আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এক নতুন সূর্যোদয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কাতারভিত্তিক আল জাজিরা, মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি, বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং ভারতীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য হিন্দুসহ বিশ্বের প্রধান প্রধান সংবাদসংস্থাগুলো সারাদিনব্যাপী এই ভোটের খবর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সরাসরি সম্প্রচার করেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ‘শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথম নির্বাচনে ভোটারের দীর্ঘ সারি’ দেখা গেছে। তারা এই নির্বাচনকে ‘যুগান্তকারী’ আখ্যা দিয়ে বিগত বছরের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, তরুণ ভোটাররা মূলত দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রে ভিড় করছেন।
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ১২ কোটিরও বেশি মানুষের এই ভোটদানকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসন ও ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক গণতন্ত্র গড়ার অনন্য সুযোগ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের বিশ্লেষণে বলেছে, ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। অভ্যুত্থানের সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তার ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিবিসি আরও উল্লেখ করে, দমন-পীড়নের অভিযোগ থাকায় আওয়ামী লীগকে এই নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। ‘তারেক রহমানের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতিশ্রুতি’ শিরোনামে তারা জানিয়েছে, লন্ডনে নির্বাসিত অবস্থা থেকে ফিরে তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং গত দুই দশকের মধ্যে এটিই দেশের প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই ভোট কেবল সরকার গঠন নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের ধারা নিশ্চিত করবে। তারা বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের শক্তিশালী অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেছে।
পাকিস্তানের জিও নিউজ একে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছে।
এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৩২ শতাংশ ভোট পড়েছে এবং বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করা হচ্ছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ভোটগ্রহণের খবরের পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষের খবরও তাদের প্রতিবেদনে স্থান দিয়েছে।
সার্বিকভাবে, বিশ্ব গণমাধ্যমের নজর এখন এই ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





















