নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসরে ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে এবং ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। যা গত ডিআইটিএফ-২০২৫ এর তুলনায় ডিআইটিএফ-২০২৬ এ বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৪২ শতাংশ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানানো হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসরে ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে এবং ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। ডিআইটিএফ ২০২৬ এ দেশি-বিদেশি ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যতিত মোট ছয়টি দেশের (ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া) মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের আয়োজনে অংশগ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, মেলায় কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্পের অন্তর্ভুক্ত অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, কসমেটিক্স, গৃহসজ্জা, খেলনা, স্টেশনারিজ, হোম ডেকর, ক্রোকারিজ, হস্তশিল্পজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, মেলামাইন, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, রিয়েল এস্টেট শিল্পের পণ্য ও সেবাসহ ফাস্টফুড ও নানাবিধ সেবাসামগ্রী প্রদর্শিত ও বিক্রি হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ডিআইটিএফ-২০২৬ এ অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত মতে তাদের প্রাপ্ত সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশের পরিমাণ ১৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২২৪.২৬ কোটি টাকা। রপ্তানি আদেশ লাভে সক্ষম খাতগুলো হলো বহুমুখী পাট পণ্য, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স, হোম অ্যাপলায়েন্স, কসমেটিক্স, হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, তৈজসপত্র, হোম টেক্সটাইল, নকশী কাঁথা, ফেব্রিক্স ইত্যাদি। যেসব দেশ থেকে রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে সেগুলো হলো আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক।
এছাড়াও স্থানীয়ভাবে আনুমানিক ৩৯৩ (তিনশত তিরানব্বই) কোটি টাকা মূল্যের পণ্য-সামগ্রীর (রেস্তোঁরা সহ) ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ডিআইটিএফ-২০২৫ এর তুলনায় ডিআইটিএফ-২০২৬ এ বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৪২ শতাংশ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রতিবারের ন্যায় এবারও ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬ এর সরেজমিন জরিপের মাধ্যমে সব প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শিত পণ্য-সামগ্রির মধ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নতুন পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য ও অঙ্গসজ্জা/অভ্যন্তরীণ সাজ-সজ্জা, পণ্য প্রদর্শন এবং ক্রেতা ও দর্শক সেবার মান ও ক্রেতার সন্তুষ্টি, বরাদ্দপত্রের শর্তাবলী প্রতিপালন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন, ডিজিটাল কনটেন্ট ও রপ্তানিকারক/পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে অবদান এবং ইনোভেশন ইত্যাদি নির্ণায়ক বিবেচনায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে মনোনীত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ এবং রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সরকারি ট্রেড প্রমোশন সংস্থা (BSCIC,SME Foundation and JDPC), পণ্য ভিত্তিক ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (BPGMEA, BGAPMEA, (BFPIA) and BanglaCraft) এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (World Bank, GIZ, FCDO, BSI) এর সমন্বয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে সেমিনার সিরিজ এর অধীন আটটি সেমিনার মেলার সাইডলাইন ইভেন্ট হিসেবে আয়োজন করা হয়।
দেশীয় লোক সংগীত এবং আধুনিক গানের মেলবন্ধন উপস্থাপন এবং দর্শনার্থীদের বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা করতে ৩০তম মেলায় দেশ বরেণ্য শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন করা হয়।
এবারের বাণিজ্যমেলাকে অধিকতর আকর্ষণীয় করতে অনলাইনে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ এবং মেলার প্রবেশ টিকিট ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত করা হয় কনসেশন রেটে পাঠাও সার্ভিস। এবারের বাণিজ্যমেলায় ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ স্কয়ার নির্মাণ করা হয়।
বিদেশি সম্ভাব্য ক্রেতা এবং স্থানীয় দর্শনার্থীদের বিষয়টি মাথায় রেখে দেশের নেতৃস্থানীয় সাতটি রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরে Export Enclave তৈরি করা হয়। সিনিয়র সিটিজেনদের মেলায় আগমন উপভোগ্য, আনন্দদায়ক, আরামপ্রদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করার জন্য Senior Citizen Corner, মা ও শিশু সেবা কেন্দ্র এবং শিশুদের নির্মল আনন্দ ও বিনোদন প্রদানের জন্য শিশু পার্কের ব্যবস্থা করা হয়। মেলায় একাধিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যম্পেইন পরিচালনা করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি এবং অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার ব্রিগেড মোতায়েন করা হয়। খাদ্য-দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা হয়রানি রোধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাসব্যাপী মেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে।
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য ও অঙ্গসজ্জা/অভ্যন্তরীণ সাজ-সজ্জা, পণ্য প্রদর্শণ এবং ক্রেতা ও দর্শক সেবার মান ও ক্রেতার সন্তুষ্টি, বরাদ্দপত্রের শর্তাবলী প্রতিপালন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন, ডিজিটাল কনটেন্ট ও রপ্তানিকারক/পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে অবদান এবং ইনোভেশন ইত্যাদি নির্ণায়ক বিবেচনায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে মনোনীত করে তাদের সন্মাননা স্মারক তুলে দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















