Dhaka মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে : ইইউর পর্যবেক্ষক প্রধান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৮ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক এবং এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার প্রত্যাশা করছে এবং গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশে তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, মিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে তাদের ধারণা।

নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিয়ে ইভার্স ইজাবস বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক বিষয়। নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক করতে সব সম্প্রদায়, সংখ্যালঘু এবং বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন এবং প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও সামগ্রিক প্রত্যাশা ও পরিবেশ আশাব্যঞ্জক।

ইভার্স ইজাবস বলেন, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং তখন এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজ হলো নিরপেক্ষ থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত না হওয়া। নির্বাচন শেষে প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে, যারা ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় নির্বাচনের দিন চলমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। এই স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটকেন্দ্র বন্ধ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার শহর, নগর ও গ্রামে উপস্থিত থাকবেন। সারা দিনজুড়ে তাদের করা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।

স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের এই নিয়োগ মূলত আগের ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের কাজেরই একটি ধারাবাহিকতা, যারা জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তারা নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন প্রশাসনের প্রস্তুতি, নির্বাচনী প্রচারণার কার্যক্রম এবং ভোটার সচেতনতামূলক উদ্যোগ। এ ছাড়া, তারা রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠক করছেন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল মিশনটিকে আরও জোরদার করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশন থেকে স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক, পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও মিশনে যোগ দিচ্ছেন।

পূর্ণ সক্ষমতায় এই মিশনে ২০০ জনেরও বেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন, যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা।

ইভার্স ইজাবস বলেন, দেশজুড়ে আমাদের ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন, যার মাধ্যমে আমরা এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবদান রাখছি। এই বৃহৎ এবং নিবেদিত মিশন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবিচল অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে যেসব বিষয়ে কথা হয়েছে, জানালেন আসিফ নজরুল

নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে : ইইউর পর্যবেক্ষক প্রধান

প্রকাশের সময় : ১২:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক এবং এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার প্রত্যাশা করছে এবং গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশে তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, মিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে তাদের ধারণা।

নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিয়ে ইভার্স ইজাবস বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক বিষয়। নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক করতে সব সম্প্রদায়, সংখ্যালঘু এবং বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন এবং প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও সামগ্রিক প্রত্যাশা ও পরিবেশ আশাব্যঞ্জক।

ইভার্স ইজাবস বলেন, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং তখন এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজ হলো নিরপেক্ষ থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত না হওয়া। নির্বাচন শেষে প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে, যারা ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় নির্বাচনের দিন চলমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। এই স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটকেন্দ্র বন্ধ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার শহর, নগর ও গ্রামে উপস্থিত থাকবেন। সারা দিনজুড়ে তাদের করা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।

স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের এই নিয়োগ মূলত আগের ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের কাজেরই একটি ধারাবাহিকতা, যারা জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তারা নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন প্রশাসনের প্রস্তুতি, নির্বাচনী প্রচারণার কার্যক্রম এবং ভোটার সচেতনতামূলক উদ্যোগ। এ ছাড়া, তারা রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠক করছেন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল মিশনটিকে আরও জোরদার করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশন থেকে স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক, পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও মিশনে যোগ দিচ্ছেন।

পূর্ণ সক্ষমতায় এই মিশনে ২০০ জনেরও বেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন, যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা।

ইভার্স ইজাবস বলেন, দেশজুড়ে আমাদের ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন, যার মাধ্যমে আমরা এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবদান রাখছি। এই বৃহৎ এবং নিবেদিত মিশন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবিচল অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।