Dhaka রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে সরকার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে : মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ আমি মালয়েশিয়ায় খুব সংক্ষিপ্ত একটা সফরে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার কীভাবে উন্মুক্ত করা যায়, সেগুলো নিয়ে মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান শুনেছেন এবং সেখানে ওনাদের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের অনেক প্রতিনিধি ছিলেন। আমরা সেখানে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য ওনার সহযোগিতা চেয়েছি। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে যেন বিদেশে, বিশেষত মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিকে সহজতর করে আবার পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, সেখানে আমাদের আলোচনা হয়েছে কীভাবে আমরা বিদেশে যাওয়া প্রক্রিয়াটাকে আরও স্বচ্ছ করতে পারি; বিশেষত মালয়েশিয়ায় যারা কাজ করতে যাচ্ছেন তাদের জন্য অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে পারি। ওনাদের একটি বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যার মাধ্যমে তারা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশ থেকে শ্রমিক নিয়ে যাবেন তাদের দেশে। যেহেতু এটা শুধু বাংলাদেশ না, সব দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত মালয়েশিয়ার একটি সিদ্ধান্ত, সেখানে আমরা বলেছি আমাদের মূল উদ্দেশ্য এর মাধ্যমে যেন বাংলাদেশকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় স্বল্প খরচে শ্রমিকেরা বিদেশে যেতে পারেন, সেটি যেন ওনারা (মারয়েশিয়া) নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং আমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের অনুমতিক্রমে প্রথম বারের মতো বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক একটি যৌথ বিবৃতি আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন যা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান থেকে আমাদের যা বক্তব্য সেগুলো যেন প্রতিফলিত হয়েছে, মালয়েশিয়ার অবস্থান উঠে এসেছে। তবে এই যৌথ বিবৃতি আমাদের জন্য একটা বড় ব্রেক-থ্রু, যেখানে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কীভাবে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা যায়, সেক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি চিঠি দিয়েছিলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন। জনগণের ভোটে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দনের পাশাপাশি দেশ পরিচালনায় সর্বাঙ্গীন শুভকামনা জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া ভ্রমণ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আরও সহজে, সুলভে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়া যায়। এর পাশাপাশি আমরা সেখানে আলোচনা করেছি যারা এই মুহূর্তে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন, সেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের জীবনমান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, ওনাদের সুযোগ-সুবিধা কীভাবে বাড়ানো যায়। যাদের ডকুমেন্টেশন সমস্যা রয়েছে ওনাদের কীভাবে লিগ্যালাইজ করানো যায় এবং এ বিষয়ে আমরা আমাদের দেশের অবস্থান তুলে ধরেছি যেন মালয়েশিয়া আমাদের এক্ষেত্রে সহযোগিতা করে। তারা বলেছেন যে মালয়েশিয়ার জন্য যে পলিসিগুলো সেগুলো শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে একইভাবে প্রযোজ্য হয়; যার কারণে আমাদের সবগুলো অনুরোধ ওনারা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আমাদের অবস্থান হচ্ছে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা ভিন্ন, কারণ সবচাইতে বেশি সংখ্যক শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছেন। এবং মালয়েশিয়ার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং আমরা অনুরোধ জানিয়েছি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেন বিশেষভাবে ওনারা বিবেচনা করেন। এবং সেই প্রতিশ্রুতি ওনারা দিয়েছেন যে ওনারা সামগ্রিকভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন। বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য আলাদাভাবে, আলাদা নিয়মে কোনো কিছু করার সুযোগ থাকবে কি না।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষায় কীভাবে ডিগ্রি এবং সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে সমন্বয় করার সুযোগ থাকে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ থাকে, বিশেষভাবে টিচার এবং স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে আমাদের নতুন দ্বার উন্মুক্ত করা যায় কি না, যেটি নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, সে বার্তা আমরা পৌঁছে দিয়েছি। এর পাশাপাশি যারা মালয়েশিয়ায় গ্র্যাজুয়েশন করে, প্রতি বছর ১০ হাজারের বেশি মানুষ সেখানে পড়াশোনা করতে থাকেন, তাদের গ্র্যাজুয়েশনের পরে কীভাবে মালয়েশিয়ার মেইনস্ট্রিম কমিউনিটিতে আরেকটু ইন্টিগ্রেট করা যায়, ওনাদের জন্য কী সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায়, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় যেটা উঠেছে, দুটো দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে বহুমুখী সহযোগিতা এবং গবেষণার জন্য কীভাবে একটি সেম প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যায় এবং দুই দেশের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের একসাথে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমরা আরও বেশি কোলাবরেশন তৈরি করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার প্রধান যেটি রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট এবং ইনোভেশনের সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘মিমোস’ ভিজিট করেছিলাম। সেখানকার যিনি সিইও ওনার টিমসহ আলোচনা করেছি যে বাংলাদেশে কীভাবে আমরা মালয়েশিয়াতে গড়ে ওঠা টেকনোলজিক্যাল যে ইকোসিস্টেম রয়েছে তার আলোকে আমাদের দেশেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং উৎপাদনমুখী এবং উদ্ভাবনী যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের সংযোগ তৈরি করতে পারি। বিশেষত মালয়েশিয়া থেকে আগ্রহ জানানো হয়েছে আমাদের সেমিকন্ডাক্টর, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিক্স—মডার্ন যে টেকনোলজিক্যাল টুলস এবং সাবজেক্টস রয়েছে এগুলো যদি আমরা আমাদের এডুকেশন কারিকুলামে ইন্ট্রোডিউস করি সেক্ষেত্রে ওনারা আমাদের কারিগরি এবং কারিকুলাম রিলেটেড সহযোগিতা করবেন ইনশাআল্লাহ।

