নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের পরিণতি কী হতে পারে তা দেশের মানুষ ৫ আগস্ট দেখেছে জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও মতবিভেদের দিকে যাওয়া যাবে না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, তা আলোচনার মাধ্যমে আমাদের সমাধান করতে হবে। তবে কোনোভাবেই মতবিভেদের দিকে যাওয়া যাবে না। নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চেয়েছে, আমরা যারা রাজনীতি করি তাদের কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু সকল প্রত্যাশাই যে পূরণ করতে পারবো সে নিশ্চয়তা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪ সবগুলোকে সামনে রেখে যদি আমরা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি তাহলে আমরা জাতিকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো।
তারেক রহমান বলেন, বিগত শাসনামলে আমার মায়ের সঙ্গে কী হয়েছে, সম্পাদকদের সঙ্গে কী হয়েছে তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু, আমাদের কোনোভাবেই ৫ আগস্টের পূর্বে ফিরে যাওয়া যাবে না। হিংসা প্রতিহিংসার পরিণতি কী হতে পারে তা আমরা ৫ আগস্টে দেখেছি। সেই সময়ে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই।
দেশে ফিরে বেশ কয়েকটি জায়গায় গেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছেন, একটি আশা দেখতে চাইছেন। শুধু নতুন প্রজন্মই নয়, আমার কাছে মনে হয়েছে সব প্রজন্মই একটি গাইডেন্স চাইছে। আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা। সব প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে আমরা জাতিকে একটি সঠিক দিকে নিয়ে যেতে পারব।
উপস্থিত এক নারী সাংবাদিক নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলেন। সে বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, শুধু নারী নয়; নারী–পুরুষ সবারই নিরাপত্তা প্রয়োজন। গত বছর সম্ভবত সাত হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। বিষয়টি আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক লাগে। কিন্তু ঘটনা ঘটছে—কোনো বছর কম, কোনো বছর বেশি। তাহলে এমন অস্বাভাবিক ঘটনা কেন ঘটছে? এমন অনেক বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে রাজনীতিবিদদের চিন্তাভাবনা করা উচিত।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে; অবশ্যই আমরা ৫ অগাস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা; একই সাথে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি জানাজা; আর আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের একটি ঘটনা। কাজেই আমার মনে হয় এটি শুধু বোধহয় আমার একার জন্য নয়, যারা আমার দলের নেতাকর্মী সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরা দেশের মানুষের সামনে এই দুটি উদাহরণ বোধহয় সবচাইতে বাদ বিবেচনা করার জন্য সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে—আসলে ৫ আগস্টের আগে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের।
তিনি বলেন, হিংসা-প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি—তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ অগাস্ট। এবং আমি সেজন্যই সকলকে অনুরোধ করব দলমত নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে; কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি, তাহলে সে মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সেটির অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কিন্তু কোনোভাবেই সেটি যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে, বিভেদ হলে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি। আজকে সেজন্যই অনেকের মুখে অনেক হতাশার কথা আমরা শুনি; কিন্তু তার পরও আশার কথা হচ্ছে যে—তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।
যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান।
এর ১০ দিনের মাথায় শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এর পরদিন প্রথম কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, আমার দেশে ফিরে আসার পরে আমি যে কয়বার আমার বাইরে যাওয়ার একটু বেশি সুযোগ হয়েছে, আমি সাভারে গিয়েছিলাম, আরও কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে, নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রত্যেকটি প্রজন্মই মনে হয় কিছু একটি গাইডেন্স চাইছে। আমরা যারা রাজনীতিবিদ করি, আমাদের কাছে হয়তো অনেক প্রত্যাশা; সকল প্রত্যাশা হয়তোবা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট এই সবগুলোকে আমাদের সামনে রেখে আমরা যদি দেশের স্বাধীনতা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে নিশ্চয়ই আমার কাছে মনে হয়—একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা জাতিকে একটি সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যেতে সক্ষম হব।
দেশে দেড় কোটির মতন কৃষক আছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এত বিশাল সংখ্যক মানুষ- যারা ২০ কোটি মানুষের খাওয়া পরার ব্যবস্থা করছে, খাওয়ার-অন্নের সংস্থান করছে সেই এত বড় সমাজটাকে কীভাবে সাপোর্ট দেওয়া যায়। তাদের হয়তো সেভাবে বলার সুযোগ নেই এখানে আপনারা সংবাদপত্রের যারা কর্মী আছেন আপনারা আপনাদের কিছু সমস্যার কথা বলেছেন আপনাদের সমস্যাটা আমাদের জন্য শুনতে জানতে সহজ হয় বিকজ আমাদের জন্য একটা ভেন্যু আছে, যেখানে আমরা আলাপ করতে পারি। কিন্তু ওই কৃষকগুলো যাদের কোনো ভেন্যু নেই যারা এরকম একটা প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করতে পারছে না তারা কীভাবে বলবে কথাগুলো। কাজেই তাদের কথা তো আমাদের জানতে হবে।
দেশে ফেরার এক সপ্তাহর মধ্যে মা খালেদা জিয়াকে হারান তারেক রহমান।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা তুলে ধরে তার বড় ছেলে তারেক বলেন, মরুহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছিলেন। পরবর্তীতে আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে; এই নারীরাই শিক্ষিত হয়েছে, এদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। একটু আগে আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটি বলেছিলাম, সেটির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, সেটাই এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি, এভারেজে একটি পরিবারে ৫ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে।
কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি কার্ড চালুর ভাবনা রয়েছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি বড় সমস্যা হচ্ছে হেলথ ইস্যু। বাংলাদেশে ২০ কোটি মানুষ। আমরা স্লোগান দিয়ে হয়তো বলতে পারি যে, ‘সকলের জন্য স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করব, আমরা সকলকে স্বাস্থ্য সুবিধা দেব’। যেকোনো ধরনের সেটি বাইপাস হোক, কার্ডিয়াক হোক, ক্যান্সার হোক—সবরকম চিকিৎসা ইউকে দেয়। এখন আমরা কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে, এই কাজটা করতে গিয়ে ইউকের মতন দেশগুলো ইউরোপের যে ডেভেলপ দেশগুলো আছে তারা হিমশিম খাচ্ছে। তারা এখন যেটাতে চাচ্ছে সেটা হচ্ছে প্রিভেনশন। …কিন্তু যদি প্রিভেনশন করা হয়, মানুষকে যদি সচেতন করা হয় যে, ‘এই এই খাবারগুলো খেও না, তাহলে তুমি কিডনি প্রবলেম হবে না’; ‘এই খাবারগুলো খেও না, তাহলে তোমার হার্ট প্রবলেম হবে না’; ‘এই খাবারগুলো খেও না, তাহলে তোমার ডায়বেটিক হবে না’—মানুষকে যদি এভাবে সচেতন করা যায়; তাহলে দেখা গেছে, তাতে রাষ্ট্রের খরচ অনেক কমে আসে, মানুষও সুস্থ থাকে। এবং এটার উপর বেস করে যেহেতু ইউরোপেই এই কাজটা চলছে, এটার ওপর বেস করে আমরা হেলথ কেয়ারার অ্যাপয়েন্ট করতে চাই।
সাংবাদিকদের কাছে গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, আমরা ইনশাল্লাহ দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে যাতে আপনাদের কাছ থেকে আপনাদের কাছ থেকে এমন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা আমরা পাই, যেটা আমাদেরকে সাহায্য করবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। শুধু সমালোচনা- সমালোচনা করার জন্য নয়। আপনাদের কাছ থেকে এমন সমালোচনা আমরা পাই, যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে- সেই সমস্যাগুলো যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















