Dhaka শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে তালা খোলা ঘরটি আওয়ামী লীগ কার্যালয় নয়, গুদামঘর ছিল : বিএনপি নেতা

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশজুড়ে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ, ঠিক তখনই পঞ্চগড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তালা খোলা-সংক্রান্ত ঘটনাকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জেলা শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকায় তিনি সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে দেখানো স্থানটি চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় নয়, বরং একটি গুদামঘর। ঘটনাস্থলটি চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল না। বরং তিনি সেটিকে একটি গুদামঘর হিসেবেই জানতেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত আছেন বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান। সেখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়, যেখানে তিনি কার্যালয়টি খুলে দেওয়ার জন্য দাউদ প্রধানকে ধন্যবাদ জানান। ভিডিওতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদেরও সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আবু দাউদ প্রধান বলেন, আমি দীর্ঘ সময় চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। ঘটনার দিন সকালে গ্রাম থেকে শহরে আসার পথে বাজারে মানুষের জটলা দেখে আমি সেখানে দাঁড়াই। লোকজনের মুখে শুনি, জনৈক জামায়াত কর্মী একটি গুদামঘরের চাবি দিচ্ছিলেন না। আমি কেবল মধ্যস্থতা করে চাবিটি বাজার বণিক সমিতির সভাপতির কাছে জমা রাখার ব্যবস্থা করি।

তিনি আরও দাবি করেন, আমি জানতাম ওটি একটি গুদামঘর। সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড, চেয়ার কিংবা টেবিল ছিল না। আমার পাশে দাঁড়িয়ে কে কী বক্তব্য দিয়েছেন বা আমাকে কেন ধন্যবাদ জানিয়েছেন, ভিড়ের মধ্যে আমি তা বুঝে উঠতে পারিনি। এখন সেই ভিডিওকে পুঁজি করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কেন একজন দায়িত্বশীল বিএনপি নেতাকে দেখা গেল, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

অন্যদিকে, চাকলাহাট বাজার বণিক সমিতি জানিয়েছে, চাবিটি বর্তমানে তাঁদের হেফাজতে রয়েছে এবং সেটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ নেই।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বলেছিলেন, এই অফিসটি জামায়াতের লোকেরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। আজ আমরা আবু দাউদ প্রধানসহ এলাকায় অনেক মানুষ নিয়ে অফিসটি খুলেছি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা চলছে। এই অফিসটি আপাতত আমরা মুক্তিযোদ্ধা বসবো। আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম আপাতত এই অফিস থেকে হবে না।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ভোট জালিয়াতির অভিযোগ আমিনুল হকের, গেজেট স্থগিতের দাবি

পঞ্চগড়ে তালা খোলা ঘরটি আওয়ামী লীগ কার্যালয় নয়, গুদামঘর ছিল : বিএনপি নেতা

প্রকাশের সময় : ০২:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশজুড়ে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ, ঠিক তখনই পঞ্চগড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তালা খোলা-সংক্রান্ত ঘটনাকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জেলা শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকায় তিনি সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে দেখানো স্থানটি চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় নয়, বরং একটি গুদামঘর। ঘটনাস্থলটি চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল না। বরং তিনি সেটিকে একটি গুদামঘর হিসেবেই জানতেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত আছেন বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান। সেখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়, যেখানে তিনি কার্যালয়টি খুলে দেওয়ার জন্য দাউদ প্রধানকে ধন্যবাদ জানান। ভিডিওতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদেরও সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আবু দাউদ প্রধান বলেন, আমি দীর্ঘ সময় চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। ঘটনার দিন সকালে গ্রাম থেকে শহরে আসার পথে বাজারে মানুষের জটলা দেখে আমি সেখানে দাঁড়াই। লোকজনের মুখে শুনি, জনৈক জামায়াত কর্মী একটি গুদামঘরের চাবি দিচ্ছিলেন না। আমি কেবল মধ্যস্থতা করে চাবিটি বাজার বণিক সমিতির সভাপতির কাছে জমা রাখার ব্যবস্থা করি।

তিনি আরও দাবি করেন, আমি জানতাম ওটি একটি গুদামঘর। সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড, চেয়ার কিংবা টেবিল ছিল না। আমার পাশে দাঁড়িয়ে কে কী বক্তব্য দিয়েছেন বা আমাকে কেন ধন্যবাদ জানিয়েছেন, ভিড়ের মধ্যে আমি তা বুঝে উঠতে পারিনি। এখন সেই ভিডিওকে পুঁজি করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কেন একজন দায়িত্বশীল বিএনপি নেতাকে দেখা গেল, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

অন্যদিকে, চাকলাহাট বাজার বণিক সমিতি জানিয়েছে, চাবিটি বর্তমানে তাঁদের হেফাজতে রয়েছে এবং সেটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ নেই।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বলেছিলেন, এই অফিসটি জামায়াতের লোকেরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। আজ আমরা আবু দাউদ প্রধানসহ এলাকায় অনেক মানুষ নিয়ে অফিসটি খুলেছি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা চলছে। এই অফিসটি আপাতত আমরা মুক্তিযোদ্ধা বসবো। আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম আপাতত এই অফিস থেকে হবে না।