Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় ছড়ানোদের নজরদারিতে রেখেছে সরকার : প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে যারা এখনও সন্দেহ ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাদের সরকার নজরদারিতে রেখেছে বলে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনের আর ৩৫ দিনের মতো বাকি রয়েছে। যারা শঙ্কা ছড়াচ্ছেন আপনারা তাদের অতীত সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের জন্য যে প্রস্তুতি, তা পুরোদমে চলছে। পুলিশ, আনসার ও কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৭৫ শতাংশ সদস্যের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকিদের প্রশিক্ষণও খুব দ্রুত শেষ হবে। আমরা আশা করছি, ভোটের জন্য সবাই প্রস্তুত থাকবেন। একই সঙ্গে সিসিটিভি এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রশিক্ষণও চলছে। আশা করা হচ্ছে, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এসব শেষ হবে।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্ব একটি অ্যাপ তৈরি করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে ভোট চলাকালীন কোনো সহিংসতা ঘটলে তা দ্রুততার সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে জানা যাবে। এতে প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন বা মুভ করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া, প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে একটি করে মনিটরিং কন্ট্রোল রুম থাকবে এবং ঢাকায়ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকবে।

শফিকুল আলম বলেন, শরীফ ওসমান হাদির জানাজা, তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা এবং সেই উপলক্ষে একটা বড় পলিটিক্যাল জনসমাগম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা— বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় ইভেন্ট কিন্তু হয়নি। আপনি যদি ইন টার্মস অব পিপলস প্রেজেন্স দেখেন, ক্রাউড নাম্বার দেখেন, এত বড় ইভেন্ট বাংলাদেশ হয়নি। যখন সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়া মারা গিয়েছিলেন, তার জানাজা আমরা শুনেছি— অনেক বড় হয়েছে। আমাদের কাছে সেই সংখ্যাটি নাই, কিন্তু এই তিন তিনটা ইভেন্ট পুলিশ সিকিউরিটি ফোর্সেস খুব সুচারুভাবে অর্গানাইজ করেছেন। সেজন্য আমি বলছি, আমাদের কনফিডেন্সটা আরেকটু বেটার।

নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, এটা নিয়ে কিন্তু পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সঙ্গে আমাদের সিকিউরিটি যারা দেখেন, যে এজেন্সিগুলো, তারা কথা বলেছেন। যাদের সিকিউরিটি দরকার তাদের অনেককেই গানম্যান দেওয়া হয়েছে। আপনি পুরো লিস্টটা পুলিশের কাছে পাবেন। পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর কাছে পাবেন। অনেকে এ বিষয়ে বলতেও চান না। সেজন্য আমরা বলছিও না । কিন্তু পলিটিক্যাল পার্টি লিডারদের সিকিউরিটি অবশ্যই আমাদের একটা টপ প্রায়োরিটি, সেটা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। বিশেষ করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এটা নিয়ে খুব কাজ করছে। আর এরপরেও স্থানীয় লেভেল থেকে যদি তারা সিকিউরিটি চান, সেটা অবশ্যই পুলিশ খতিয়ে দেখবে, কতটুক প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। অনলাইনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৩ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতর থেকে ৭ লাখ মানুষ নির্বাচনে সরাসরি ভোট দিতে পারবেন না, কারণ তারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। প্রেস সচিব বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো প্রচারণা চালানো হবে।

তিনি আরো বলেন, ভোটের গাড়ি ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় ক্যারাভানে গাড়ি ১০ থেকে বেড়ে ৩০টি করা হবে। নতুন করে আরও ২০টি গাড়ি যাওয়া শুরু করবে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে। এটা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরা মোট ৩০টি টিভিসি দেখাবে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওরা স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে থাকবে।
প্রেস সচিব বলেন, গণভোটের বিষয়ে যাতে আমাদের ইমামদের উদ্বুদ্ধ করা যায়, তারা যাতে শুক্রবার যে খুতবা পড়েন, সেই সময় বা অন্যান্য সময় যাতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন গণভোটের বিষয়ে, গণভোটের গুরুত্বের বিষয়ে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয়ে। সে জন্য আজকে ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ প্রধান উপদেষ্টার একটা বড় মিটিং ছিল।

