নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে এবং করবে। তাদের প্রতিহত করতে জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
রোববার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য ছিল, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। ঐক্যে ফাটল ধরলে দোসররা নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এজন্য রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর ওপর নির্ভর করে নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচনে নিরাপত্তা প্রদান ও আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহায়তা করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এজন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। জনগণের অবাধ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে। সবার সহযোগিতায় অন্তর্বর্তী সরকার অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে পারবে বলে আশা করি।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে দলের কার্যকলাপ নেই তারা তো চাইবেই নির্বাচন না হোক। এটা প্রতিহত করার দায়িত্ব জনগণ, রাজনৈতিক দলসহ সবার। কেউ যেন নির্বাচন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। নির্বাচনের জন্য যতটা প্রস্তুতি দরকার ততটা প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাকিটা নির্ভর করে জনগণ ও রাজনৈতিক দলের ওপর।
আপনারা তাহলে একটা জায়গা নির্ধারণ করে দেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা নির্ধারণ করবো কেন? আমরা তো বলেছি। এটার অনুমতি তো আমাদের কাছে চাচ্ছে না। আমাদের কাছে যাওয়ার পরে তো নির্ধারণ করব। তারাও কিন্তু চায় না যে জনদুর্ভোগ হোক। এটা করলে সবচেয়ে ভালো সবাই যদি যার যার জায়গা থেকে… সবারই তো দাবি-দাওয়া থাকতে পারে। প্রতিবাদ করার অধিকার রয়ে গেছে, কিন্তু সেটা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে।
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকের বিষয়ে জানিয়ে তিনি বলেন, রোববার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির মিটিং ছিল। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পুলিশ কর্মক্ষেত্রে যেন নিরপেক্ষ আচরণ করে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বৈঠকে প্রধানত আলোচনা হয়েছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। পুলিশ সংস্কার কমিশন, রাজনৈতিক দলের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম ও মাদক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি ও ফেক নিউজ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এছাড়াও বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতির বৃহত্তর স্বার্থ এবং গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে ক্ষুদ্র ব্যক্তি এবং দলীয় স্বার্থ পরিত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যে ফাটল ধরলে দোসরারা বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ অ্যাক্টিভ হলে বলে বেশি করে ফেলেছে। ক্রিকেট খেলায় দাগ দিয়ে তো বলা সম্ভব হয় না কোনটা ‘ওয়াইড’ হবে। শনিবার (৩০ আগস্ট) আগুন ধরার পর পুলিশ বাধা দিয়েছে। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে আগুন ধরার আগেই অ্যাকশনে যাওয়া। শনিবার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রামেও একটি ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলো যেন আস্তে আস্তে কমে যায়, সেজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও এর আশপাশে সড়কে ১২৩টি সংগঠন এক হাজার ৬০৪টি অবরোধ করেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও এর আশপাশে রাস্তায় এক হাজার ৬০৪টি অবরোধ হয়েছে। এটি করেছে ১২৩টি সংগঠন। আপনাদের মাধ্যমে অনুরোধ- এগুলো তারা যেন রাস্তায় না করে, এতে রাস্তায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। যানজটের একটা বড় কারণ হলো… একটা রাস্তার যদি কোনো একটা কোণা ব্লক হয়ে যায়, ঢাকা শহর কিন্তু অ্যাফেক্টেড হয়ে যায়। আমি সবার কাছে একটা অনুরোধ করবো, এটা যদি একটা সুনির্দিষ্ট জায়গায় করা হয়, যেখানে মাঠ রয়েছে, কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রয়েছে- এসব জায়গায় যদি করা হয়, তবে জনদুর্ভোগটা কম হবে।