নিজস্ব প্রতিবেদক :
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতীতের মতো সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ‘সিন্ডিকেট’ পদ্ধতিতে সরকার আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। যোগ্য ও লাইসেন্সধারী সব এজেন্সির জন্য এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখা হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত প্রশ্ন রাখেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল। বর্তমান সরকার কি আবারও নির্দিষ্টসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠাবে নাকি যোগ্য সবার জন্য বাজার উন্মুক্ত রাখবে?
জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, না, বর্তমান সরকার অতীতের ন্যায় সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে আগ্রহী নয়।
আরিফুল হক চৌধুরী আরো জানান, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্সধারী সকল রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখতে সচেষ্ট। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত পত্রযোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছর ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। যার মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী রয়েছেন। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাস খাত বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য প্রণীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানো একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচনী ইশতেহারে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ইতোমধ্যে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রুমানিয়া, সিসেলস, পর্তুগাল, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক/চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও আন্তর্জাতিক জনশক্তি উন্নয়ন সংস্থা, জাপান (আইএম-জাপান)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী প্রেরণ করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং অধিকহারে কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে এ মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ নামে আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ফেরত আসা কর্মীদের পুনরায় বিদেশে প্রেরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পূর্ববর্তী শিক্ষা কাজের স্বীকৃতি এবং তার সনদ প্রদান করা হচ্ছে, ফলে বিদেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এক লাখ চালক তৈরির জন্য সরকার ‘দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যা সফলভাবে চলমান রয়েছে। কম্বোডিয়ার সঙ্গে আলোচনার কার্যবিবরণী (আরওডি), জাপানের সঙ্গে স্পেশালাইজ স্কিলড ওয়ার্কার প্রেরণের জন্য সহযোগিতা স্মারকলিপি এবং সিসেলসের সাথেশ্রম সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাপান স্পেশালাইজড স্কিলড ওয়ার্কার সেন্ডিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৯ম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
আরিফুল হক বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লি. (বোয়েসেল) এর মাধ্যমে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ফিজি, মালয়েশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিয়মিতভাবে স্বল্প খরচ/বিনা খরচে কর্মী প্রেরণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬টি ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে (আইএমটি) ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব দক্ষ জনবলের দেশ এবং বিদেশে কর্মসংস্থান হচ্ছে। বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় বিএমইটির আওতায় ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ডিটিটিআই) এ বিদেশি ভাষা ও দক্ষতা কেন্দ্রের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের গন্তব্য দেশের ভাষাগত সমস্যা দূরীকরণে জাপানিজ, কোরিয়ান, ইংরেজি, চায়নিজ (ক্যান্টনিজ) ও (ম্যান্ডারিন), আরবি, ইতালিয়ান, জার্মান ইত্যাদি ভাষার নেটিভ স্পিকার নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিএমইটি ও সৌদি আরবস্থ কম্পানি তাকামলের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রামের (এসভিপি) আওতায় ২৯টি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৭৯টি অকুপেশনে দক্ষতা যাচাই পরিচালনা করা হচ্ছে। স্কিল টেস্টে পাস করে প্রাপ্ত সনদ নিয়ে সৌদি আরবে গমন করছে।
সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারী সরদারের লিখিত এক প্রশ্নের উত্তরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, বিদেশে জনশক্তি প্রেরণে হয়রানি ও প্রতারণা নির্মূলে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। কর্মীদের অধিকতর সুরক্ষা, কল্যাণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো—
১. অবৈধ অভিবাসন সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাইসাপেক্ষে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’ সালের আওতায় ফৌজদারি মামলা দায়ের অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সাজা প্রদান, রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, স্থগিত, জামানত বাজেয়াপ্ত, ক্ষতিপূরণ আদায়সহ বিভিন্ন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