শফিকুল আলম বলেন, মিটিংয়ে বলা হয় ধর্ম মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ৫০০ জন আলেমের সঙ্গে তারা এক ধরনের ঘরোয়া বৈঠক করেছেন। তাদের এই গণভোটের বিষয়ে জানিয়েছেন এবং সেখানে তারা খুব ভালো সাড়া পেয়েছেন তাদের কাছ থেকে। এছাড়া ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেগুলো আছে এবং বাংলাদেশে যেসব মক্তব আছে, যেখানে খুবই প্রি-প্রাইমারি লেভেলে পড়ানো হয়। সেই জায়গার ৭৭ হাজার মক্তব আছে, যারা মক্তবে পড়ান—বিশেষ করে ইমামরাই পড়ান, মূলত তাদেরও কীভাবে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেই বিষয়েও আজকে জোর দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মসজিদ আছে ৪ লাখ, ঢাকায় একাই আছে ৪ হাজার মসজিদ। সব মসজিদের ইমামদের কীভাবে উদ্বুদ্ধ করা যায় এবং এছাড়া অন্যান্য ধর্মের যারা জনগোষ্ঠী আছেন, মন্দির-গির্জা উপাসনালয়গুলো যেগুলো আছে, তাদের মাধ্যমে কীভাবে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা যায় গণভোটের বিষয়ে—বিশেষ করে এই জুলাই সনদের বিষয়ে, সেই বিষয়েও আজকের মিটিংয়ে জোর দেওয়া হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যাদের আলোচনা হয়েছে, তাদের মধ্যে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ আহমদুল্লাহ ছিলেন। আজকের মিটিংয়ে শুধু ধর্ম উপদেষ্টা ছিলেন, সচিব ছিলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কর্মকর্তারা ছিলেন। আর ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে হাজার হাজার লিফলেট ছাপানো হচ্ছে। লিফলেটগুলো জনগণকে এই গণভোটের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশে বিতরণ করা হবে।

প্রেস সচিব বলেন, দদআমরা চাচ্ছি যে তারা যাতে গণভোটের বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ করতে পারেন। বাংলাদেশে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যে প্রেজেন্স, তাদের নেটওয়ার্কটা পুরো গ্রামের একদম প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত। তারা এই মেসেজগুলো দিয়ে লিফলেট ছাপাচ্ছেন, তারা ইমামদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের বলছেন। আমরা আশা করছি, দিন যত গড়াবে এটা আরও বেশি উদ্বুদ্ধকরণ হবে, সবাই জানবেন এই বিষয়ে। আমরা সবাইকেই অন্তর্ভুক্ত করছি।

তিনি বলেন, আমরা কনফিডেন্ট যে এই বিষয়ে আমাদের প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রামের বাংলাদেশের একদম প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিটা মানুষই গণভোটের মেসেজটা পাবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটটা কেন ইম্পরট্যান্ট, কেন আমরা এটা দিয়ে জুলাই সনদটা আমরা ইমপ্লিমেন্ট করতে চাচ্ছি , সেই বিষয়টা। এটা তো পুরো, এর মাধ্যমে এই গণভোটের মাধ্যমে ১০০ বছরের বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা থাকবে।

শফিকুল আলম বলেন, আগের যখন ১৯৭৭ সালে গণভোট হয়েছিল তখন লিটারেসি রেট খুবই কম ছিল, ২৭ শতাংশের মতো, এখন লিটারেসি রেট প্রায় ৮০ শতাংশ। সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে যে এখন আপনি একদম হাতিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামেও যদি যান, নিঝুমদ্বীপের একটা গ্রামেও যদি যান, গিয়ে দেখবেন যে বাজারে বসে তিন চার পাঁচ জন ছেলে একই সাথে তারা ইউটিউব দেখছে, টিকটক দেখছে। টিকটক ইউটিউবের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশের সমস্ত জনগণই আসলে তাদের ইনফরমেশনগুলো পাচ্ছে। তো ওইখানে তো মেসেজগুলো যাচ্ছে এবং অনেকে এটা ভালোভাবেই দেখছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় ছড়ানোদের নজরদারিতে রেখেছে সরকার : প্রেস সচিব

