Dhaka বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক  : 

আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে এবং হুট করে বিদেশিদের আগমন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাময়িকভাবে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের এরকম একটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আপনারা জানেন যে, নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। কাম্য নয়, এমন অনেকে এসে হাজির হয়ে যেতে পারে। এজন্য আমরা ভিসা বন্ধ করছি না; কেউ যদি আসতে চান, ভিসা নিয়ে আসুন। যাদের উদ্দেশ্যে ঠিক থাকবে তাদের আমরা আসতে দেবো, হুট করে কেউ যেন হাজির হয়ে না যায়।

তিনি বলেন, এমন একটি নির্দেশনা আমাদের দেওয়া হয়েছে। আপনারা জানেন, নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। অনেকেই, যারা কাম্য না, তারা এসে হাজির হয়ে যেতে পারে। এজন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আমরা ভিসা বন্ধ করছি না। ভিসা নিয়ে আসুক, যাদের পারপাস ঠিক থাকবে, তাদের আমরা আসতে দেব।

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা দেখুন কী দাঁড়ায়! পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তো আমরা উন্নত করার চেষ্টা করছি। উন্নত করার চেষ্টা করছি বলতে, স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে গত একবছরে, আরও কিছু কিছু কাজ থাকতে পারে। আবার সেগুলো যখন যেটুকু অগ্রগতি হবে আপনারা জানতে পারবেন।

ভারতে বাংলাদেশের মিশনে ভিসা সেবা নির্বাচনের পর চালু হবে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ইলেকশনের পরে চালু হবে কিনা, সেটা পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করবেন। কিন্তু বিষয় সেটা না, ব্যাপারটা হলো একটা পরিস্থিতির কারণে এটা আমরা বন্ধ করেছি। আমাদের তো সিকিউরিটি দেখতে হবে আমাদের মিশনে।

এ সময় তিনি বাহরাইনে একটি বাসায় পোস্টাল ব্যালট গণনার ভাইরাল ভিডিওর বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টি আমি দেখেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে আমি জানি।

তিনি বলেন, প্রথমত আমরা যুদ্ধ করতে যাবো না, দ্বিতীয়ত এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকবে যাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করা বা কর্থবার্তা বলাই সম্ভব না, সেক্ষেত্রে আমরা যাবো না। আমাদের শর্তগুলো পরিষ্কার। এরপর আমরা চিন্তাভাবনা করবো।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে জি-টু-জি (গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট) ভিত্তিতে চুক্তির পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাবের প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা অবশ্যই এমন কিছু করব না, যাতে করে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আমরা এটা ব্যালেন্স বজায় রেখেই করব।

তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনীসমূহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এয়ারফোর্সের কথা ধরুন-আমাদের এয়ারক্রাফটগুলো অনেক পুরোনো, অনেকগুলো সার্ভিসেভল অবস্থায়ও নাই। কাজেই আমাদের মিনিমাম কিছু ক্রয় করতে হবে। কোথা থেকে করা হবে, কোন দেশ থেকে কতটা আনা হবে এগুলো নিয়ে আসলে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়।

সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে ৬০৮ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে গত ৬ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ধরনের প্রকল্প মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের পর প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দেন।

জোট গঠন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেড় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কোনো জোটে ঢুকে নাই। বিভিন্ন গ্রুপিং নিয়ে কিন্তু আলাপ-আলোচনা চলতে থাকবে। আমরা যদি দেখি গ্রুপ সৃষ্টিতে আমাদের স্বার্থ আছে এবং তাতে যুক্ত হলে আমাদের স্বার্থ রক্ষিত হবে তাহলে অবশ্যই যাব, না হলে তো যাবার প্রশ্নই উঠে না।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলবের পর দেশটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণারয়ের কাজ হচ্ছে- মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এ ব্যাপারে আপত্তি করা। বাকিটা গ্রাউন্ডে যারা আছেন তারা কি করছেনৃএই ব্যাপারে একদিনের মধ্যে আমার কাছে তথ্য নেই। নিরাপত্তা উপদেষ্টা এ ব্যাপারে বলতে পারবেন।

