Dhaka মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে : সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ (পোস্টাল ব্যালট) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে রাজনৈতিক দলগুলোকে পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম নিয়ে বিফ্রিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে ১২টা বাজিয়ে দিতো। এই পরিস্থিতিতে আপনারা (সাংবাদিকরা) পাশে আছেন বলেই মানুষ সঠিক তথ্য পাচ্ছে। সাংবাদিকরা না থাকলে আমরা এতদূর আসতে পারতাম না।

সিইসি বলেন, বিশ্বের ১২২ দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সফল হলে বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। এর আগে দেশে এ ধরনের সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ কেউ নেয়নি। অনেক উন্নত দেশও যা পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা যখন এই উদ্যোগ নেই, তখন জানতাম এর মধ্যে বহু ঝামেলা ও চ্যালেঞ্জ আসবে। আমরা একটা অজানা এরিয়ায় ঢুকে পড়েছিলাম। কিন্তু আমাদের শপথ ছিল এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার। ১২২ দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, আইন এবং পোস্টাল সিস্টেমকে এক সুতোয় গাঁথা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাদের টিম নিরলস সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছে।

অপপ্রচার প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই না বুঝে সমালোচনা করেন। আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাদের সঙ্গে আছেন বলেই মানুষ সঠিক তথ্য পাচ্ছে। কোনো নতুন কাজে ভুল-ত্রুটি বা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, কিন্তু এখানে অন্য কোনো মোটিভ কাজ করেনি। সাংবাদিকরা যদি মানুষের কনফিউশনগুলো পরিষ্কার করে দেন, তবে এই প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে।

সিইসি আরও বলেন, বিদেশি কূটনীতিকরা যখন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তারা বলেন যদি বাংলাদেশ এই পোস্টাল ব্যালট সফল করতে পারে, তবে তা বিশ্ব ইতিহাসে স্থান পাবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোও এভাবে সফল হতে পারেনি। প্রথম বছর হিসেবে আমরা এখন পর্যন্ত যা করেছি, তা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে আছে।

শুধু প্রবাসী নয়, যারা কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকায় থাকতে পারেন না বা যারা কারাগারে আছেন- তাদের জন্যও ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগে কেউ এই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেখায়নি। আমরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই কাজ শুরু করেছি।

সিইসি বলেন, ‘আজকে নিশ্চয়ই আপনারা পোস্টাল ব্যালটের টেকনিক্যাল বিষয় জানতে পেরেছেন। একটা জিনিস আপনাদের কাছে আপিল করব, আমাদেরকে উৎসাহিত করতে হবে। আমরা এমন একটা উদ্যোগ নিয়েছি, যেটা এর আগে কেউ চেষ্টা করেনি। কেউ এই ঝুঁকি নেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা যখন ঘোষণা দিলেন, আমরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই রিস্কটা নিয়েছি। বহু ঝামেলা আসবে, বহু চ্যালেঞ্জ আসবে— তারপরও শপথ নিয়েছি, আমরা বাস্তবায়ন করবই।’

তিনি বলেন, যেকোনো নতুন উদ্যোগে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে। ভুল হয়েছে—আমি তা বলব না। অনেক সময় আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা ক্লিয়ার হয়ে গেলে কনফিউশনটাও ক্লিয়ার হয়ে যায়। তখন দেখবেন, নিজে নিজেই বুঝবেন যে এখানে আসলে অন্য কোনো মোটিভ কাজ করেনি। এজন্য সত্যিকার অর্থে কী ঘটনা ঘটেছে, সেটা অনেক সময় না জানার কারণে অনেকের মধ্যে অন্য ধরনের চিন্তাভাবনা আসে।

তিনি বলেন, আমরা পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা একদম প্রথম থেকেই প্রকাশ করে আসছিলাম, যেটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাটাও আমাদের জন্য বড় ধরনের একটা সমস্যা, যা আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম।

তিনি বলেন, অনেকে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসে বলেন— আপনারা যদি এটা করতে পারেন, তাহলে আপনাদের নাম তো ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে লেখা হয়ে যাবে। কারণ অনেক দেশ এটা করতে পারেনি। আমাদের আশপাশের দেশেও কেউ এভাবে সফলভাবে করতে পারেনি। আমরা প্রথম বছরেই মোটামুটিভাবে যেটা করেছি, এখন পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম দেখে খুব একটা খারাপ হয়েছে বলে আমরা মনে করি না।

সিইসি বলেন, জেলখানা থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা, যারা চাকরি করে বা নিজ আসনের বাইরে থাকে—সিস্টেম আছে, কিন্তু কোনোদিন কেউ চেষ্টা করেনি। আমরা এটা করেছি। যাই হোক, ইনশাআল্লাহ আপনারা ধৈর্য ধরে শুনেছেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। শুধু শুনলেই হবে না, আমাদের মেসেজটা একটু বহন করবেন। যদি কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হয়, কেউ যদি কনফিউজড থাকে, তাহলে আপনারা একটু পরিষ্কার করে দেবেন আমাদের পক্ষে।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের সকলে সহযোগিতা করলে আমরা পোস্টাল ব্যালট সফল করতে পারব। সে জন্য আমাদের সহযোগিতা করবেন।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারী নিহত

