ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :
প্রত্যেকটি পরিবারের প্রধান নারীদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে বলে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে এই কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। তাই কেউ অধৈর্য হবেন না।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাঁ আলীম মাদরাসা প্রাঙ্গণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই। ১৫ বছর দেশে কোনো আইনি কানুন ছিল না, ১৫ বছর যারা যেটা খুশি করে গেছে। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয়নি। এবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাউকে কোনো টাকা পয়সা দিতে হয়নি। পরিবারের প্রধান সকল নারী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তাই কেউ হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরুন।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের কথা রেখেছি। সরকার গঠনের ২২ দিনের মধ্যে আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ ফ্যামিলি কার্ড আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি। এ কার্ড নারীদের শক্তি হবে। আপনারা কেউ হতাশ হবেন না। এই পরিকল্পনাটা এমন যে, প্রতিটি পরিবারের প্রধান নারী সদস্য এই কার্ড পাবেন। শুধু একটু ধৈর্য ধরেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগের আওতায় সকলেই আসবেন। জেলা প্রশাসকও এই কার্ড পাবেন, আমার স্ত্রীও এই কার্ড পাবেন, সকল নারী এই কার্ডের আওতায় আসবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। কৃষকদের সুবিধার জন্য খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যাতে তারা সহজে সেচ সুবিধা পেতে পারেন। এছাড়া জেলার উন্নয়নে মেডিকেল কলেজ ও বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেকার যুবকরা যাতে বাড়িতে বসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে।
অতীতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর দেশে আইনের শাসন ছিল না, মানুষ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে এবার কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা টাকা-পয়সা ছাড়াই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ঘোষণা দেন, ২০২৭ সাল নাগাদ স্থানীয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দরের কাজ দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে এবং বেকারত্ব দূর করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাংসদ ডা. আব্দুস সালাম, বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম এনডিসি, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন, সদর ইউএনও খায়রুল ইসলাম, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ প্রশাসন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগীরা বক্তব্য দেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি 