মাহদী আমিন বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা ভোট দিয়েছেন, যেটি আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। তার আলোকে আমরা সামনে ইনশাআল্লাহ ‘প্রবাসী কার্ড’ শুরু করব। আমাদের প্রবাসী প্রতিটি ভাই এবং বোনের পাশে আমরা থাকব।

তিনি বলেন, আমরা চাই স্বল্প খরচে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যেন আমাদের মানুষ যেতে পারেন এবং মালয়েশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছি এই প্রক্রিয়াটাকে সিন্ডিকেট মুক্ত করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন সেটি যেন করেন। এক্ষেত্রে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন।

মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন যে গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। বিচার বিভাগ তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যারা অপরাধী, যারা দুর্নীতি বা অপকর্মে যুক্ত, তারা আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি পাবে। একইভাবে যারা নির্দোষ, তারাও সুবিচার পাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

‘ক্রেডিবল রিক্রুটিং এজেন্সি’র টার্ম আসছে যৌথ বিবৃতিতে। এই টার্মটা আসলে কী? এটা কি আবারও সিন্ডিকেটের নতুন কোনো অংশ কি না- এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, না, এটা তো শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ওনারা (মারয়েশিয়া) যেভাবে শ্রমিক নেন, সেখানে ওনাদের সার্টেইন কিছু ক্রাইটেরিয়া রয়েছে। ওই ক্রাইটেরিয়াটা বাংলাদেশ না, পৃথিবীর সব জায়গাতেই প্রযোজ্য।

কবে থেকে এটা ওপেন হতে পারে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি প্রক্রিয়াগত বিষয়। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি উন্মোচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা ক্রেডিবল বা কোয়ালিফাইড বলতে তাদেরই বোঝাবো, যারা দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রিক্রুটমেন্ট পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে চাই।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বেশি সংখ্যক মানুষ বিদেশে যেতে পারবে, অভিবাসন ব্যয় কমবে এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি।

আবহাওয়া

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে সরকার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে : মাহদী আমিন