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অনেক সময় লাগবে জানিয়ে তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অনেক সময় লাগবে। আমাদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে হবে, যাতে করে আমরা সমস্যার সমাধান করতে পারি। সেটার চেষ্টা চলছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গাজায় যে আমরা ফোর্স পাঠাবো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এখানে একেবারে আলাপ-আলোচনা চলছে এখন। কারণ এখনও কোনও কিছুই ঠিক হয় নাই, কারা থাকবে কারা থাকবে না। পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আমরা যাবো না।

মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, মূল কথা হলো, তিনটি শর্তের কথা বলেছে যে কোনও অবস্থাতেই কিন্তু আমরা এই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে যাবো না। প্রথমত, আমরা ওখানে লড়াই করতে যাবো না। দ্বিতীয়ত, ওখানে এমন কোনও কর্তৃপক্ষ থাকবে যাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করা বা কথাবার্তা বলাই সম্ভব না, সে ক্ষেত্রে তো আমরা যাবো না। কাজে আমাদের শর্তগুলো যেগুলো এগুলো মোটামুটি পরিষ্কার। কিন্তু এরপর আমরা চিন্তাভাবনা করবো। কিন্তু আসলে কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

যেহেতু এখনও বাহিনী তৈরির কাজ শুরু হয়নি, সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে, এই অবস্থায় এটি নিয়ে আলোচনা করা যুক্তিসঙ্গত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ দিকে চলে আসছে, সরকার কিন্তু থাকছে। মানে কিছু ব্যক্তি চলে যাবে, আরও কিছু ব্যক্তি এসে সেই স্থান নেবেন এবং দেশের এনগেজমেন্ট দেশের স্বার্থ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে যায় না। আমরা এমন কিছু করবো না বা করছি না যেটা এই সরকার সরে গেলেই একেবারে পরবর্তী সরকার এসে উল্টেপালটে দিতে হবে। কারণ যে ট্রান্জিশন হবে, আমরা খুবই আশাবাদী সেটা একটা স্মুথ ট্রাঞ্জিশন হবে। ২০২৪ এর আগস্টে যেটা হয়নি, সেটা তো একটা ভায়োলেন্ট পরিবর্তন ছিল। এ ধরনের পরিবর্তন যখন আসে তখন আপনারা প্রত্যাশা করবেন যে আসলেই পলিসির মধ্যে কার্যকলাপের মধ্যে অনেক বেশি পরিবর্তন আসবে। যে পরিবর্তনটা এসেছে আপনারা খেয়াল করেছেন অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু আমরা মনে করি, আমরা যে কাজগুলি করছি, সেটা আমরা গুছিয়ে রাখছি– যতটুকু সম্ভব, অবশ্যই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ডেপ্লয়মেন্টের সিদ্ধান্ত সেটা পরবর্ত সরকারই নেবে, আমরা মনে করি না যে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ের সমাধান হয়ে যাবে, কারণ এটা শুধু আমাদের বিষয় না, সব বিশ্বের একটা বড় সংখ্যক দেশের ইনভলভমেন্ট আছে।

সরকারের শেষ সময়ে এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ঠিক হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ দিকে চলে আসছে। সরকার কিন্তু থাকছে না। কিছু ব্যক্তি চলে যাবেন, আরও কিছু ব্যক্তি এসে সেই স্থান নেবেন। দেশের এনগেজমেন্ট ও স্বার্থ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে যায় না। আমরা এমন কিছু করব না বা করছি না, যেটা এই সরকার সরে গেলে পরবর্তী সরকার এসে উল্টেপাল্টে দিতে হবে।

তিনি বলেন, যে পরিবর্তন হবে সেটা খুব স্মুথ (মসৃণ) হবে। আমরা আশাবাদী ৫ আগস্টের মতো কিছু হবে না। অবশ্যই যদি ডেপ্লয়মেন্টের (আইএসএফ-এ যাওয়া) সিদ্ধান্ত আসে, তবে পরবর্তী সরকার এসে তা নেবে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শেখ হাসিনা-কাদের-কামাল-নিজাম হাজারীসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নির্বাচন ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০৮:০০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

