ভোলা জেলা প্রতিনিধি :
ভোলার চরফ্যাশনে বাস মালিক সমিতির ডিপো থেকে বাস সরিয়ে দেওয়া, কাউন্টার ভাঙচুর ও সুপারভাইজারকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে ভোলার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বাস শ্রমিকরা। এ সময় তারা ভোলা বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এ ধর্মঘটের ডাক দেয় ভোলা জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়ন। পরে দুপুর ২টার দিকে পুলিশের অনুরোধে সড়ক অবরোধ তুলে নিলেও বাস ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন তারা।
ঈদকে সামনে রেখে হঠাৎ বাস ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এ রুটে চলাচলকারী ভোলার সাত উপজেলার শত শত যাত্রী।
বাস শ্রমিকরা জানান, সকালের ১০টার দিকে চরফ্যাশনের টিবি স্কুলের সামনে সিএনজির লোকজন তাদের একটি বাস আটকে চালক ও হেলপারকে মারধর করেন। একই সাথে চরফ্যাশন বাজারের মালিক সমিতির বাস ডিপো থেকে বাস বের করে দিয়ে সেখানকার বাস কাউন্টার ভাঙচুর ও সুপারভাইজারকে হেনস্তা করা হয়েছে। এ জন্য শ্রমিকরা এ ঘটনার বিচার ও তাদের জীবনের নিরপত্তার জন্য বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
এ ঘটনার সঠিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো শ্রমিক বাস চালাবেন না। মালিক ও চালকরা দীর্ঘ দিন ধরেই বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা ও মারধর করে আসছে। ভোলা-চরফ্যাশন ও দক্ষিণ আইচা রুটের চলাচলকারী যাত্রীবাহি বাসের নিজস্ব ডিপো। বাজারের যানজট কমাতে সোমবার সকালে স্থানীয় প্রশাসন ডিপো থেকে বাস বের করে নতুন টারমিনালে পাঠিয়ে দেয়।
ভোলা জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, কথায় কথায় সিএনজি চালকরা বাসের চালক ও হেলপারদের মারধর করে আসছে। যদিও মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলে আদলতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর পরও তারা বিভিন্ন সময়ে বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা করে আসছে।
সিএনজি অবৈধ হয়েও বৈধ বাস বন্ধ করে দিতে চায়। এছাড়াও চরফ্যাশন বাজারের মধ্যে বাস মালিক সমিতির নিজস্ব ডিপো থাকা সত্বেও বিভিন্ন সময়ে সিএনজি মালিক সমিতির লোকজন বাজারে বাস ডুকতে বাধা দিচ্ছে।
অথচ চরফ্যাশন বাজারের সদর রোডে অবৈধ যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল ও অবস্থান করছে। বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা ও মারধরের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ভোলা-চরফ্যাশন রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘট চলবে বলে জানান তিনি।
ভোলা বাস মালিক সমিতির ডিপো কর্মকর্তা অসিম দত্ত জানান, সিএনজি চালিত অটোরিকশার নেতারা জোরপূর্বক বাস মালিক সমিতির নিজস্ব ডিপো থেকে বাস বের করে দেয়। এ সময় কাউন্টার ভাঙচুর ও সুপারভাইজারকে হেনস্তা করা হয়। এ ঘটনায় বাস শ্রমিকরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
তবে ভোলা জেলা সিএনজি ও হালকা যান মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাকসুদুর রহমান জানান, জিএনজির লোকজন বাস শ্রমিকদেরকে মারধরের বিষয়টি সত্য নয়। সিএনজির কেউ ডিপো থেকে বাস বের করে দেয়নি। তবে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করায় তারা বাস বের করে দিয়েছে।
ভোলা জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল গনি বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে অন্যান্য যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেছি। তবে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলছি।
ভোলা জেলা প্রতিনিধি 





















