হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার জন্য হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের নোয়াগড় ও বানিয়াচং উপজেলার আদর্শ বাজারের মধ্যের কাটাগাঙ নদীর উপর শুরু হয় সেতু নির্মাণ কাজ। কিন্তু প্রায় ৪ বছর আগে নির্মাণ শুরু হওয়া সেতুটি এখন যাতায়াতে সুবিধার বদলে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চুক্তিপত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বেঁধে দেওয়া সময় শেষের পর পুনরায় নয় মাস বাড়ানো হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, দুই দফা সময় শেষের পরও নির্মাণ কাজ শেষ না হলেও এদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
তবে স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা কাজটি দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দিচ্ছেন নিয়মিত এবং ইতিমধ্যে কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চুক্তিমুল্যের ৮৪.৪৩ শতাংশ টাকা পরিশোধ করেছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই তৎকালীন এমপির ঘনিষ্ঠ কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, যার ফলে এখন বিপুল সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এস ডিআরআইপি (স্মল স্কেল রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট) প্রকল্পের আওতায় দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৮৭১ টাকা ব্যয়ে ৮৩ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের জুলাই মাসে হাসান এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ প্রদান করে উপজেলা এলজিইডি অফিস।
দরপত্রের চুক্তি অনুযায়ী, সেতুটি নির্মাণের শেষ সময়সীমা ধরা হয় গত বছরের ১৮ জুন। চুক্তিপত্রের বেঁধে দেয়া নির্দিষ্ট সময়ের পর দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের ১৮ মার্চ পর্যন্ত সেই সময় বর্ধিত করা হয়। ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চুক্তি মূল্যের ৪ কোটি ৪০ লাখ ১০ হাজার ৫১৮ টাকা পরিশোধও করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র অনুযায়ী কাজটি হাসান এন্টারপ্রাইজের নামে হলেও শুরু থেকেই কাজটি করছেন বানিয়াচং উপজেলার উজ্জল আহমেদ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরজমিনে দেখা যায়, সেতুটির উপরের ঢালাই কাজ শেষ হলেও উভয়পাশের সংযোগ সড়ক এবং সেতুর বাকি কাজ এখনও শেষ হয়নি। এসময় দেখা যায় সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য উভয়পাশে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলী, ওয়াহেদ মিয়া ও খালেদ মিয়া জানান, প্রায় চার বছর আগে কাজটি শুরু হওয়ার পর থেকেই ধীরগতিতে চলছে নির্মাণ কাজ। উজ্জল নামের বানিয়াচংয়ের এক ঠিকাদার কাজটি করছিলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রায় বছরখানেকের বেশি সময় কাজ বন্ধ থাকে। এরপর গত বছরের শেষ দিকে সেতুর উপরের অংশ ঢালাই কাজ করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুনাব আলী বলেন, সেতুর মুল অংশের কাজ করা হলেও এখনো উভয়পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ বাকি কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেতুটি জনসাধারণের দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে বরং বেড়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসান এন্টারপ্রাইজের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সেতুটি নির্মাণে কাজ করা উজ্জল আহমেদ জানান, হাসান এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যৌথভাবে তার বেশ কয়েকটি কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজটি তিনিই করছেন। মাটি না পাওয়ায় কাজ শেষ করা যায়নি। তবে খুব শিগগিরই কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘আমি কয়েক মাস হল এখানে যোগদান করেছি। কাজ শেষ করার জন্য আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দিচ্ছি।
সেতুর গোড়া থেকে বালু উত্তোলনের ফলে সেতুটি কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, গোড়া থেকে বালু উত্তোলন করছে বলে আমার জানা নেই, তবে লোক পাঠিয়ে বিষয়টি আমি খোঁজ নেব।
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 






















