স্পোর্টস ডেস্ক :
টুর্নামেন্টের শেষ ভাগে এসে যখন বদলাতে হয় অধিনায়ক, তখন বোঝা যায় যে দলের অনেক কিছুই ঠিকঠাক নেই। পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানেও সেটিরই ইঙ্গিত। সামান্য হলেও কিছু শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিল রংপুরের প্লে-অফ খেলা নিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন হতাশাজনক কিছু হলো না। দাভিদ মালান ও তাওহিদ হৃদয়ের দারুণ শতরানের জুটির পর আগুনে বোলিং উপহার দিলেন নাহিদ রানা। খুব দাপুটে পারফরম্যান্স না হলেও নতুন অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বে স্বস্তির জয় দিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর জিতেছে ১১ রানে। আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৮১ রান করে রংপুর। ৭ উইকেটে ১৭০ রানে থেমে ঢাকা। মালান ৪৯ বলে ৭৮ ও হৃদয় ৪৬ বলে করেন ৬২ রান। এই জয়ে চতুর্থ দল হিসেবে প্লে অফ নিশ্চিত করেছে ফেভারিট রংপুর।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে মালান ও হৃদয় শুরু করেন একটু রয়েসয়ে। প্রথম চার ওভারে আসে ১৯ রান। মালানের রান এক পর্যায়ে ছিল ১৪ বলে ৭। এরপর জ্বলে ওঠেন আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এক নম্বর ব্যাটসম্যান। টানা তিন বলে দুটি ছক্কা একটি চার মারেন বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধাকে। পরের ওভারে সাইফ উদ্দিনকে ছক্কা ও চার মারেন হৃদয়। এই দুই ওভারে ৩১ রান নিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৫০ তোলে রংপুর।
পাওয়ার প্লে শেষে অফ স্পিনার নাসির হোসেনকে আনা হয় আক্রমণে। তাকে দুই ওভারে তুলাধুনা করে মালান ও হৃদয় নেন ৩০ রান।
মালানের ফিফটি হয় ৩৫ বলে। এই আসরে সাত ম্যাচে তার তৃতীয় ফিফটি এটি। দুই ব্যাটসম্যানকে একটু দমিয়ে রাখতে পেরেছিলেন ইমাদ ওয়াসিম। প্রথম দুই ওভারে রান দিয়েছিলেন তিনি ১০। কিন্তু তার তৃতীয় ওভারে টানা দুই বলে ছক্কা মারেন মালান।
অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা জুটি থামে চতুর্দশ ওভারের শেষ বলে। আক্রমণে ফেরা তাসকিন আহমেদের বলে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান মালান।
হৃদয়ের তখনও ফিফটি হয়নি। ২৯ রানে তার ক্যাচ ফেলে দিয়ে ছক্কা বানিয়ে দেন সাইফ উদ্দিন। পরের বলে আবার জীবন পান তিনি সহজ ক্যাচ দিয়েও। এরপর একটু সাবধানতায় এগিয়ে পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ৪০ বলে।
ফিফটির পর ছক্কা মারেন তিনি সাইফ উদ্দিনকে। ইমাদের এক ওভারে দুটি ছক্কা মারেন তিনে নামা কাইল মেয়ার্স।
হৃদয়ের ইনিংস শেষ হয় ছক্কা মারার চেষ্টায়। প্রথম বিপিএল উইকেটের স্বাদ পান মারুফ মৃধা। শেষ তিন ওভারে প্রত্যাশিত রান পায়নি রংপুর। ১৬ বলে ২৪ রান করে মেয়ার্স ফেরেন শেষ ওভারে। দুই বল বাকি থাকতে ক্রিজে নেমে প্রথম বলেই আউট হয়ে যান লিটন। শেষ ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন সাইফ উদ্দিন। তবু ১৮০ পেরিয়ে যায় রংপুর।
ঢাকার পক্ষে সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন, এছাড়াও তাসকিন আহমেদ ও মারুফ মৃধা একটি করে উইকেট নেন।
এই রান তাড়ার চ্যালেঞ্জ জয়ে উসমান খান নামেন যেন তেড়েফুঁড়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা মারেন তিনি মেয়ার্সকে। পরে আরও দুটি চারসহ প্রথম ওভার থেকে আসে ১৭ রান।
আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন আউট হয়ে যান দ্বিতীয় ওভারে। সাইফ হাসান নেমে প্রথম বলেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ফাহিম আশরাফকে ছক্কায় উড়িয়ে দেন এক্সট্রা কাভার দিয়ে।
উসমান পরের দুই ওভারে বাউন্ডারি মারেন আরও তিনটি। তবে অতি ঝুঁকির ব্যাটিংয়ে লম্বা হয়নি তার ইনিংস। ফাহিমের বলে লিটনের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নেন তিনি ১৮ বলে ৩১ রান করে। নাহিদ রানার প্রায় দেড়শ কিলোমিটার গতির আগুনের এক ডেলিভারিতে উড়ে যায় সাইফ হাসানের (৬ বলে ১২) বেলস।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলের সহ-অধিনায়ক বিপিএলের আট ইনিংস মিলিয়ে রান করলেন মোট ৬০। ব্যাটিং গড় ৭.৫০, স্ট্রাইক রেট ৮৩.৩৩।
নাহিদ পরে ফেরান সাব্বির রহমানকে। চার-পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং না পেয়ে সিলেটে আক্ষেপ করেছিলেন তিনি। এবার চারে নেমে একটি ছক্কা মারলেও আউট হয়ে যান ৯ বলে ৮ রান করে।
এরপর শামীম হোসেন (১১ বলে ১০) যখন বিদায় নেন বাজে শটে, ঢাকা সম্ভাবনাও একরকম শেষ হয়ে যায়।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























