হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
ভোটের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ভোরে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটের দিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে প্রস্তুতি নেবেন। ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়ে ভোট দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা দরকার, জনগণের সরকারই কেবল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। অনেকেই বলে, ফজরের নামাজ পড়ে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হবে। আমি বলব এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামায়াতে ফজরের নামাজ পড়ে তারপর ৭টায় গিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে। মনে রাখতে হবে— এবারের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রায় ১৬ বছরে দেশের সবকিছু ছারখার হয়ে গিয়েছে। আমরা দেখেছি আমাদের রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখেছি কীভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ থেকে জনগণের অর্থ সম্পদ পাচার করে দেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতিকে যদি বন্ধ করতে হয়, তাহলে জনগণকে সজাগ হতে হবে। এই দুর্নীতিকে যদি কন্ট্রোল করতে হয়, এই দুর্নীতিকে যদি দমন করতে হয়, এই দুর্নীতি থেকে যদি দেশকে রক্ষা করতে হয়, তাহলে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারছি, আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারছি- একটা রাজনৈতিক দল সবগুলো পোস্টাল ব্যালট দখলের চেষ্টা করছে। খবর পেয়েছেন আপনারা? সজাগ থাকতে হবে। যেভাবে আগে ভোট চুরি হয়েছে, ডাকাতি হয়েছে, এখন এরা ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করছে। আপনার ভোট আপনার পরিচিত মানুষের ভোট কিন্তু দখলের চেষ্টা করছে। জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। শুধু সজাগ না, সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান প্রশ্ন রেখে বলেন, এ দেশটা কার? এই দেশ জনগণের। কারো ব্যক্তি সম্পত্তি নয়। এই সমাবেশে আমার সামনে যে হাজার হাজার মানুষ বসে আছেন, আপনারাই এ দেশের মালিক। কাজেই আপনাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে— আপনারা কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে চান এবং ভোটের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত আপনাদেরকে দিতে হবে।
একটি দলের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, মা-বোনদের মোবাইল নম্বর নিচ্ছে অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তারা নাকি সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে? বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, ফোন নম্বর নিচ্ছে, টাকা পাঠাচ্ছে, অনেকে ধরাও পড়েছে। নির্বাচনের আগে যারা মানুষকে অর্থ প্রদান করে, আগেই যারা অসৎ কাজ করে, কোনোভাবেই তাদের পক্ষে সৎ কাজ করা সম্ভব নয়। এ দেশে একমাত্র শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া দেখিয়েছেন কীভাবে দুর্নীতি দমন করতে হয়।’
তিনি বলেন, সেজন্যই বললাম, যারা এখনই মানুষকে বিকাশে টাকা পাঠায়, ভোট কিনতে চায়, নির্বাচনের আগেই যারা অসৎ কাজ করে, তারা কীভাবে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে? যদি সৎ মানুষের শাসন কায়েম করতে হয়, তাহলে একমাত্র আল্লাহর রহমতে বিএনপির পক্ষেই করা সম্ভব। এই দেশে একমাত্র ধানের শীষ বা বিএনপিই মানুষের কথা চিন্তা করে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি। দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ। যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস। সে জন্যই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।
সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এরই ভেতরে কিন্তু ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু, একটি রাজনৈতিক দল সবগুলো পোস্টাল ব্যালট দখলের চেষ্টা করছে। সজাগ থাকতে হবে। আগে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখন তারা ভোট দখলের চেষ্টা করছে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করছে। শুধু সজাগ না, সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘একই সাথে একটি রাজনৈতিক দল অনেক সময় বলছে অমুককে দেখেছেন, তমুককে দেখেছেন, এবার আমাদের দেখেন। ৭১ সালে লাখো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেদিন ওই রাজনৈতিক দল কাদের পক্ষ নিয়েছিল? যারা এই দেশকে স্বাধীন হতে দিতে চায়নি। এ কারণে এ দেশের বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছে, বহু নারী ইজ্জত হারিয়েছেন। নতুন করে তাদের দেখার কিছু নেই। একমাত্র রাস্তা হলো জনগণের শাসন কায়েম করা, যারা এই দেশের মানুষের কাছে জবাব দিতে বাধ্য থাকবে।’
জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হচ্ছে দেশ গড়ার নির্বাচন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্বাচন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের নির্বাচন, জনগণের শাসন কায়েম করার নির্বাচন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হচ্ছে সৎ মানুষকে নির্বাচিত করার নির্বাচন, রাসুলে করীম (সা.) এর ন্যায় পরাণতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করার নির্বাচন। আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একটি হবে- করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কোথাও গিয়েছে? খালেদা জিয়া এই দেশের মানুষকে ছেড়ে কোথাও যায়নি। মৃত্যুকে মেনে নিয়েছে, যুদ্ধ করেছে, প্রতিবাদ করেছে; কিন্তু এই দেশের মানুষকে ছেড়ে খালেদা জিয়া কোনোদিন যায়নি, কোথাও কোনো দেশে যায়নি। খালেদা জিয়া নিজেই বলে গিয়েছেন যে, এই দেশই হচ্ছে খালেদা জিয়ার প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। কাজেই বিএনপিও সেই জন্যই বলে থাকে, ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ আমার’।
তারেক বলেন, এই দেশে একমাত্র শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়া প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কীভাবে দুর্নীতিকে দমন করতে হয়। এটা আমাদের কথা না এটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কথা, যারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দুর্নীতি কত বেশি হচ্ছে না কম হচ্ছে- এটি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। সেই আন্তর্জাতিক সংস্থা দেখিয়েছে যে ’৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল, ওই যে যারা পালিয়ে গেছে ৫ অগাস্ট; ওরা যখন তখন ক্ষমতায় ছিল- দুর্নীতি কীভাবে দেশকে গ্রাস করেছিল।
বিএনপি দেশের প্রত্যেক মানুষকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চা-বাগানের নারী শ্রমিক, গ্রামগঞ্জের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি কিভাবে একের পর এক প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। এই তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কিভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার সিফা। এ সময় হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীদের তিনি পরিচয় করিয়ে দেন। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম ইসলাম তরফদার তনু। বক্তব্য রাখেন বিএনপি প্রার্থী ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, ড. রেজা কিবরিয়া, জি কে গউছ, এস এম ফয়সল ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আহমদ আলী মুকিম।
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 




















