Dhaka সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি : 

নেত্রকোনায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নেত্রকোনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জুরি এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় রুবিনা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) আবুল হাসেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রুবিনা আক্তার জেলার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটী গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে। আর হত্যার শিকার রুক্কু মিয়া জেলার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা গ্রামের রুক্কু মিয়ার সঙ্গে কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামের রুবিনা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় দুই কন্যাসন্তান।

তবে সংসার জীবনের শুরু থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। একপর্যায়ে অভিমান করে রুবিনা আক্তার সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এদিকে রুক্কু মিয়া গাজীপুরে গিয়ে কর্ম শুরু করে সেখানে থাকতে শুরু করেন।

২০২১ সালের ১৪ মে রুক্কু মিয়া ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে আসেন এবং এদিন বিকালে সন্তানদের দেখার জন্য শ্বশুরবাড়ি কৈলাটি গ্রামে যান। সেদিন গভীর রাতে রুবিনা আক্তার কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করে রুক্কু মিয়াকে হত্যা করেন।

পরদিন সকালে রুক্কুর বাড়ির লোকজনকে জানানো হয়- রুক্কু মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছে। খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় পরদিন নিহত রুক্কু মিয়ার ছোট ভাই মো. আসাদ মিয়া বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত একমাত্র আসামি স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) আবুল হাসেম বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উপস্থাপিত আলামত পর্যালোচনা করে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি শক্ত ও ইতিবাচক বার্তা যাবে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নেত্রকোনায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

নেত্রকোনায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০৮:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি : 

নেত্রকোনায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নেত্রকোনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জুরি এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় রুবিনা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) আবুল হাসেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রুবিনা আক্তার জেলার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটী গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে। আর হত্যার শিকার রুক্কু মিয়া জেলার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা গ্রামের রুক্কু মিয়ার সঙ্গে কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামের রুবিনা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় দুই কন্যাসন্তান।

তবে সংসার জীবনের শুরু থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। একপর্যায়ে অভিমান করে রুবিনা আক্তার সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এদিকে রুক্কু মিয়া গাজীপুরে গিয়ে কর্ম শুরু করে সেখানে থাকতে শুরু করেন।

২০২১ সালের ১৪ মে রুক্কু মিয়া ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে আসেন এবং এদিন বিকালে সন্তানদের দেখার জন্য শ্বশুরবাড়ি কৈলাটি গ্রামে যান। সেদিন গভীর রাতে রুবিনা আক্তার কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করে রুক্কু মিয়াকে হত্যা করেন।

পরদিন সকালে রুক্কুর বাড়ির লোকজনকে জানানো হয়- রুক্কু মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছে। খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় পরদিন নিহত রুক্কু মিয়ার ছোট ভাই মো. আসাদ মিয়া বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত একমাত্র আসামি স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) আবুল হাসেম বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উপস্থাপিত আলামত পর্যালোচনা করে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি শক্ত ও ইতিবাচক বার্তা যাবে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছে।