ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষের লক্ষ্য বরাবর করে ৬টি শট। অন্যদিকে বাতিল হয়ে যায় ন্যাশভিলের গোল। শেষ পর্যন্ত ন্যাশভিল-মায়ামি ম্যাচ ড্র হয় ২-২ গোলে।
ম্যাচে অবশ্য শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে মায়ামি। ৪ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্য ভেদ করেন ন্যাশভিল স্ট্রাইকার জ্যাকব শ্যাফেলবার্গ। ন্যাশভিলের এগিয়ে যাওয়ার গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন শাক মুর। এরপর ১৩ মিনিটেই সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল মায়ামি। নোয়া অ্যালেনের পাস থেকে বরাবরের মতো বাঁ পায়েই শট নেন মেসি। তবে আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার এবার লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। ১৮ মিনিটে অবশ্য ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ন্যাশভিল। তবে শ্যাফেলবার্গের ক্রস থেকে পাওয়া ক্রসে ঠিকমতো মাথা ছোঁয়াতে পারেননি ন্যাশফিল ফরোয়ার্ড অ্যালেক্স মুইল। এরপর ২৩ মিনিটে ন্যাশভিলকে আরও একটু এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন হ্যানি মুখতার। তবে সেই আক্রমণ প্রতিহত করেছেন মায়ামি গোলরক্ষক ড্রেক ক্যালেন্ডার।
আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের খেলায় মায়ামিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান মেসিই। তবে ৩৭ মিনিটে তাঁর (মেসি) আক্রমণ প্রতিহত করেছেন ন্যাশভিল গোলরক্ষক জো উইলিস। এরপর ৪৫ মিনিটে মায়ামিকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ পান ফেদেরিকো রেদোন্দো। এবার তাঁর মাথা ছোঁয়ানো শট প্রতিহত করেন ন্যাশভিল গোলরক্ষক উইলিস। প্রথমার্ধ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করে ন্যাশভিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মায়ামিকে আরও একবার চমকে দেয় নাশভিলে। আবারও দৃশ্যপটে শাফেলবার্গ। ৪৬তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে মার্টিনোর দলের রক্ষণকে পরাস্ত করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন কানাডিয়ান তারকা শাফেলবার্গ।
তবে ব্যবধান্টা ধরে রাখতে দেননি মেসি। এর ঠিক ছয় মিনিট পর সতীর্থদের সঙ্গে দারুণ পাসিং ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ডুকে পড়েন আর্জেন্টাইন তারকা। এরপর বা পায়ের চিরচেনা শটে কোনা দিয়ে জাল খুঁজে নেন। গোল পেয়ে উজ্জিবীত হয়ে ওঠে মায়ামি। তবে সমতায় ফিরতে পারছিল না।
ম্যাচ তখন শেষের দিকে। নির্ধারিত সময়ও শেষ। মায়ামির সমর্থকেরাও প্রস্তুত নিচ্ছেন হার নিয়ে মাঠ ছাড়ার। তবে সেটা হতে দিলেন না লুইস সুয়ারেজ। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে নাশভিলের গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেন উরুগুয়ের তারকা। তার গোলেই শেষ পর্যন্ত হাসিমুখে মাঠ ছাড়া মেজর লিগ সকারের দলটি।