Dhaka শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৭ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে অন্তত ২০০ জন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন ইইউ নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ড. ইভার্স ইয়াবস।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে এক বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। প্রতিনিধি দলে ছিলেন, মিসিন্তা লাসে, মিস আইরিনি-মারিয়া গুনারি ও ভাসিল ভামচানকা।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে আমরা এখানে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য অত্যন্ত স্বচ্ছ। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নই। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

তিনি আরও বলেন, ইইউর একটি দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক দল গত ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তবে মূল নির্বাচনের সময় অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি নাগাদ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যসহ মোট ২০০ জনের একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবে।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি জানান, একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠান পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কমিশন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঐতিহাসিক। একটি পূর্ণাঙ্গ সংসদ নির্বাচন হওয়ার মাধ্যমে দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। নির্বাচন কমিশনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইইউ মিশন প্রধান জানান, তাদের পর্যবেক্ষণের মূল কেন্দ্রে থাকবে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া, অবাধ ও সুষ্ঠু ব্যালট পরিচালনা এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা। তারা কেবল ঢাকা নয়, বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পর্যবেক্ষণ চালাবেন।

প্রাক-নির্বাচনী পরিবেশকে আপনি কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেমনটি আমি বলেছি, আমরা সদ্য এখানে এসেছি। বাংলাদেশ একটি সুন্দর দেশ, যেখানে বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময় সমাজ রয়েছে। আমরা শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলও পর্যবেক্ষণ করব, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ কোন বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো—যেমন ভোটার নিবন্ধন, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের আয়োজন এবং পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা। তবে আমাদের কাজ এখনই শুরু হয়েছে। এটি বাংলাদেশে আমার প্রাথমিক সফর, যেখানে আমি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করছি। সে কারণেই আমার প্রথম দিকের সফরগুলোর একটি ছিল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনে।

নির্বাচন কমিশন আপনাদের কী জানিয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, তারা আমাদের পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করেছেন এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আশা করি, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি যথাযথভাবে মোকাবিলা করবে। এ ক্ষেত্রে আমরা একই অবস্থানে রয়েছি। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আমাদের জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্বাচনগুলো ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম চালাচ্ছে, এরপর পূর্ণাঙ্গ সংসদ গঠিত হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে উপস্থিত থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একসঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে। আরও জানাতে চাই, আমাদের একটি প্রাথমিক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার। এটি হবে উদ্বোধনী প্রেস কনফারেন্স, সময় দুপুর ১টা, স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় রাজধানীর রেনেসাঁ হোটেলে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে মিশনের কর্মপরিকল্পনা ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র এবং বৈচিত্র্যময় দেশ। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাক্ষী হতে তারা মুখিয়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কুমিল্লায় বাস–সিএনজি–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাসে আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত ৪

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

প্রকাশের সময় : ০৮:৩১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে অন্তত ২০০ জন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন ইইউ নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ড. ইভার্স ইয়াবস।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে এক বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। প্রতিনিধি দলে ছিলেন, মিসিন্তা লাসে, মিস আইরিনি-মারিয়া গুনারি ও ভাসিল ভামচানকা।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে আমরা এখানে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য অত্যন্ত স্বচ্ছ। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নই। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

তিনি আরও বলেন, ইইউর একটি দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক দল গত ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তবে মূল নির্বাচনের সময় অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি নাগাদ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যসহ মোট ২০০ জনের একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবে।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি জানান, একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠান পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কমিশন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঐতিহাসিক। একটি পূর্ণাঙ্গ সংসদ নির্বাচন হওয়ার মাধ্যমে দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। নির্বাচন কমিশনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইইউ মিশন প্রধান জানান, তাদের পর্যবেক্ষণের মূল কেন্দ্রে থাকবে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া, অবাধ ও সুষ্ঠু ব্যালট পরিচালনা এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা। তারা কেবল ঢাকা নয়, বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পর্যবেক্ষণ চালাবেন।

প্রাক-নির্বাচনী পরিবেশকে আপনি কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেমনটি আমি বলেছি, আমরা সদ্য এখানে এসেছি। বাংলাদেশ একটি সুন্দর দেশ, যেখানে বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময় সমাজ রয়েছে। আমরা শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলও পর্যবেক্ষণ করব, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ কোন বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো—যেমন ভোটার নিবন্ধন, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের আয়োজন এবং পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা। তবে আমাদের কাজ এখনই শুরু হয়েছে। এটি বাংলাদেশে আমার প্রাথমিক সফর, যেখানে আমি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করছি। সে কারণেই আমার প্রথম দিকের সফরগুলোর একটি ছিল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনে।

নির্বাচন কমিশন আপনাদের কী জানিয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, তারা আমাদের পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করেছেন এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আশা করি, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি যথাযথভাবে মোকাবিলা করবে। এ ক্ষেত্রে আমরা একই অবস্থানে রয়েছি। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আমাদের জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্বাচনগুলো ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম চালাচ্ছে, এরপর পূর্ণাঙ্গ সংসদ গঠিত হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে উপস্থিত থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একসঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে। আরও জানাতে চাই, আমাদের একটি প্রাথমিক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার। এটি হবে উদ্বোধনী প্রেস কনফারেন্স, সময় দুপুর ১টা, স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় রাজধানীর রেনেসাঁ হোটেলে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে মিশনের কর্মপরিকল্পনা ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র এবং বৈচিত্র্যময় দেশ। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাক্ষী হতে তারা মুখিয়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।