Dhaka শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান হলে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখন বাণিজ্যিক রাজধানীর কাজ শুরু হবে। এখানে বিনিয়োগের অনেক বড় ব্যাপার আছে, সেদিকে আমাদের যেতে হবে। পোর্টের কার্যক্রম আরও উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমেই তো বাণিজ্যিক রাজধানী হবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রম আরও উন্নত এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থান। এই সমস্যা সমাধান করতেই বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চট্টগ্রামের জন্য অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, সেগুলো এক কথায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে। একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার দেশের মানুষের আশা ও প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না। এতদিন যারা সুযোগ নিয়ে বাকি জনগণকে বঞ্চিত করেছে সেটা আমরা করতে চাই না। আমরা চাই এমন বাজেট হবে যেখানে জনগণের আগামী দিনের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থনীতির সুফল, উন্নয়নের সুফল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। বাজেট প্রণয়নে সেটা নিশ্চিত করা হবে আমাদের প্রথম দায়িত্ব।

মেগা প্রকল্প ও দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা যে জায়গায় আছে খুবই খারাপ অবস্থা। যেখানে দারিদ্র্য বাড়ছে। ইনডিকেটর, মানদণ্ড যেখানে দেখাচ্ছে দারিদ্র্য বাড়ছে। বিনিয়োগ কমছে। কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। প্রাইভেট সেক্টর মূলধনীর আমদানি কমিয়ে দিয়েছে, ঋণ কম নিচ্ছে। এগুলো সব মিলে অর্থনীতি খুব একটা খারাপ অবস্থায় আছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য যে বিষয়গুলো তা আমাদের প্রোগ্রামে আগে দিয়েছি। সেগুলো আমি নতুন করে বলতে চাই না। আমরা অর্থনীতিকে মুক্ত করতে চাই। অর্থনীতিকে জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে চাই। এই যে ওভার রেগুলেটেড করে কিছু লোক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে সুযোগ নিয়েছে সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেটাই হবে মূল উদ্দেশ্য। ঋণের চাপ তো অনেক বড়। সবচেয়ে বড় হচ্ছে, ঋণ নিয়েছে ভালো প্রজেক্টে বিনিয়োগ না করে লুটপাটের প্রজেক্ট করেছে। এ টাকাগুলো বাইরে চলে গেছে। সুতরাং যে জিনিসটা নেই সেটার দায় এখন পরিশোধ করতে হবে এ সরকারকে। যে জিনিসটা উপস্থিত নেই, যে জিনিসটা ধ্বংস করে ফেলেছে তার দায় বহন করতে হবে বর্তমান সরকারকে। এটা কঠিন একটা ব্যাপার।

পাচার করা অর্থ ফেরত আনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এর জন্য সরকার টু সরকার এবং এগুলোর কিছু প্রফেশনাল কোম্পানি আছে। যাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছি। সবাই একসাথে কাজ করে চেষ্টা করবো যত বেশি ফিরিয়ে আনা যায়।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, যে বিশ্বাস আস্থা জনগণ হারিয়েছে, আস্থার সৃষ্টি করতে হবে এবং এটা পরিচালিত হতে হবে একেবারে স্বচ্ছতার সাথে। এখানে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ নেই। সব কিছু মিলিয়ে আমরা আশা করছি, আগামী দিনের বাংলাদেশের শেয়ারবাজার অর্থাৎ ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাজ এ হোল একটা বড় ধরনের পরিবর্তনের আমাদের পরিকল্পনা আছে। সেটা বাস্তবায়ন হলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের একটা বিপ্লব ঘটবে আমরা আশা করি।

ভবিষ্যতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না বলে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের সরকারের নানা পরিকল্পনার রয়েছে। দেশে আর পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি চলবে না। আগামী বাজেট কোনো গতানুগতিক বাজেট হবে না। অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনের পথে হাঁটবে দেশ। দেশের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।

নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী করার। বিনিয়োগের মাধ্যমেই চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা হবে। এখানে বিনিয়োগের অনেক বড় ব্যাপার আছে, সেদিকে আমাদের যেতে হবে। বন্দরের কার্যক্রম আরও উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে; কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, অনেক পরিকল্পনা আছে। এগুলো এক কথায় বলা যাবে না। তবে দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থান। জনগণ যেভাবে অর্থনীতি সুফল পাবে; সরকার সেই পথেই হাঁটবে। অর্থনীতিকে আমরা মুক্ত করতে চাই।

এসময় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান হলে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:০২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখন বাণিজ্যিক রাজধানীর কাজ শুরু হবে। এখানে বিনিয়োগের অনেক বড় ব্যাপার আছে, সেদিকে আমাদের যেতে হবে। পোর্টের কার্যক্রম আরও উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমেই তো বাণিজ্যিক রাজধানী হবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রম আরও উন্নত এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থান। এই সমস্যা সমাধান করতেই বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চট্টগ্রামের জন্য অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, সেগুলো এক কথায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে। একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার দেশের মানুষের আশা ও প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না। এতদিন যারা সুযোগ নিয়ে বাকি জনগণকে বঞ্চিত করেছে সেটা আমরা করতে চাই না। আমরা চাই এমন বাজেট হবে যেখানে জনগণের আগামী দিনের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থনীতির সুফল, উন্নয়নের সুফল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। বাজেট প্রণয়নে সেটা নিশ্চিত করা হবে আমাদের প্রথম দায়িত্ব।

মেগা প্রকল্প ও দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা যে জায়গায় আছে খুবই খারাপ অবস্থা। যেখানে দারিদ্র্য বাড়ছে। ইনডিকেটর, মানদণ্ড যেখানে দেখাচ্ছে দারিদ্র্য বাড়ছে। বিনিয়োগ কমছে। কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। প্রাইভেট সেক্টর মূলধনীর আমদানি কমিয়ে দিয়েছে, ঋণ কম নিচ্ছে। এগুলো সব মিলে অর্থনীতি খুব একটা খারাপ অবস্থায় আছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য যে বিষয়গুলো তা আমাদের প্রোগ্রামে আগে দিয়েছি। সেগুলো আমি নতুন করে বলতে চাই না। আমরা অর্থনীতিকে মুক্ত করতে চাই। অর্থনীতিকে জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে চাই। এই যে ওভার রেগুলেটেড করে কিছু লোক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে সুযোগ নিয়েছে সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেটাই হবে মূল উদ্দেশ্য। ঋণের চাপ তো অনেক বড়। সবচেয়ে বড় হচ্ছে, ঋণ নিয়েছে ভালো প্রজেক্টে বিনিয়োগ না করে লুটপাটের প্রজেক্ট করেছে। এ টাকাগুলো বাইরে চলে গেছে। সুতরাং যে জিনিসটা নেই সেটার দায় এখন পরিশোধ করতে হবে এ সরকারকে। যে জিনিসটা উপস্থিত নেই, যে জিনিসটা ধ্বংস করে ফেলেছে তার দায় বহন করতে হবে বর্তমান সরকারকে। এটা কঠিন একটা ব্যাপার।

পাচার করা অর্থ ফেরত আনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এর জন্য সরকার টু সরকার এবং এগুলোর কিছু প্রফেশনাল কোম্পানি আছে। যাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছি। সবাই একসাথে কাজ করে চেষ্টা করবো যত বেশি ফিরিয়ে আনা যায়।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, যে বিশ্বাস আস্থা জনগণ হারিয়েছে, আস্থার সৃষ্টি করতে হবে এবং এটা পরিচালিত হতে হবে একেবারে স্বচ্ছতার সাথে। এখানে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ নেই। সব কিছু মিলিয়ে আমরা আশা করছি, আগামী দিনের বাংলাদেশের শেয়ারবাজার অর্থাৎ ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাজ এ হোল একটা বড় ধরনের পরিবর্তনের আমাদের পরিকল্পনা আছে। সেটা বাস্তবায়ন হলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের একটা বিপ্লব ঘটবে আমরা আশা করি।

ভবিষ্যতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না বলে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের সরকারের নানা পরিকল্পনার রয়েছে। দেশে আর পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি চলবে না। আগামী বাজেট কোনো গতানুগতিক বাজেট হবে না। অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনের পথে হাঁটবে দেশ। দেশের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।

নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী করার। বিনিয়োগের মাধ্যমেই চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা হবে। এখানে বিনিয়োগের অনেক বড় ব্যাপার আছে, সেদিকে আমাদের যেতে হবে। বন্দরের কার্যক্রম আরও উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে; কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, অনেক পরিকল্পনা আছে। এগুলো এক কথায় বলা যাবে না। তবে দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থান। জনগণ যেভাবে অর্থনীতি সুফল পাবে; সরকার সেই পথেই হাঁটবে। অর্থনীতিকে আমরা মুক্ত করতে চাই।

এসময় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।