Dhaka বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ এমপির মধ্যে ২৭১ জন কোটিপতি : সুজন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৫ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৭১ জনের সম্পদ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সুজনের সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।

সুজন বলছে, কোটিপতি বিজয়ী প্রার্থীর এই হার মোট প্রার্থীর ৯১.২৫ শতাংশ। আর ৫ কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক ১৮৭ জন (৬২.৯৬%)।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০১ জনই (৯৬.১৭%) কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ৫২ জন (৭৬.৪৭%)।

বলা হয়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৫ লাখ টাকার কম সম্পদের মালিক মাত্র ২ জন (০.৬৭%)। সম্পদের ঘর পূরণ না করা ৩ জনসহ এই সংখ্যা ৫ জন (১.৬৮%)।

সুজনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় নবনির্বাচিতদের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে কোটিপতির হার ছিল ৫৫.৬৩%। পক্ষান্তরে স্বল্প সম্পদের মালিকদের (২৫ লক্ষ টাকার কম) নির্বাচিত হওয়ার হার প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় কম। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে স্বল্প সম্পদের মালিকদের হার ছিল ১৮.৭১% (৩৭৯ জন)। সম্পদের ঘর পূরণ না করা ৫৮ জনসহ এই হার ছিল ২১.৫৭% (৪৩৭জন)।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের তুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে এই হার ছিল ৮৯.৯৭%; বর্তমানে যা ৯১.২৫%। পক্ষান্তরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে স্বল্প সম্পদের মালিক ছিলেন ৩.০১%; বর্তমানে যা ০.৬৭%।

সুজন বলছে, স্বল্প সম্পদের অধিকারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ হ্রাস পাচ্ছে, অপরদিকে অধিক সম্পদের মালিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন এখন পোস্ট অফিসের ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা অনুরোধ করেছিলাম, ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকসহ যেসব ক্ষেত্রে অযোগ্যতা আছে, সেগুলোর ব্যাপারে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে যেন গেজেট প্রকাশ করে। আমরা আরও বলেছিলাম, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশন সেটা সার্টিফাই করবে। এটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচন কমিশনই স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার জন্য। এখন তারা যেটা করে, রিটার্নিং অফিসাররা যে ফলাফল দেয়, সেটাই তারা গেজেট আকারে প্রকাশ করে দেয়। তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সেই দায়িত্বটা পালন করে না এবং তারা এখন অনেকটা পোস্ট অফিসের মতো ভূমিকা পালন করে—চিঠি আসলো, স্ট্যাম্প দিয়ে পাঠিয়ে দিলো।

নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ মীমাংসার পর গেজেট প্রকাশ করা উচিত ছিল মন্তব্য করে সুজন সম্পাদক বলেন, যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্ত করে ফলাফল বাতিলও করতে পারে, আবার নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে।

নূর হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে কি না যদি এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে সেই নির্বাচন বাতিল করতে এবং পুনর্র্নিবাচনের নির্দেশ দিতে পারবে। এবার এই প্রশ্নগুলো উঠেছে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। বরং তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করেছে। গেজেট প্রকাশ করার একটি তাৎপর্য হলো, যখন গেজেট প্রকাশ হয়, তখন এটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত হয়ে যায়। তারা হাত মুছে নিয়েছে, তাদের আর করার কিছু নেই।

অভিযোগ মীমাংসার এখনো সুযোগ আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আরপিওর ৯১ (এফ) যদি হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে গেজেট প্রকাশের পরেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। তারা নির্বাচনও বাতিল করতে পারবেন।

আরপিও অনুসারে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে সুজন সম্পাদক বলেন, আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে মনোনয়নপত্রটা সম্পূর্ণ কি না এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। যদি মনোনয়নপত্র সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া উচিত কি না সেটাও প্রশ্ন করার সময় এসেছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হিরো আলম

নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ এমপির মধ্যে ২৭১ জন কোটিপতি : সুজন

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৭১ জনের সম্পদ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সুজনের সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।

সুজন বলছে, কোটিপতি বিজয়ী প্রার্থীর এই হার মোট প্রার্থীর ৯১.২৫ শতাংশ। আর ৫ কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক ১৮৭ জন (৬২.৯৬%)।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০১ জনই (৯৬.১৭%) কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ৫২ জন (৭৬.৪৭%)।

বলা হয়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৫ লাখ টাকার কম সম্পদের মালিক মাত্র ২ জন (০.৬৭%)। সম্পদের ঘর পূরণ না করা ৩ জনসহ এই সংখ্যা ৫ জন (১.৬৮%)।

সুজনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় নবনির্বাচিতদের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে কোটিপতির হার ছিল ৫৫.৬৩%। পক্ষান্তরে স্বল্প সম্পদের মালিকদের (২৫ লক্ষ টাকার কম) নির্বাচিত হওয়ার হার প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় কম। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে স্বল্প সম্পদের মালিকদের হার ছিল ১৮.৭১% (৩৭৯ জন)। সম্পদের ঘর পূরণ না করা ৫৮ জনসহ এই হার ছিল ২১.৫৭% (৪৩৭জন)।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের তুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে এই হার ছিল ৮৯.৯৭%; বর্তমানে যা ৯১.২৫%। পক্ষান্তরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে স্বল্প সম্পদের মালিক ছিলেন ৩.০১%; বর্তমানে যা ০.৬৭%।

সুজন বলছে, স্বল্প সম্পদের অধিকারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ হ্রাস পাচ্ছে, অপরদিকে অধিক সম্পদের মালিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন এখন পোস্ট অফিসের ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা অনুরোধ করেছিলাম, ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকসহ যেসব ক্ষেত্রে অযোগ্যতা আছে, সেগুলোর ব্যাপারে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে যেন গেজেট প্রকাশ করে। আমরা আরও বলেছিলাম, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশন সেটা সার্টিফাই করবে। এটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচন কমিশনই স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার জন্য। এখন তারা যেটা করে, রিটার্নিং অফিসাররা যে ফলাফল দেয়, সেটাই তারা গেজেট আকারে প্রকাশ করে দেয়। তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সেই দায়িত্বটা পালন করে না এবং তারা এখন অনেকটা পোস্ট অফিসের মতো ভূমিকা পালন করে—চিঠি আসলো, স্ট্যাম্প দিয়ে পাঠিয়ে দিলো।

নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ মীমাংসার পর গেজেট প্রকাশ করা উচিত ছিল মন্তব্য করে সুজন সম্পাদক বলেন, যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্ত করে ফলাফল বাতিলও করতে পারে, আবার নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে।

নূর হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে কি না যদি এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে সেই নির্বাচন বাতিল করতে এবং পুনর্র্নিবাচনের নির্দেশ দিতে পারবে। এবার এই প্রশ্নগুলো উঠেছে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। বরং তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করেছে। গেজেট প্রকাশ করার একটি তাৎপর্য হলো, যখন গেজেট প্রকাশ হয়, তখন এটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত হয়ে যায়। তারা হাত মুছে নিয়েছে, তাদের আর করার কিছু নেই।

অভিযোগ মীমাংসার এখনো সুযোগ আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আরপিওর ৯১ (এফ) যদি হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে গেজেট প্রকাশের পরেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। তারা নির্বাচনও বাতিল করতে পারবেন।

আরপিও অনুসারে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে সুজন সম্পাদক বলেন, আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে মনোনয়নপত্রটা সম্পূর্ণ কি না এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। যদি মনোনয়নপত্র সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া উচিত কি না সেটাও প্রশ্ন করার সময় এসেছে।