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে : সিইসি

প্রকাশের সময় : ১০:০৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ (পোস্টাল ব্যালট) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে রাজনৈতিক দলগুলোকে পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম নিয়ে বিফ্রিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে ১২টা বাজিয়ে দিতো। এই পরিস্থিতিতে আপনারা (সাংবাদিকরা) পাশে আছেন বলেই মানুষ সঠিক তথ্য পাচ্ছে। সাংবাদিকরা না থাকলে আমরা এতদূর আসতে পারতাম না।

সিইসি বলেন, বিশ্বের ১২২ দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সফল হলে বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। এর আগে দেশে এ ধরনের সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ কেউ নেয়নি। অনেক উন্নত দেশও যা পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা যখন এই উদ্যোগ নেই, তখন জানতাম এর মধ্যে বহু ঝামেলা ও চ্যালেঞ্জ আসবে। আমরা একটা অজানা এরিয়ায় ঢুকে পড়েছিলাম। কিন্তু আমাদের শপথ ছিল এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার। ১২২ দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, আইন এবং পোস্টাল সিস্টেমকে এক সুতোয় গাঁথা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাদের টিম নিরলস সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছে।

অপপ্রচার প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই না বুঝে সমালোচনা করেন। আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাদের সঙ্গে আছেন বলেই মানুষ সঠিক তথ্য পাচ্ছে। কোনো নতুন কাজে ভুল-ত্রুটি বা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, কিন্তু এখানে অন্য কোনো মোটিভ কাজ করেনি। সাংবাদিকরা যদি মানুষের কনফিউশনগুলো পরিষ্কার করে দেন, তবে এই প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে।

সিইসি আরও বলেন, বিদেশি কূটনীতিকরা যখন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তারা বলেন যদি বাংলাদেশ এই পোস্টাল ব্যালট সফল করতে পারে, তবে তা বিশ্ব ইতিহাসে স্থান পাবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোও এভাবে সফল হতে পারেনি। প্রথম বছর হিসেবে আমরা এখন পর্যন্ত যা করেছি, তা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে আছে।

শুধু প্রবাসী নয়, যারা কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকায় থাকতে পারেন না বা যারা কারাগারে আছেন- তাদের জন্যও ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগে কেউ এই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেখায়নি। আমরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই কাজ শুরু করেছি।

সিইসি বলেন, ‘আজকে নিশ্চয়ই আপনারা পোস্টাল ব্যালটের টেকনিক্যাল বিষয় জানতে পেরেছেন। একটা জিনিস আপনাদের কাছে আপিল করব, আমাদেরকে উৎসাহিত করতে হবে। আমরা এমন একটা উদ্যোগ নিয়েছি, যেটা এর আগে কেউ চেষ্টা করেনি। কেউ এই ঝুঁকি নেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা যখন ঘোষণা দিলেন, আমরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই রিস্কটা নিয়েছি। বহু ঝামেলা আসবে, বহু চ্যালেঞ্জ আসবে— তারপরও শপথ নিয়েছি, আমরা বাস্তবায়ন করবই।’

তিনি বলেন, যেকোনো নতুন উদ্যোগে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে। ভুল হয়েছে—আমি তা বলব না। অনেক সময় আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা ক্লিয়ার হয়ে গেলে কনফিউশনটাও ক্লিয়ার হয়ে যায়। তখন দেখবেন, নিজে নিজেই বুঝবেন যে এখানে আসলে অন্য কোনো মোটিভ কাজ করেনি। এজন্য সত্যিকার অর্থে কী ঘটনা ঘটেছে, সেটা অনেক সময় না জানার কারণে অনেকের মধ্যে অন্য ধরনের চিন্তাভাবনা আসে।

তিনি বলেন, আমরা পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা একদম প্রথম থেকেই প্রকাশ করে আসছিলাম, যেটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাটাও আমাদের জন্য বড় ধরনের একটা সমস্যা, যা আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম।

তিনি বলেন, অনেকে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসে বলেন— আপনারা যদি এটা করতে পারেন, তাহলে আপনাদের নাম তো ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে লেখা হয়ে যাবে। কারণ অনেক দেশ এটা করতে পারেনি। আমাদের আশপাশের দেশেও কেউ এভাবে সফলভাবে করতে পারেনি। আমরা প্রথম বছরেই মোটামুটিভাবে যেটা করেছি, এখন পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম দেখে খুব একটা খারাপ হয়েছে বলে আমরা মনে করি না।

সিইসি বলেন, জেলখানা থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা, যারা চাকরি করে বা নিজ আসনের বাইরে থাকে—সিস্টেম আছে, কিন্তু কোনোদিন কেউ চেষ্টা করেনি। আমরা এটা করেছি। যাই হোক, ইনশাআল্লাহ আপনারা ধৈর্য ধরে শুনেছেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। শুধু শুনলেই হবে না, আমাদের মেসেজটা একটু বহন করবেন। যদি কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হয়, কেউ যদি কনফিউজড থাকে, তাহলে আপনারা একটু পরিষ্কার করে দেবেন আমাদের পক্ষে।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের সকলে সহযোগিতা করলে আমরা পোস্টাল ব্যালট সফল করতে পারব। সে জন্য আমাদের সহযোগিতা করবেন।