Dhaka বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই : সেনাপ্রধান

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন এবং পুলিশসহ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী সবাই সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই, আর তা হলো একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।

নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধ ‘মানি ট্রানজেকশন’ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এ ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে নজরদারি অনেক গুণ জোরদার করা হচ্ছে।

ভোটের দিন বিশৃঙ্খলাকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় কিছু দুর্বৃত্ত থাকতে পারে, যারা ব্যালট ছিনতাই, কারচুপি বা ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এই ধরনের অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক আটক অথবা মামলা—আইন অনুযায়ী যা প্রযোজ্য, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সেনাপ্রধান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১ লাখের ওপর সেনাবাহিনীর সদস্য, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য এবং নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ, আনসার (৬ লাখ), র‍্যাব, বিজিবি এবং সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সবাই মিলে কাজ করবে।

তিনি বলেন, জেলায় নির্বাচন করার দায়িত্ব হচ্ছে ডিসি মহোদয়ের। জেলায় ওভারঅল নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব পুলিশ সুপারের। আমরা আপনাদের সহায়তার জন্য মোতায়েন হয়েছি।

সেনাপ্রধান বলেন, আমাদের তিন বাহিনীর সবার এখানে উপস্থিতির কারণ একটাই, দুটো কারণ বেসিক্যালি। প্রথমত হচ্ছে- আপনাদের নিশ্চিত করা যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজন হবে ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেব। দ্বিতীয়ত হচ্ছে- এ ধরনের মতবিনিময় সভা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে আমরা ভোটারদের, দেশ, জাতিকে একটা মেসেজ দিতে চাই এবং আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন করার জন্য সক্ষম। সবাই আগ্রহী, নির্বাচন কমিশন আগ্রহী, সরকার আগ্রহী, আপনার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আগ্রহী, পুলিশ আগ্রহী, সেনাবাহিনী আগ্রহী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী সবাই। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অতীতে এত বিপুল সংখ্যক সামরিক সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন হয়নি। আমার জানা মতে হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা রোবাস্ট পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখবো। যদি পুলিশের স্ট্যাটিক ডিউটির পরে সেনা সদস্য ঘাটতি হয়, আমরা সেটা পূরণ করবো। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন তা করবো। ভোটারদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। ইনশাআল্লাহ আমরা একটা সুন্দর, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি।

ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, আমরা ইনশাআল্লাহ ড্রোন ব্যবহার করব। পুলিশেরও ড্রোন আছে, আমাদেরও ড্রোন আছে। ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ওপর তিনি জোর দেন।

টেকনোলজির ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, এবার টেকনোলজি ব্যবহার করছে, বডি ক্যামেরা কেনা হয়েছে, এবার সুরক্ষা অ্যাপস ইন্ট্রোডিউস করা হয়েছে। থ্যাঙ্কস টু এনটিএমসি তারা এটা করেছে। তো এখন এই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার কাজটা সহজ হয়ে যাবে। পোলিং স্টেশনে কী হচ্ছে ইউ ক্যান সি।

অর্থের লেনদেন এবং ভুয়া তথ্য প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, কিছু মানি ট্রানজেকশন হতে পারে বিকাশের মাধ্যমে, সেটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য অর্থের লেনদেন ইত্যাদি। নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলেছি, তারা এটা নজরদারির মধ্যে আনবে। বিকাশের ট্রানজেকশন এবং এটা একটা সীমিত করে একটা লিমিট করে সেটা অবশ্যই আমাদেরকে সহায়তা করবে এই কাজে।

সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মিডিয়ার ভাইবোনেরা আছেন, তারা খবর সংগ্রহ করতে চান। উনাদেরকে সঠিক তথ্য দিতে হবে এবং এই সমস্ত সেন্টারের মাধ্যমে যদি দেওয়া হয়, এটা বেস্ট। অনুরোধ করব টাইম টু টাইম উনাদেরকে আপ টু ডেট রাখা। কারণ উনাদের মাধ্যমে এই খবরগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে যায়।

সভায় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, দিনে-রাতে বিভিন্ন সময় অপারেশনের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের আটক করা হচ্ছে। সবসময় যেন তারা ভয় ও আশঙ্কার মধ্যে থাকে সেই পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটাই-সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে আমাদের। সে উদ্দেশে সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে হবে। যারা মাঠে মোতায়েন থাকবেন তাদের সবার দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে, কাউকে বসে থাকা যাবে না।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিদর্শনকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা, ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এসময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।

আইএসপিআর আরও জানায়, তিন বাহিনীর প্রধান পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়াও পরিদর্শনকালে তিন বাহিনীর প্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’র আওতায় মোতায়েনরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

গাজীপুর জেলা পরিদর্শনকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই : সেনাপ্রধান

নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই : সেনাপ্রধান

প্রকাশের সময় : ১১:৪২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন এবং পুলিশসহ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী সবাই সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই, আর তা হলো একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।

নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধ ‘মানি ট্রানজেকশন’ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এ ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে নজরদারি অনেক গুণ জোরদার করা হচ্ছে।

ভোটের দিন বিশৃঙ্খলাকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় কিছু দুর্বৃত্ত থাকতে পারে, যারা ব্যালট ছিনতাই, কারচুপি বা ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এই ধরনের অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক আটক অথবা মামলা—আইন অনুযায়ী যা প্রযোজ্য, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সেনাপ্রধান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১ লাখের ওপর সেনাবাহিনীর সদস্য, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য এবং নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ, আনসার (৬ লাখ), র‍্যাব, বিজিবি এবং সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সবাই মিলে কাজ করবে।

তিনি বলেন, জেলায় নির্বাচন করার দায়িত্ব হচ্ছে ডিসি মহোদয়ের। জেলায় ওভারঅল নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব পুলিশ সুপারের। আমরা আপনাদের সহায়তার জন্য মোতায়েন হয়েছি।

সেনাপ্রধান বলেন, আমাদের তিন বাহিনীর সবার এখানে উপস্থিতির কারণ একটাই, দুটো কারণ বেসিক্যালি। প্রথমত হচ্ছে- আপনাদের নিশ্চিত করা যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজন হবে ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেব। দ্বিতীয়ত হচ্ছে- এ ধরনের মতবিনিময় সভা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে আমরা ভোটারদের, দেশ, জাতিকে একটা মেসেজ দিতে চাই এবং আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন করার জন্য সক্ষম। সবাই আগ্রহী, নির্বাচন কমিশন আগ্রহী, সরকার আগ্রহী, আপনার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আগ্রহী, পুলিশ আগ্রহী, সেনাবাহিনী আগ্রহী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী সবাই। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অতীতে এত বিপুল সংখ্যক সামরিক সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন হয়নি। আমার জানা মতে হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা রোবাস্ট পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখবো। যদি পুলিশের স্ট্যাটিক ডিউটির পরে সেনা সদস্য ঘাটতি হয়, আমরা সেটা পূরণ করবো। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন তা করবো। ভোটারদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। ইনশাআল্লাহ আমরা একটা সুন্দর, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি।

ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, আমরা ইনশাআল্লাহ ড্রোন ব্যবহার করব। পুলিশেরও ড্রোন আছে, আমাদেরও ড্রোন আছে। ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ওপর তিনি জোর দেন।

টেকনোলজির ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, এবার টেকনোলজি ব্যবহার করছে, বডি ক্যামেরা কেনা হয়েছে, এবার সুরক্ষা অ্যাপস ইন্ট্রোডিউস করা হয়েছে। থ্যাঙ্কস টু এনটিএমসি তারা এটা করেছে। তো এখন এই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার কাজটা সহজ হয়ে যাবে। পোলিং স্টেশনে কী হচ্ছে ইউ ক্যান সি।

অর্থের লেনদেন এবং ভুয়া তথ্য প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, কিছু মানি ট্রানজেকশন হতে পারে বিকাশের মাধ্যমে, সেটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য অর্থের লেনদেন ইত্যাদি। নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলেছি, তারা এটা নজরদারির মধ্যে আনবে। বিকাশের ট্রানজেকশন এবং এটা একটা সীমিত করে একটা লিমিট করে সেটা অবশ্যই আমাদেরকে সহায়তা করবে এই কাজে।

সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মিডিয়ার ভাইবোনেরা আছেন, তারা খবর সংগ্রহ করতে চান। উনাদেরকে সঠিক তথ্য দিতে হবে এবং এই সমস্ত সেন্টারের মাধ্যমে যদি দেওয়া হয়, এটা বেস্ট। অনুরোধ করব টাইম টু টাইম উনাদেরকে আপ টু ডেট রাখা। কারণ উনাদের মাধ্যমে এই খবরগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে যায়।

সভায় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, দিনে-রাতে বিভিন্ন সময় অপারেশনের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের আটক করা হচ্ছে। সবসময় যেন তারা ভয় ও আশঙ্কার মধ্যে থাকে সেই পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটাই-সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে আমাদের। সে উদ্দেশে সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে হবে। যারা মাঠে মোতায়েন থাকবেন তাদের সবার দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে, কাউকে বসে থাকা যাবে না।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিদর্শনকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা, ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এসময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।

আইএসপিআর আরও জানায়, তিন বাহিনীর প্রধান পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়াও পরিদর্শনকালে তিন বাহিনীর প্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’র আওতায় মোতায়েনরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

গাজীপুর জেলা পরিদর্শনকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।