ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে ফাতেহা আক্তার নামের সাত বছরের এক শিশুকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার চার দিন পর সোমবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের শুঁটকি কান্দি গ্রামের একটি ডোবা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিশু ওই গ্রামের প্রবাসফেরত বাছেদ মিয়ার মেয়ে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আটটায় ফাতেহা বেগম নিখোঁজ হয়। সোমবার (২ অক্টোবর) শিশুটির মা রুমি আক্তার থানায় জিডি করেন। সে দিন রুমি আক্তারের মোবাইলে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ফোন ও মেসেজ পাঠায় অপহরণকারীরা।
জিডির পর নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় শিশুটির ফুফাতো ভাই দরিয়াদৌত গ্রামের রাজ্জাক মিয়ার ছেলে লাজিম মিয়া (১৯) ও শুটকীকান্দি গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে আলাউদ্দিনকে (২১) গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে টেহারচর বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে শিশু ফাতেহার লাশ উদ্ধার করা হয়।
অপহরণকারীদের হাতে নিহত শিশুর বাবা বাছেদ মিয়া বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে, ফাতেহা বড় মেয়ে। ফাতেহাকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করে খুন করেছে আসামিরা। আমি তাদের ফাঁসি চাই।’
বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলম জানান, শিশুটি গত ৩০ আগস্ট বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পায়নি। এরই মাঝে শিশুটির মায়ের মোবাইলের ইমোতে কল করে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। তবে কোনও মুক্তিপণ দেয়নি পরিবার।
তিনি জানান, তাদের দুই জনের মোবাইল ফোনে শিশুটিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি সংক্রান্ত চ্যাটিং পাওয়া যায়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটিকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। এ সময় ডোবার পানিতে শিশুটির লাশ লুকিয়ে রাখার কথা তারা পুলিশকে জানায়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের দেখানো ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত শিশুটির মা আক্তার বাদী হয়ে গ্রেফতার লাজিম ও আলাউদ্দিনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পরে এই দুই তরুণকে আদালতে পাঠানো হয়।