Dhaka মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিশাঙ্কার সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সুপার এইটে শ্রীলংকা

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১১:৪২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৭৬ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক :

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের দৌড়ে বড় ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া। পাল্লেকেলেতে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়ে শ্রীলঙ্কাকে পরের পর্বে তুলে নিলেন পাথুম নিসাঙ্কা। এই হারে জিম্বাবুয়ের পর লঙ্কানদের কাছেও পরাস্ত হয়ে সুপার এইটে ওঠা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অজিদের।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয় ৮ উইকেটে। পাল্লেকেলেতে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ১৮২ রানের লক্ষ্য ১২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় লঙ্কানরা।

জয়ে আসর শুরুর পর টানা দুই হারে ঝুলে রইল অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য। এমনকি গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা ওমানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে তাদের, যদি মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে জিততে পারে কিংবা ম্যাচটি ভেস্তে যায়।

এ জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই থাকছে শ্রীলঙ্কা। ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে অবস্থান জিম্বাবুয়ের। তিনে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আছে আয়ারল্যান্ড। আর তলানিতে থাকা ওমানের সংগ্রহে নেই কোনো পয়েন্ট।

১৮২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ৩ বলে ১ রান করে আউট হন কুশল পেরেরা। এরপরও দলকে চাপে পড়তে দেননি ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস। এই দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ৯৭ রানের বিশাল জুটি। তাতেই জয়ের দিকে এগোতে থাকে লঙ্কানরা। ফিফটি পূরণের পর ৩৮ বলে ৫১ রানে আউট হন মেন্ডিস।

এদিকে আপনতালে খেলতে থাকেন ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা। তাকে সঙ্গ দেন পাভান রত্নায়েক। এই দুই ব্যাটারের অপ্রতিরোধ্য ৭৯ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।

টি-টোয়েন্টি এবারের আসরের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন পাথুম নিশাঙ্কা। ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। মাত্র ৫২ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ১০টি চার ও পাঁচটি ছয়ে সাজানো। এদিকে ১৫ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন রত্নায়েক।

এর আগে কলম্বোতে ম্যাচের শুরুতে টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট করার আমন্ত্রন জানান লঙ্কান দলনেতা দাসুন শানাকা। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রতিপক্ষের বোলারদের রীতিমতো তুলোধূনো করতে থাকেন দুই অজি ওপেনার। ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৭০ রান পায় অস্ট্রেলিয়া।

দুনিথ ভেল্লালাগের করা ইনিংসের নবম ওভারের তৃতয় বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ট্রাভিস হেড। তাতেই থামে ১০৪ রানের জুটি। মাত্র ২৭ বলে ফিফটি পূরণের পর ৫৬ রানে থামেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ২৯ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি সাতটি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মিচেল মার্শও। তার ইনিংস থামে ৫৪ রানে। ২৭ বলে খেলা ইনিংসটি আটটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো।

এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। দ্রতই সাজঘরে ফেরেন ক্যামেরন গ্রিন (৭ বলে ৫) ও টিম ডেভিড (৫ বলে ৬)।

এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে ৩০ রানের জুটি গড়ে চাপ সামলে নেন জশ ইংলিশ। কিন্তু বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি ম্যাক্সওয়েল। মাত্র ১৫ বলে ২২ রান করে আউট হন তিনি। আর ইংলিশের ইনিংস থামে ২২ বলে ২৭ রানে। এছাড়া স্টয়নিস ৪, কনোলি ৩ ও অ্যাডাম জাম্পা ১ রান করেন। আর রানের দেখা পাননি বার্টলেট ও নাথান এলিস। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ১৮১ রানে।

শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে সফল বোলার দুশান হেমন্ত। ৪ ওভারে ৩৭ রানের খরচায় সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন তিনি। দুটি উইকেট পেয়েছেন দুশমন্থ চামিরা। আর একটি করে উইকেট পান তিনজন বোলার।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো যুবকের পা

