বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :
ভালো কাজের প্রলোভনে ভারতে পাচারের শিকার ২৮ বাংলাদেশি শিশুকে ট্রাভেল পারমিটে বেনাপোলে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ।
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথে তাঁরা ভারতে গিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হয়েছিল। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ওই শিশুদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বাড়ি বাড়ি রংপুর, ঠাকুরগাঁও, খুলনা, যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামে। আইনি সহায়তা দিতে রাইটস যশোর, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, মহিলা আইনজীবী সমিতি নামের তিনটি এনজিও তাদের গ্রহণ করেছে।
জানা যায়, ওই শিশুরা বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে আটকের পর ভারতের পশ্চিম বঙ্গের একটি হোমের আশ্রয়ে ছিল। এদের বয়স ৮ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। আটকের পর আইনি জটিলতায় কেউ কেউ দুই থেকে আট বছর পর্যন্ত ভারতের হোমে থাকতে হয়েছিল। পরে ভারত-বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে এরা দেশে ফেরার সুযোগ পায়।
ফেরত আশা শিশুরা বলে, কাজের প্রলোভনে কেউ একা আবার কেউ বাবা, মায়ের সঙ্গে ভারতে যায়। কিন্তু কাজ না দিয়ে দালালেরা বিক্রি করে দেয় অন্যদের হাতে। অবৈধ ভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে পুলিশ তাদের আটক করেছিল।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি এসএম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভালো কাজের আশায় দালালদের মাধ্যমে শিশুদের বাবা অথবা মা ভারতে যান। বাবা-মার সঙ্গে তারাও ভারতের পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলহাজতে যায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে অভিভাবকদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হলে শিশুদের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হোমে রাখা হয়। তিন থেকে সাত বছর পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফিরে আসে। শিশুদের রাইটস যশোর ১০ জন, মহিলা আইনজীবী সমিতি ৮ জন ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে।
রাইটস যশোর এনজিও’র কো-অর্ডিনেটর তৌফিকুর রহমান জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় অভিভাবকদের সাজা হলে ভারতীয় একটি মানবাধিকার সংস্থা শিশুদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। ফেরত আসা ২৮ শিশুকে যশোরে শেল্টার হোমে রাখা হবে। এরপর অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের হস্তান্তর করা হবে।
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি 