প্রকাশের সময় : ০৫:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ আমি মালয়েশিয়ায় খুব সংক্ষিপ্ত একটা সফরে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার কীভাবে উন্মুক্ত করা যায়, সেগুলো নিয়ে মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান শুনেছেন এবং সেখানে ওনাদের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের অনেক প্রতিনিধি ছিলেন। আমরা সেখানে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য ওনার সহযোগিতা চেয়েছি। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে যেন বিদেশে, বিশেষত মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিকে সহজতর করে আবার পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, সেখানে আমাদের আলোচনা হয়েছে কীভাবে আমরা বিদেশে যাওয়া প্রক্রিয়াটাকে আরও স্বচ্ছ করতে পারি; বিশেষত মালয়েশিয়ায় যারা কাজ করতে যাচ্ছেন তাদের জন্য অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে পারি। ওনাদের একটি বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যার মাধ্যমে তারা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশ থেকে শ্রমিক নিয়ে যাবেন তাদের দেশে। যেহেতু এটা শুধু বাংলাদেশ না, সব দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত মালয়েশিয়ার একটি সিদ্ধান্ত, সেখানে আমরা বলেছি আমাদের মূল উদ্দেশ্য এর মাধ্যমে যেন বাংলাদেশকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় স্বল্প খরচে শ্রমিকেরা বিদেশে যেতে পারেন, সেটি যেন ওনারা (মারয়েশিয়া) নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং আমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের অনুমতিক্রমে প্রথম বারের মতো বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক একটি যৌথ বিবৃতি আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন যা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান থেকে আমাদের যা বক্তব্য সেগুলো যেন প্রতিফলিত হয়েছে, মালয়েশিয়ার অবস্থান উঠে এসেছে। তবে এই যৌথ বিবৃতি আমাদের জন্য একটা বড় ব্রেক-থ্রু, যেখানে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কীভাবে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা যায়, সেক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি চিঠি দিয়েছিলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন। জনগণের ভোটে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দনের পাশাপাশি দেশ পরিচালনায় সর্বাঙ্গীন শুভকামনা জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া ভ্রমণ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আরও সহজে, সুলভে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়া যায়। এর পাশাপাশি আমরা সেখানে আলোচনা করেছি যারা এই মুহূর্তে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন, সেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের জীবনমান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, ওনাদের সুযোগ-সুবিধা কীভাবে বাড়ানো যায়। যাদের ডকুমেন্টেশন সমস্যা রয়েছে ওনাদের কীভাবে লিগ্যালাইজ করানো যায় এবং এ বিষয়ে আমরা আমাদের দেশের অবস্থান তুলে ধরেছি যেন মালয়েশিয়া আমাদের এক্ষেত্রে সহযোগিতা করে। তারা বলেছেন যে মালয়েশিয়ার জন্য যে পলিসিগুলো সেগুলো শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে একইভাবে প্রযোজ্য হয়; যার কারণে আমাদের সবগুলো অনুরোধ ওনারা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আমাদের অবস্থান হচ্ছে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা ভিন্ন, কারণ সবচাইতে বেশি সংখ্যক শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছেন। এবং মালয়েশিয়ার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং আমরা অনুরোধ জানিয়েছি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেন বিশেষভাবে ওনারা বিবেচনা করেন। এবং সেই প্রতিশ্রুতি ওনারা দিয়েছেন যে ওনারা সামগ্রিকভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন। বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য আলাদাভাবে, আলাদা নিয়মে কোনো কিছু করার সুযোগ থাকবে কি না।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষায় কীভাবে ডিগ্রি এবং সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে সমন্বয় করার সুযোগ থাকে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ থাকে, বিশেষভাবে টিচার এবং স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে আমাদের নতুন দ্বার উন্মুক্ত করা যায় কি না, যেটি নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, সে বার্তা আমরা পৌঁছে দিয়েছি। এর পাশাপাশি যারা মালয়েশিয়ায় গ্র্যাজুয়েশন করে, প্রতি বছর ১০ হাজারের বেশি মানুষ সেখানে পড়াশোনা করতে থাকেন, তাদের গ্র্যাজুয়েশনের পরে কীভাবে মালয়েশিয়ার মেইনস্ট্রিম কমিউনিটিতে আরেকটু ইন্টিগ্রেট করা যায়, ওনাদের জন্য কী সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায়, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় যেটা উঠেছে, দুটো দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে বহুমুখী সহযোগিতা এবং গবেষণার জন্য কীভাবে একটি সেম প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যায় এবং দুই দেশের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের একসাথে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমরা আরও বেশি কোলাবরেশন তৈরি করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার প্রধান যেটি রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট এবং ইনোভেশনের সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘মিমোস’ ভিজিট করেছিলাম। সেখানকার যিনি সিইও ওনার টিমসহ আলোচনা করেছি যে বাংলাদেশে কীভাবে আমরা মালয়েশিয়াতে গড়ে ওঠা টেকনোলজিক্যাল যে ইকোসিস্টেম রয়েছে তার আলোকে আমাদের দেশেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং উৎপাদনমুখী এবং উদ্ভাবনী যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের সংযোগ তৈরি করতে পারি। বিশেষত মালয়েশিয়া থেকে আগ্রহ জানানো হয়েছে আমাদের সেমিকন্ডাক্টর, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিক্স—মডার্ন যে টেকনোলজিক্যাল টুলস এবং সাবজেক্টস রয়েছে এগুলো যদি আমরা আমাদের এডুকেশন কারিকুলামে ইন্ট্রোডিউস করি সেক্ষেত্রে ওনারা আমাদের কারিগরি এবং কারিকুলাম রিলেটেড সহযোগিতা করবেন ইনশাআল্লাহ।

মাহদী আমিন বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা ভোট দিয়েছেন, যেটি আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। তার আলোকে আমরা সামনে ইনশাআল্লাহ ‘প্রবাসী কার্ড’ শুরু করব। আমাদের প্রবাসী প্রতিটি ভাই এবং বোনের পাশে আমরা থাকব।

তিনি বলেন, আমরা চাই স্বল্প খরচে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যেন আমাদের মানুষ যেতে পারেন এবং মালয়েশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছি এই প্রক্রিয়াটাকে সিন্ডিকেট মুক্ত করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন সেটি যেন করেন। এক্ষেত্রে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন।

মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন যে গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। বিচার বিভাগ তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যারা অপরাধী, যারা দুর্নীতি বা অপকর্মে যুক্ত, তারা আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি পাবে। একইভাবে যারা নির্দোষ, তারাও সুবিচার পাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

‘ক্রেডিবল রিক্রুটিং এজেন্সি’র টার্ম আসছে যৌথ বিবৃতিতে। এই টার্মটা আসলে কী? এটা কি আবারও সিন্ডিকেটের নতুন কোনো অংশ কি না- এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, না, এটা তো শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ওনারা (মারয়েশিয়া) যেভাবে শ্রমিক নেন, সেখানে ওনাদের সার্টেইন কিছু ক্রাইটেরিয়া রয়েছে। ওই ক্রাইটেরিয়াটা বাংলাদেশ না, পৃথিবীর সব জায়গাতেই প্রযোজ্য।

কবে থেকে এটা ওপেন হতে পারে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি প্রক্রিয়াগত বিষয়। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি উন্মোচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা ক্রেডিবল বা কোয়ালিফাইড বলতে তাদেরই বোঝাবো, যারা দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রিক্রুটমেন্ট পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে চাই।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বেশি সংখ্যক মানুষ বিদেশে যেতে পারবে, অভিবাসন ব্যয় কমবে এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি।