Dhaka মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় ২ পাচারকারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

১৪ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮)। গুরুদাস বারইকে রাজৈর থানাধীন দক্ষিণ খালিয়া গ্রাম থেকে এবং মো. মোতালেব মাতব্বরকে দামেরচর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মো. মোতালেব মাতব্বরের বিরুদ্ধে আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। যা তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তাররা আসামিরা আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং এজাহারনামীয় মূল পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ ও লোক সংগ্রহের কাজ করতেন। বিদেশে পাচারের পুরো প্রক্রিয়ায় তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তদন্তে আরও উঠে আসে, মানব পাচার চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়।

পরে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়া পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙ্গি নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে যায়। এতে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) এবং ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।

নৌকাডুবির পর নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ গ্যাবেস ইউনিভার্সিটি হসপিটাল ও অপর চারজনের মরদেহ জেরবা জেনারেল হসপিটালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহগুলো দেশে আনা হয় এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার পর নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনিল বৈরাগী বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের বিমানবন্দর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বিমানবন্দর থানার মামলা নম্বর–১০, তারিখ–১৯/০৪/২৪। এতে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭/৮ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়।

মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তার, অপরাধলব্ধ অর্থ কোন কোন হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে তা নিরূপণ এবং পুরো মানব পাচার চক্রের নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের কথা বলা হবে : সালাহউদ্দিন আহমদ

ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় ২ পাচারকারী গ্রেফতার

প্রকাশের সময় : ০৩:২৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

১৪ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮)। গুরুদাস বারইকে রাজৈর থানাধীন দক্ষিণ খালিয়া গ্রাম থেকে এবং মো. মোতালেব মাতব্বরকে দামেরচর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মো. মোতালেব মাতব্বরের বিরুদ্ধে আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। যা তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তাররা আসামিরা আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং এজাহারনামীয় মূল পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ ও লোক সংগ্রহের কাজ করতেন। বিদেশে পাচারের পুরো প্রক্রিয়ায় তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তদন্তে আরও উঠে আসে, মানব পাচার চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়।

পরে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়া পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙ্গি নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে যায়। এতে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) এবং ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।

নৌকাডুবির পর নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ গ্যাবেস ইউনিভার্সিটি হসপিটাল ও অপর চারজনের মরদেহ জেরবা জেনারেল হসপিটালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহগুলো দেশে আনা হয় এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার পর নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনিল বৈরাগী বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের বিমানবন্দর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বিমানবন্দর থানার মামলা নম্বর–১০, তারিখ–১৯/০৪/২৪। এতে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭/৮ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়।

মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তার, অপরাধলব্ধ অর্থ কোন কোন হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে তা নিরূপণ এবং পুরো মানব পাচার চক্রের নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।