নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর কাওরান বাজারের বিপরীতে স্টার কাবাবের গলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযানে প্রধান শ্যুটারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি)।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) গভীর রাতে মানিকগঞ্জ এবং গাজীপুরে একাধিক অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা বলেন, প্রধান শুটার জিনাত ও সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী বিল্লালসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া তৃতীয় ব্যক্তি এই দুজনের সহযোগী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের বিপরীতে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশে আহ্ছানউল্লা টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে দুর্বৃত্তরা মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদ (৫০) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে হত্যার ২৫ মিনিট আগে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় প্রধান দুই সন্দেহভাজন। কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের গলির মুখে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল তাদের এক সহযোগী। মোটরসাইকেলটি তার কাছে হস্তান্তর করে ওই দুজন গলির ভেতরের দিকে অন্ধকার স্থানে গিয়ে ওত পেতে থাকে। হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি ফার্মগেটের দিকে চলে যায়।
পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত চারজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের দুজনকে গুলি করার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। একজন ওই গলিতে এমনভাবে হাঁটাহাটি করছিল যে, প্রথমে তাকে সন্দেহই করা হয়নি। পরে আরেক স্থানের ফুটেজে দেখা যায়, জড়িত অপর তিনজনের সঙ্গে সে শলাপরামর্শ করছে। শনাক্ত হওয়া অপরজন গলির মুখে দাঁড়িয়েছিল।
মুছাব্বির হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও থানার সামনে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। এ সময় তারা বিচার চেয়ে নানারকম স্লোগান দেন। পরে তারা কারওয়ান বাজারে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করেন।
তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা জানান, সিসি ক্যামেরার নতুন কিছু ফুটেজ পাওয়া গেছে। তাতে হত্যায় সন্দেহভাজন চারজনের অনেকটা স্পষ্ট ছবি পাওয়া গেছে। এগুলোর মাধ্যমে তাদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শনাক্ত সন্দেহভাজনদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। নিশ্চিত হওয়া যায়নি হত্যার কারণ। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বসহ সম্ভাব্য সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।
তদন্ত সূত্র জানায়, মুছাব্বিরকে গুলি করার আগে রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেল আরোহী শুটার ও তার সহযোগী স্টার হোটেলের পাশের গলিতে যায়। গুলি ছোড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের পালিয়ে যেতে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত স্পটে থাকা চারজন শনাক্ত হলেও এ ঘটনার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া এবং এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, হত্যার হুমকিতে ছিলেন তাঁর স্বামী। বিভিন্ন সময় মুছাব্বির বলেছিলেন, তাঁর অনেক শত্রু হয়ে গেছে, যে কোনো সময় তাঁকে খুন করা হতে পারে। যদিও কারা সেই শত্রু, তা তিনি বলেননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