২. বিদেশগামী, বিদেশ প্রত্যাগত এবং বিদেশে কর্মরত ব্যক্তির আবেদন বা নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে অভিবাসন সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগ দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের ডিইএমও-গুলোতে অভিযোগ তদন্ত কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। ফলে অভিযোগকারীদের সময়, পরিদর্শন এবং যাতায়াত ব্যয় কমিয়ে দ্রুত সময়ে অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে ২০৫৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তিপূর্বক ক্ষতিগ্রস্তদের ৯ কোটি ৯২ লক্ষ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়া হয়েছে।
৩. বাংলাদেশ মিশনগুলোর শ্রম কল্যাণ উইংয়ের তত্ত্ববধানে পরিচালিত সেইফ হোমে বিপদগ্রস্ত নারীকর্মীদের উদ্ধার করে আশ্রয় প্রদান করা হয়।
৪. বিদেশে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের থাকা-খাওয়া এবং পরবর্তীতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এর খরচে দেশে ফেরত আনা হয়।
৫. প্রবাসীকর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধে বাংলাদেশ মিশনসমূহের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশ, ইমিগ্রেশন, আইনসেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ ও নিয়োগকর্তাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স কাজ করছে।
৬. সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের নিরাপত্তায় সে দেশের সঙ্গে চুক্তিতে কর্মীর সঙ্গে মোবাইল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে— যাতে করে কর্মী যেকোনও সমস্যায় দুতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে পারে।
সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কার্যক্রম। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানকে সরকার মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩)’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় কোনো শ্রমিক নিহত বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক বা তার পরিবারকে এককালীন অনধিক ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
এছাড়াও, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী মালিকপক্ষ দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে আইনগতভাবে বাধ্য।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় মোটরযান দুর্ঘটনায় হতাহতদের ক্ষেত্রেও ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার ইলাছ মিয়া, চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ৮০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন।
এছাড়া মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী ও বড়লেখা) নির্বাচনী এলাকায় সর্বমোট ১৪ জন শ্রমিক ও তাদের পরিবারের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সরকার ভবিষ্যতেও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার এবং শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী।
শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. সফিকুর রহমান কিরনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে জনশক্তি রপ্তানি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে সরকার বসে নেই। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রবাসীদের কল্যাণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ১৮০ দিনের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮টি দেশের সঙ্গে কর্মী প্রেরণের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সই হয়েছে।
জাপানের শ্রমবাজারে বড় সুযোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এজন্য ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং জাপানি ভাষায় দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আইএম জাপানের মাধ্যমে কোনো প্রকার অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই টেকনিক্যাল ইন্টার্ন পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ জাপানে ‘স্পেশালাইজড স্কিলড ওয়ার্কার’ পাঠানোর ক্ষেত্রে ৯ম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
বিদেশে দক্ষ চালকের চাহিদা মেটাতে সরকার এক লাখ ড্রাইভার তৈরির লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে (আইএমটি) ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের পুনরায় প্রশিক্ষণের (আরপিএল) মাধ্যমে তাদের কাজের স্বীকৃতি ও সনদ দেওয়া হচ্ছে।
ভাষা শিক্ষা ও স্কিল ভেরিফিকেশন
মন্ত্রী জানান, বিদেশের মাটিতে ভাষাগত সমস্যা দূর করতে জাপানিজ, কোরিয়ান, ইংরেজি, চাইনিজ, আরবি, ইতালিয়ান ও জার্মান ভাষায় প্রশিক্ষণ দিতে নেটিভ স্পিকার (বিদেশি প্রশিক্ষক) নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে গমনেচ্ছুদের জন্য ‘তাকামল’ (ঞঅকঅগঙখ) এর মাধ্যমে ৭৯টি পেশায় স্কিল ভেরিফিকেশন টেস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের জনশক্তি রপ্তানির চিত্র
সংসদে মন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান পেয়েছেন, যার মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা ৬২ হাজার ৩৫২ জন। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি ‘বোয়েসেল’ এর মাধ্যমে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোতে নামমাত্র খরচে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে পারে, সেজন্য বিএমইটি থেকে লাইসেন্স প্রদান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে প্রবাসীদের সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















