Dhaka শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুছাব্বির হত্যার নেপথ্যের কারণ জানালো ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বিদেশে অবস্থানরত আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী বিনাশ দাদা ওরফে দিলীপের নির্দেশে ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে।

ডিবি প্রধান বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপির এই ডিবি প্রধান বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি ও দখল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেখান দ্বন্দ্ব থেকেই বিনাশের নির্দেশে শুটার রহিম এবং জিন্নাত কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানরত দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। দিলিপ আান্ডারওয়ার্ল্ডের একজন সন্ত্রাসী। কারওয়ান বাজার কেন্দ্রীক ৮-৯ টি চাঁদাবাজ গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।’

এর আগে, ১১ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সর্বশেষ গতকাল নরসিংদী থেকে আরেকজন কথিত শুটার রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গ্রেপ্তারদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দেড় দশক পর সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে : নাহিদ ইসলাম

মুছাব্বির হত্যার নেপথ্যের কারণ জানালো ডিবি

প্রকাশের সময় : ০১:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বিদেশে অবস্থানরত আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী বিনাশ দাদা ওরফে দিলীপের নির্দেশে ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে।

ডিবি প্রধান বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপির এই ডিবি প্রধান বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি ও দখল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেখান দ্বন্দ্ব থেকেই বিনাশের নির্দেশে শুটার রহিম এবং জিন্নাত কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানরত দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। দিলিপ আান্ডারওয়ার্ল্ডের একজন সন্ত্রাসী। কারওয়ান বাজার কেন্দ্রীক ৮-৯ টি চাঁদাবাজ গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।’

এর আগে, ১১ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সর্বশেষ গতকাল নরসিংদী থেকে আরেকজন কথিত শুটার রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গ্রেপ্তারদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।