‎নিজস্ব প্রতিবেদক  : 

আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে এবং হুট করে বিদেশিদের আগমন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাময়িকভাবে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের এরকম একটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আপনারা জানেন যে, নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। কাম্য নয়, এমন অনেকে এসে হাজির হয়ে যেতে পারে। এজন্য আমরা ভিসা বন্ধ করছি না; কেউ যদি আসতে চান, ভিসা নিয়ে আসুন। যাদের উদ্দেশ্যে ঠিক থাকবে তাদের আমরা আসতে দেবো, হুট করে কেউ যেন হাজির হয়ে না যায়।

তিনি বলেন, এমন একটি নির্দেশনা আমাদের দেওয়া হয়েছে। আপনারা জানেন, নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। অনেকেই, যারা কাম্য না, তারা এসে হাজির হয়ে যেতে পারে। এজন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আমরা ভিসা বন্ধ করছি না। ভিসা নিয়ে আসুক, যাদের পারপাস ঠিক থাকবে, তাদের আমরা আসতে দেব।

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা দেখুন কী দাঁড়ায়! পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তো আমরা উন্নত করার চেষ্টা করছি। উন্নত করার চেষ্টা করছি বলতে, স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে গত একবছরে, আরও কিছু কিছু কাজ থাকতে পারে। আবার সেগুলো যখন যেটুকু অগ্রগতি হবে আপনারা জানতে পারবেন।

ভারতে বাংলাদেশের মিশনে ভিসা সেবা নির্বাচনের পর চালু হবে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ইলেকশনের পরে চালু হবে কিনা, সেটা পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করবেন। কিন্তু বিষয় সেটা না, ব্যাপারটা হলো একটা পরিস্থিতির কারণে এটা আমরা বন্ধ করেছি। আমাদের তো সিকিউরিটি দেখতে হবে আমাদের মিশনে।

এ সময় তিনি বাহরাইনে একটি বাসায় পোস্টাল ব্যালট গণনার ভাইরাল ভিডিওর বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টি আমি দেখেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে আমি জানি।

তিনি বলেন, প্রথমত আমরা যুদ্ধ করতে যাবো না, দ্বিতীয়ত এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকবে যাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করা বা কর্থবার্তা বলাই সম্ভব না, সেক্ষেত্রে আমরা যাবো না। আমাদের শর্তগুলো পরিষ্কার। এরপর আমরা চিন্তাভাবনা করবো।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে জি-টু-জি (গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট) ভিত্তিতে চুক্তির পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাবের প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা অবশ্যই এমন কিছু করব না, যাতে করে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আমরা এটা ব্যালেন্স বজায় রেখেই করব।

তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনীসমূহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এয়ারফোর্সের কথা ধরুন-আমাদের এয়ারক্রাফটগুলো অনেক পুরোনো, অনেকগুলো সার্ভিসেভল অবস্থায়ও নাই। কাজেই আমাদের মিনিমাম কিছু ক্রয় করতে হবে। কোথা থেকে করা হবে, কোন দেশ থেকে কতটা আনা হবে এগুলো নিয়ে আসলে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়।

সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে ৬০৮ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে গত ৬ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ধরনের প্রকল্প মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের পর প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দেন।

জোট গঠন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেড় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কোনো জোটে ঢুকে নাই। বিভিন্ন গ্রুপিং নিয়ে কিন্তু আলাপ-আলোচনা চলতে থাকবে। আমরা যদি দেখি গ্রুপ সৃষ্টিতে আমাদের স্বার্থ আছে এবং তাতে যুক্ত হলে আমাদের স্বার্থ রক্ষিত হবে তাহলে অবশ্যই যাব, না হলে তো যাবার প্রশ্নই উঠে না।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলবের পর দেশটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণারয়ের কাজ হচ্ছে- মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এ ব্যাপারে আপত্তি করা। বাকিটা গ্রাউন্ডে যারা আছেন তারা কি করছেনৃএই ব্যাপারে একদিনের মধ্যে আমার কাছে তথ্য নেই। নিরাপত্তা উপদেষ্টা এ ব্যাপারে বলতে পারবেন।