নিশাঙ্কার সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সুপার এইটে শ্রীলংকা

প্রকাশের সময় : ১১:৪২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক :

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের দৌড়ে বড় ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া। পাল্লেকেলেতে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়ে শ্রীলঙ্কাকে পরের পর্বে তুলে নিলেন পাথুম নিসাঙ্কা। এই হারে জিম্বাবুয়ের পর লঙ্কানদের কাছেও পরাস্ত হয়ে সুপার এইটে ওঠা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অজিদের।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয় ৮ উইকেটে। পাল্লেকেলেতে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ১৮২ রানের লক্ষ্য ১২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় লঙ্কানরা।

জয়ে আসর শুরুর পর টানা দুই হারে ঝুলে রইল অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য। এমনকি গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা ওমানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে তাদের, যদি মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে জিততে পারে কিংবা ম্যাচটি ভেস্তে যায়।

এ জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই থাকছে শ্রীলঙ্কা। ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে অবস্থান জিম্বাবুয়ের। তিনে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আছে আয়ারল্যান্ড। আর তলানিতে থাকা ওমানের সংগ্রহে নেই কোনো পয়েন্ট।

১৮২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ৩ বলে ১ রান করে আউট হন কুশল পেরেরা। এরপরও দলকে চাপে পড়তে দেননি ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস। এই দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ৯৭ রানের বিশাল জুটি। তাতেই জয়ের দিকে এগোতে থাকে লঙ্কানরা। ফিফটি পূরণের পর ৩৮ বলে ৫১ রানে আউট হন মেন্ডিস।

এদিকে আপনতালে খেলতে থাকেন ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা। তাকে সঙ্গ দেন পাভান রত্নায়েক। এই দুই ব্যাটারের অপ্রতিরোধ্য ৭৯ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।

টি-টোয়েন্টি এবারের আসরের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন পাথুম নিশাঙ্কা। ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। মাত্র ৫২ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ১০টি চার ও পাঁচটি ছয়ে সাজানো। এদিকে ১৫ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন রত্নায়েক।

এর আগে কলম্বোতে ম্যাচের শুরুতে টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট করার আমন্ত্রন জানান লঙ্কান দলনেতা দাসুন শানাকা। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রতিপক্ষের বোলারদের রীতিমতো তুলোধূনো করতে থাকেন দুই অজি ওপেনার। ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৭০ রান পায় অস্ট্রেলিয়া।

দুনিথ ভেল্লালাগের করা ইনিংসের নবম ওভারের তৃতয় বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ট্রাভিস হেড। তাতেই থামে ১০৪ রানের জুটি। মাত্র ২৭ বলে ফিফটি পূরণের পর ৫৬ রানে থামেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ২৯ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি সাতটি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মিচেল মার্শও। তার ইনিংস থামে ৫৪ রানে। ২৭ বলে খেলা ইনিংসটি আটটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো।

এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। দ্রতই সাজঘরে ফেরেন ক্যামেরন গ্রিন (৭ বলে ৫) ও টিম ডেভিড (৫ বলে ৬)।

এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে ৩০ রানের জুটি গড়ে চাপ সামলে নেন জশ ইংলিশ। কিন্তু বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি ম্যাক্সওয়েল। মাত্র ১৫ বলে ২২ রান করে আউট হন তিনি। আর ইংলিশের ইনিংস থামে ২২ বলে ২৭ রানে। এছাড়া স্টয়নিস ৪, কনোলি ৩ ও অ্যাডাম জাম্পা ১ রান করেন। আর রানের দেখা পাননি বার্টলেট ও নাথান এলিস। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ১৮১ রানে।

শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে সফল বোলার দুশান হেমন্ত। ৪ ওভারে ৩৭ রানের খরচায় সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন তিনি। দুটি উইকেট পেয়েছেন দুশমন্থ চামিরা। আর একটি করে উইকেট পান তিনজন বোলার।