প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে যারা এখনও সন্দেহ ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাদের সরকার নজরদারিতে রেখেছে বলে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনের আর ৩৫ দিনের মতো বাকি রয়েছে। যারা শঙ্কা ছড়াচ্ছেন আপনারা তাদের অতীত সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের জন্য যে প্রস্তুতি, তা পুরোদমে চলছে। পুলিশ, আনসার ও কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৭৫ শতাংশ সদস্যের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকিদের প্রশিক্ষণও খুব দ্রুত শেষ হবে। আমরা আশা করছি, ভোটের জন্য সবাই প্রস্তুত থাকবেন। একই সঙ্গে সিসিটিভি এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রশিক্ষণও চলছে। আশা করা হচ্ছে, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এসব শেষ হবে।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্ব একটি অ্যাপ তৈরি করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে ভোট চলাকালীন কোনো সহিংসতা ঘটলে তা দ্রুততার সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে জানা যাবে। এতে প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন বা মুভ করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া, প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে একটি করে মনিটরিং কন্ট্রোল রুম থাকবে এবং ঢাকায়ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকবে।

শফিকুল আলম বলেন, শরীফ ওসমান হাদির জানাজা, তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা এবং সেই উপলক্ষে একটা বড় পলিটিক্যাল জনসমাগম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা— বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় ইভেন্ট কিন্তু হয়নি। আপনি যদি ইন টার্মস অব পিপলস প্রেজেন্স দেখেন, ক্রাউড নাম্বার দেখেন, এত বড় ইভেন্ট বাংলাদেশ হয়নি। যখন সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়া মারা গিয়েছিলেন, তার জানাজা আমরা শুনেছি— অনেক বড় হয়েছে। আমাদের কাছে সেই সংখ্যাটি নাই, কিন্তু এই তিন তিনটা ইভেন্ট পুলিশ সিকিউরিটি ফোর্সেস খুব সুচারুভাবে অর্গানাইজ করেছেন। সেজন্য আমি বলছি, আমাদের কনফিডেন্সটা আরেকটু বেটার।

নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, এটা নিয়ে কিন্তু পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সঙ্গে আমাদের সিকিউরিটি যারা দেখেন, যে এজেন্সিগুলো, তারা কথা বলেছেন। যাদের সিকিউরিটি দরকার তাদের অনেককেই গানম্যান দেওয়া হয়েছে। আপনি পুরো লিস্টটা পুলিশের কাছে পাবেন। পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর কাছে পাবেন। অনেকে এ বিষয়ে বলতেও চান না। সেজন্য আমরা বলছিও না । কিন্তু পলিটিক্যাল পার্টি লিডারদের সিকিউরিটি অবশ্যই আমাদের একটা টপ প্রায়োরিটি, সেটা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। বিশেষ করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এটা নিয়ে খুব কাজ করছে। আর এরপরেও স্থানীয় লেভেল থেকে যদি তারা সিকিউরিটি চান, সেটা অবশ্যই পুলিশ খতিয়ে দেখবে, কতটুক প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। অনলাইনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৩ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতর থেকে ৭ লাখ মানুষ নির্বাচনে সরাসরি ভোট দিতে পারবেন না, কারণ তারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। প্রেস সচিব বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো প্রচারণা চালানো হবে।

তিনি আরো বলেন, ভোটের গাড়ি ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় ক্যারাভানে গাড়ি ১০ থেকে বেড়ে ৩০টি করা হবে। নতুন করে আরও ২০টি গাড়ি যাওয়া শুরু করবে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে। এটা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরা মোট ৩০টি টিভিসি দেখাবে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওরা স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে থাকবে।
প্রেস সচিব বলেন, গণভোটের বিষয়ে যাতে আমাদের ইমামদের উদ্বুদ্ধ করা যায়, তারা যাতে শুক্রবার যে খুতবা পড়েন, সেই সময় বা অন্যান্য সময় যাতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন গণভোটের বিষয়ে, গণভোটের গুরুত্বের বিষয়ে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয়ে। সে জন্য আজকে ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ প্রধান উপদেষ্টার একটা বড় মিটিং ছিল।

শফিকুল আলম বলেন, মিটিংয়ে বলা হয় ধর্ম মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ৫০০ জন আলেমের সঙ্গে তারা এক ধরনের ঘরোয়া বৈঠক করেছেন। তাদের এই গণভোটের বিষয়ে জানিয়েছেন এবং সেখানে তারা খুব ভালো সাড়া পেয়েছেন তাদের কাছ থেকে। এছাড়া ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেগুলো আছে এবং বাংলাদেশে যেসব মক্তব আছে, যেখানে খুবই প্রি-প্রাইমারি লেভেলে পড়ানো হয়। সেই জায়গার ৭৭ হাজার মক্তব আছে, যারা মক্তবে পড়ান—বিশেষ করে ইমামরাই পড়ান, মূলত তাদেরও কীভাবে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেই বিষয়েও আজকে জোর দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মসজিদ আছে ৪ লাখ, ঢাকায় একাই আছে ৪ হাজার মসজিদ। সব মসজিদের ইমামদের কীভাবে উদ্বুদ্ধ করা যায় এবং এছাড়া অন্যান্য ধর্মের যারা জনগোষ্ঠী আছেন, মন্দির-গির্জা উপাসনালয়গুলো যেগুলো আছে, তাদের মাধ্যমে কীভাবে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা যায় গণভোটের বিষয়ে—বিশেষ করে এই জুলাই সনদের বিষয়ে, সেই বিষয়েও আজকের মিটিংয়ে জোর দেওয়া হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যাদের আলোচনা হয়েছে, তাদের মধ্যে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ আহমদুল্লাহ ছিলেন। আজকের মিটিংয়ে শুধু ধর্ম উপদেষ্টা ছিলেন, সচিব ছিলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কর্মকর্তারা ছিলেন। আর ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে হাজার হাজার লিফলেট ছাপানো হচ্ছে। লিফলেটগুলো জনগণকে এই গণভোটের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশে বিতরণ করা হবে।

প্রেস সচিব বলেন, দদআমরা চাচ্ছি যে তারা যাতে গণভোটের বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ করতে পারেন। বাংলাদেশে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যে প্রেজেন্স, তাদের নেটওয়ার্কটা পুরো গ্রামের একদম প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত। তারা এই মেসেজগুলো দিয়ে লিফলেট ছাপাচ্ছেন, তারা ইমামদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের বলছেন। আমরা আশা করছি, দিন যত গড়াবে এটা আরও বেশি উদ্বুদ্ধকরণ হবে, সবাই জানবেন এই বিষয়ে। আমরা সবাইকেই অন্তর্ভুক্ত করছি।

তিনি বলেন, আমরা কনফিডেন্ট যে এই বিষয়ে আমাদের প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রামের বাংলাদেশের একদম প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিটা মানুষই গণভোটের মেসেজটা পাবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটটা কেন ইম্পরট্যান্ট, কেন আমরা এটা দিয়ে জুলাই সনদটা আমরা ইমপ্লিমেন্ট করতে চাচ্ছি , সেই বিষয়টা। এটা তো পুরো, এর মাধ্যমে এই গণভোটের মাধ্যমে ১০০ বছরের বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা থাকবে।

শফিকুল আলম বলেন, আগের যখন ১৯৭৭ সালে গণভোট হয়েছিল তখন লিটারেসি রেট খুবই কম ছিল, ২৭ শতাংশের মতো, এখন লিটারেসি রেট প্রায় ৮০ শতাংশ। সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে যে এখন আপনি একদম হাতিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামেও যদি যান, নিঝুমদ্বীপের একটা গ্রামেও যদি যান, গিয়ে দেখবেন যে বাজারে বসে তিন চার পাঁচ জন ছেলে একই সাথে তারা ইউটিউব দেখছে, টিকটক দেখছে। টিকটক ইউটিউবের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশের সমস্ত জনগণই আসলে তাদের ইনফরমেশনগুলো পাচ্ছে। তো ওইখানে তো মেসেজগুলো যাচ্ছে এবং অনেকে এটা ভালোভাবেই দেখছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।