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অনেক সময় লাগবে জানিয়ে তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অনেক সময় লাগবে। আমাদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে হবে, যাতে করে আমরা সমস্যার সমাধান করতে পারি। সেটার চেষ্টা চলছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গাজায় যে আমরা ফোর্স পাঠাবো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এখানে একেবারে আলাপ-আলোচনা চলছে এখন। কারণ এখনও কোনও কিছুই ঠিক হয় নাই, কারা থাকবে কারা থাকবে না। পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আমরা যাবো না।

মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, মূল কথা হলো, তিনটি শর্তের কথা বলেছে যে কোনও অবস্থাতেই কিন্তু আমরা এই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে যাবো না। প্রথমত, আমরা ওখানে লড়াই করতে যাবো না। দ্বিতীয়ত, ওখানে এমন কোনও কর্তৃপক্ষ থাকবে যাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করা বা কথাবার্তা বলাই সম্ভব না, সে ক্ষেত্রে তো আমরা যাবো না। কাজে আমাদের শর্তগুলো যেগুলো এগুলো মোটামুটি পরিষ্কার। কিন্তু এরপর আমরা চিন্তাভাবনা করবো। কিন্তু আসলে কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

যেহেতু এখনও বাহিনী তৈরির কাজ শুরু হয়নি, সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে, এই অবস্থায় এটি নিয়ে আলোচনা করা যুক্তিসঙ্গত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ দিকে চলে আসছে, সরকার কিন্তু থাকছে। মানে কিছু ব্যক্তি চলে যাবে, আরও কিছু ব্যক্তি এসে সেই স্থান নেবেন এবং দেশের এনগেজমেন্ট দেশের স্বার্থ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে যায় না। আমরা এমন কিছু করবো না বা করছি না যেটা এই সরকার সরে গেলেই একেবারে পরবর্তী সরকার এসে উল্টেপালটে দিতে হবে। কারণ যে ট্রান্জিশন হবে, আমরা খুবই আশাবাদী সেটা একটা স্মুথ ট্রাঞ্জিশন হবে। ২০২৪ এর আগস্টে যেটা হয়নি, সেটা তো একটা ভায়োলেন্ট পরিবর্তন ছিল। এ ধরনের পরিবর্তন যখন আসে তখন আপনারা প্রত্যাশা করবেন যে আসলেই পলিসির মধ্যে কার্যকলাপের মধ্যে অনেক বেশি পরিবর্তন আসবে। যে পরিবর্তনটা এসেছে আপনারা খেয়াল করেছেন অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু আমরা মনে করি, আমরা যে কাজগুলি করছি, সেটা আমরা গুছিয়ে রাখছি– যতটুকু সম্ভব, অবশ্যই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ডেপ্লয়মেন্টের সিদ্ধান্ত সেটা পরবর্ত সরকারই নেবে, আমরা মনে করি না যে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ের সমাধান হয়ে যাবে, কারণ এটা শুধু আমাদের বিষয় না, সব বিশ্বের একটা বড় সংখ্যক দেশের ইনভলভমেন্ট আছে।

সরকারের শেষ সময়ে এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ঠিক হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ দিকে চলে আসছে। সরকার কিন্তু থাকছে না। কিছু ব্যক্তি চলে যাবেন, আরও কিছু ব্যক্তি এসে সেই স্থান নেবেন। দেশের এনগেজমেন্ট ও স্বার্থ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে যায় না। আমরা এমন কিছু করব না বা করছি না, যেটা এই সরকার সরে গেলে পরবর্তী সরকার এসে উল্টেপাল্টে দিতে হবে।

তিনি বলেন, যে পরিবর্তন হবে সেটা খুব স্মুথ (মসৃণ) হবে। আমরা আশাবাদী ৫ আগস্টের মতো কিছু হবে না। অবশ্যই যদি ডেপ্লয়মেন্টের (আইএসএফ-এ যাওয়া) সিদ্ধান্ত আসে, তবে পরবর্তী সরকার এসে তা নেবে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।