নিজস্ব প্রতিবেদক :
এবারের হজ মৌসুমে সৌদি আরব থেকে ফিরতি ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রী পরিবহন করবে বিমান। টিকিটের দাম রাখা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, এবারের হজ মৌসুমে সৌদি আরবে হজযাত্রী রেখে ফিরতি ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রী পরিবহন করবে বিমান। মাত্র ২০ হাজার টাকায় টিকিট কেটে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা যাবে। এতে ১২০ কোটি টাকা বাড়তি আয় হবে বিমানের।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এর বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার পণ্য রফতানি করছে বাংলাদেশ। এই গুরুত্বপূর্ণ বাজার ধরে রাখতে এবং সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ কিনতে ব্যয় হবে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে মোট ৪৭টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে আপাতত ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এর শর্তাবলি ও অন্যান্য বিষয় জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে। নির্বাচিত সরকারকে চাপমুক্ত রাখতেই নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
দায়িত্ব ছাড়ার আগেই সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে সরকারি গাড়ি, বাড়ি কোনো কিছুই নেইনি। ক্ষমতার অপব্যবহারও করেনি। আমার সম্পদের বিবরণী তৈরি হয়েছে। দায়িত্ব ছাড়ার আগেই আমার সম্পদের বিবরণী জমা দিয়ে দেবো। আইন মেনেই বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হয়েছি। আমার আগেও ২২ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি ২৩ তম চেয়ারম্যান। আমিই একমাত্র চেয়ারম্যান না।
বিমানে ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে বিমানের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন।
শুল্কের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে—মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছে উড়োজাহাজ কেনা এবং গম, সয়াবিন তেল ও তুলা আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমাদের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা নেই, ১৯টা প্লেন আমাদের আছে; ইনফ্যাক্ট আমাদের প্লেন আছে ১৪টা, বাকি প্লেনগুলো ফ্লাইঅ্যাবল না। এই ১৪টা প্লেন দিয়ে আমাদের যে নেটওয়ার্ক এবং আমাদের বিমানের যে মাস্টারপ্ল্যান; সেখানে আমরা বলছি ২০৩৫ সাল নাগাদ আমাদের ৪৭টা প্লেনের দরকার।
“আমার ধারণা আরও অনেক বেশি দরকার, বাট উনারা নিদেনপক্ষে ৪৭টা প্লেনের কথা বলেছেন। আমরা যে চুক্তি বোয়িংয়ের সাথে করতে যাচ্ছি, এটা ২০৩৫ সাল নাগাদ মাত্র ১৪টা প্লেন নিয়ে কথা বলছি।”
বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “এই প্লেন ক্রয় প্রস্তাব বোয়িং এবং এয়ারবাসকে একসাথে বিশ্লেষণ করে টেকনো ইকোনমিক ফিজিবিলিটি করে একটা প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।
“এই প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এটার প্রাইস নেগোসিয়েশন করার জন্য ডক্টর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ (পরিকল্পনা উপদেষ্টা) স্যারকে হেড করে একটা নেগোসিয়েশন টিম করা হয় যেই টিম এই বোয়িংয়ের সাথে নেগোসিয়েট করছেন। এই নেগোসিয়েশন এখনো চলমান আছে।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির চাপে শেষ পর্যন্ত বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
গত ৩০ ডিসেম্বর বোয়িং থেকে ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার সিদ্ধান্ত দেয় বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি সুপরিসর বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ন্যারো বডির বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গ টেনে শেখ বশির বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার মানে ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এই ৮০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ‘তুমি আমার কাছ থেকে যে পরিমাণ রপ্তানি করো, তার থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমার কাছ থেকে কম কিনো। সো এই যে কম তুমি কিনছো, এটা তুমি আমার ওপরে সঠিক করছো না’।
“আপনারা যদি দেখেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের রপ্তানি আয় এক লাখ কোটি টাকার উপরে। আমরা যে বিমান ক্রয়ের প্রস্তাবনা করছি, সেটার মূল্যমান হয়তোবা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা হবে। সেটা আমাদের মূল্য পরিশোধ করতে হবে ১০ বছরে। ১০ বছরে ইনফ্যাক্ট আরও বেশি সময়ে; কারণ এটার পেমেন্ট শিডিউল অনেক লং টার্ম হয়তোবা ২০ বছরে মূল্য পরিশোধ করতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















