Dhaka রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফের ৬ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর পল্টন থানার মানবপাচার আইনের মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এ তথ্য দিয়েছেন।

২০০৭-০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির টিকেটে ফেনী-৩ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন। ওই কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও মানব পাচারের অভিযোগেই গত বছর ৩ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় এ মামলা দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটর আলতাব খান।

এই মামলায় আগের সপ্তাহের সোমবার গভীর রাতে মাসুদ উদ্দিনকে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

রিমান্ড শেষে রোববার মাসুদ উদ্দিনকে আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের এসআই রায়হানুর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

শুনানি শেষে আদালত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয়।

আওয়ামী লীগ আমলের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর ও সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জন এই মামলার আসামি।

মামলায় আলতাব খান অভিযোগ করেছেন, “জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকলেও আসামিরা সিন্ডিকেট করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করেছেন। আসামি সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন সরকারি চাকরিরত অবস্থায় নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তার ছেলেকে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আর সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে বিধিবর্হিভূতভাবে ‘প্রবাসী’ নামে একটি অ্যাপ চালু করার অনুমোদন দিয়ে ওই চক্রকে সহযোগিতা করেছেন।”

বাদীর অভিযোগ, মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ‘তার সরলতার সুযোগ নিয়ে’ ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগ করে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে তার কাছ থেকে জোর করে অতিরিক্ত চাঁদা হিসেবে মাথাপিছু দেড় লাখ টাকা হারে ৮৪১ জনের কাছ থেকে ১২ কোটি ৫৬ লাখ এক হাজার টাকা আদায় করেছে। ওই চক্র অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে ‘আত্মসাৎ’ করেছে।

মানব পাচারের মামলার পর মাসুদ উদ্দিনকে ‘মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন রেখেছেন বিচারক।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হওয়ার দুদিন পর ২৫ মার্চ রাতে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি এক সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক ছিলেন।

পরে জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার এক মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড পাঠায় আদালত।

ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ রয়েছে শেখ মামুনের বিরুদ্ধে। এক-এগারোর সময় তার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

রোববার আলোচিত সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তাকে মনবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৭ এপ্রিল তাদের হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রতিকিউশনের আবেদনে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রোববার এ আদেশ দেয়।

প্রসিকিউশন কার্যালয় জানায়, জুলাই-অগাস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞ এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গুমের অভিযোগে দুটি মামলায় ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ জারির মাধ্যমে ওই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।

আবহাওয়া

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফের ৬ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশের সময় : ০৪:৩২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর পল্টন থানার মানবপাচার আইনের মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এ তথ্য দিয়েছেন।

২০০৭-০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির টিকেটে ফেনী-৩ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন। ওই কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও মানব পাচারের অভিযোগেই গত বছর ৩ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় এ মামলা দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটর আলতাব খান।

এই মামলায় আগের সপ্তাহের সোমবার গভীর রাতে মাসুদ উদ্দিনকে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

রিমান্ড শেষে রোববার মাসুদ উদ্দিনকে আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের এসআই রায়হানুর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

শুনানি শেষে আদালত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয়।

আওয়ামী লীগ আমলের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর ও সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জন এই মামলার আসামি।

মামলায় আলতাব খান অভিযোগ করেছেন, “জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকলেও আসামিরা সিন্ডিকেট করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করেছেন। আসামি সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন সরকারি চাকরিরত অবস্থায় নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তার ছেলেকে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আর সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে বিধিবর্হিভূতভাবে ‘প্রবাসী’ নামে একটি অ্যাপ চালু করার অনুমোদন দিয়ে ওই চক্রকে সহযোগিতা করেছেন।”

বাদীর অভিযোগ, মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ‘তার সরলতার সুযোগ নিয়ে’ ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগ করে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে তার কাছ থেকে জোর করে অতিরিক্ত চাঁদা হিসেবে মাথাপিছু দেড় লাখ টাকা হারে ৮৪১ জনের কাছ থেকে ১২ কোটি ৫৬ লাখ এক হাজার টাকা আদায় করেছে। ওই চক্র অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে ‘আত্মসাৎ’ করেছে।

মানব পাচারের মামলার পর মাসুদ উদ্দিনকে ‘মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন রেখেছেন বিচারক।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হওয়ার দুদিন পর ২৫ মার্চ রাতে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি এক সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক ছিলেন।

পরে জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার এক মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড পাঠায় আদালত।

ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ রয়েছে শেখ মামুনের বিরুদ্ধে। এক-এগারোর সময় তার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

রোববার আলোচিত সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তাকে মনবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৭ এপ্রিল তাদের হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রতিকিউশনের আবেদনে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রোববার এ আদেশ দেয়।

প্রসিকিউশন কার্যালয় জানায়, জুলাই-অগাস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞ এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গুমের অভিযোগে দুটি মামলায় ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ জারির মাধ্যমে ওই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।